প্রতারক সাহেদ আওয়ামী লীগের কেউ নন, নেতাদের চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২০, ০৮:০৭ | আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২০, ১৪:৫৩

জিয়াউদ্দিন রাজু

রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ করিমকে নিয়ে তোলপাড় চলছে। রাজনীতির অঙ্গন থেকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আলোচনা সমালোচনার তুঙ্গে রয়েছেন পলাতক সাহেদ করিম। বৈশ্বিক মহামারিকালে যখন মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, সেই ক্রান্তিকালে তার হাসপাতালের প্রতারণা অবাক করেছে সবাইকে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু প্রভাবশালী এমপি-মন্ত্রীর সঙ্গে তার ছবি ভাইরাল হয়ে ঘুরছে। মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে খোদ দলের নেতাকর্মীর মধ্যে।

সাহেদ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য বলে দাবি করে এসেছেন। এই পদের পরিচয় দিয়ে বহু টকশোতে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের মতামত দিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ দায়িত্ব নিয়ে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, সাহেদ আওয়ামী লীগের কেউ নন। আন্তর্জাতিক উপকমিটির তালিকা এখনো দলীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে জমা দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে শাম্মী বলেন, কমিটি এখনো পাসই হয়নি। চলতি বছরের শুরুতে একটি খসড়া কমিটি জমা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নানা ব্যস্ততার কারণে জমা দিতে পারিনি। এরপর তো করোনা শুরু হলো। ফলে যারা উপকমিটির সদস্য পরিচয় দেন তারা মিথ্যা পরিচয়ই দেন। তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, তিনি যদি আমাদের উপকমিটিতে থাকেন তাহলে তার কাছে দলীয় চিঠি থাকার কথা। তিনি বা কেউ যদি এমন চিঠি দেখাতে পারেন আমি নিজেই এর দায়িত্ব নেব।

শাম্মী আহমেদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাহেদ করিমকে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্য বলে প্রচার করা হচ্ছে। এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার। সাহেদ আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে হাজির হতেন। কমিটিতে তার নাম রাখার জন্য আমাকে অনেক অনুরোধ করেছেন। দলের অনেক নেতাকে দিয়ে আমাকে ফোন করিয়েছেন সাহেদ। এক নেতাকে আমি বললাম, শাহেদের নামে অনেক অভিযোগ পাচ্ছি। এদিকে পাহাড় পরিমাণ প্রতারণা ধরা পড়ার পর এরই মধ্যে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ শাহেদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অবশ্য এর আগে থেকেই তার নামে অনেকগুলো প্রতারণার মামলা ছিল। কিন্তু ভুয়া দলীয় পরিচয়ের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি সেই মামলাগুলোকে ফাইলবন্দি করে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। এর উপকরণ হিসেবে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে নিজের ছবিগুলো প্রকাশ করতেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবিগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে প্রচার-প্রচারণা করতেন তিনি নিজেই।

তবে সাহেদ আওয়ামী লীগের দলীয় কেউ নন বলে সাফ জানিয়েছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তিনি প্রতিদিনই সংবাদকে বলেন, তিনি একজন ঠকবাজ-প্রতারক, বিএনপির মাধ্যমে এরা তৈরি। আমরা চাই, এ ধরনের সাহেদের সঠিকভাবে বিচারক করা হোক। দলের নাম ভাঙিয়ে টকশোর বিষয়ে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কীভাবে তিনি টকশোতে গেছেন তা টকশোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এর উত্তর দিতে পারবেন। একজনের পদবি যাচাই না করে আমন্ত্রণ জানায় কেন?

সাহেদের বিরুদ্ধে দলীয় অবস্থান কী, সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরা ঠকবাজ প্রতারক চক্র। এদের সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত। এদের মতো যারা দলীয় নাম ব্যবহার করে দলের দুর্নাম করছেন তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের ভেতরে ও বাইরের শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের শুদ্ধি অভিযান আরো দৃঢ়ভাবে চলবে বলে মত দেন তিনি।

গত সোমবার বিকালে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে অবস্থিত রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। ওই অভিযানে প্রমাণ মেলে, ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা করে নিলেও হাজার হাজার মানুষকে ভুয়া করোনার সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া চিকিৎসার অস্বাভাবিক ফি দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। একসময় মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসা করে গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। প্রতারণা মামলায় জেলও খেটেছিলেন সাহেদ। অন্তত দুই ডজন মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নিজেকে কখনো সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, কখনো গোয়েন্দা সংস্থার ঘনিষ্ঠ, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট বলে পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন।

পিডিএসও/হেলাল