কাদের-ফখরুল ফোনালাপ

প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে তৎপরতা

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:০৪

বদরুল আলম মজুমদার

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদার জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব। এ ছাড়া পরিবার ও দলের পক্ষ থেকেও শুরু হয়েছে তৎপরতা। রাজনৈতিক এবং আইনি— দুই প্রক্রিয়াই চলছে সমানতালে। ফলে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

খালেদা জিয়ার স্বজনদের আবেদনের পর থেকেই মূলত বিভিন্ন মহলে তার মুক্তির বিষয়টি আলোচনায় আসে। এখন এটি আরো জোরালো হলো দুই দলের দুই শীর্ষ নেতার ফোনালাপে। ফোনালাপের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফোন করেছেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য আমরা পাইনি। তবে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, এ বিষয়ে তারা কোনো লিখিত আবেদন পাননি। তারা (বিএনপি) মুখে মুখেই মুক্তির কথা বলছেন। তাছাড়া এটি দুর্নীতির মামলা। রাজনৈতিক মামলা হলে সরকার বিবেচনা করতে পারত।’

বিএনপির পক্ষ থেকে যদি প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয় আপনারা কী পদক্ষেপ নেবেন— এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা রাজনৈতিক নয়। তার বিরুদ্ধে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির মামলা হয়েছে। সে কারণে তার জামিনের বিষয়টি আদালতের, বর্তমান সরকারের নয়।’

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা গতকাল বিকালে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক থেকে বের হয়ে বিএনপি নেতারা প্যারোলের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। তবে খালেদার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, খালেদার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে আমরা আবারও উচ্চ আদালতে যাব। কবে যাবেন এমনটি না জানালেও শিগগিরই আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে বৈঠক থেকে বের হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে সরকার মানবিকভাবে দেখবে বলে আশা করি। প্যারোলে না জামিনে, বিষয়টি পরিষ্কার না করে তিনি বলেন, চেয়ারপারসনের স্বজনরা সরকারের কাছে আবেদন করেছেন, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। তবে খালেদা জিয়াকে নিয়ে কোনো রাজনৈতিক হিসাব না কষে মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জানা গেছে, গত নির্বাচনের পর প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে খালেদা জিয়া নিজেই ‘না’ সূচক জবাব দেওয়ায় সেই সময় তার মুক্তির বিষয়টি আর এগোয়নি। কিন্তু গত মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার ও বোন সেলিমা ইসলাম বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে দেখা করে আসার পর মেডিকেল বোর্ডের কাছে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা চেয়ে আবেদন করেন। তখন বিএনপির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য আসেনি।

পরে বিএনপি নেতারা জানান, স্বাস্থ্যগত কারণেই হয়তো শেষ পর্যন্ত ‘আপসহীন’ অবস্থানে আর থাকতে পারছেন না খালেদা জিয়া। তাই প্যারোল প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম গণমাধ্যমকে সরাসরি বলেছেন, ‘প্যারোলে হলেও আমরা তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করতে চাই। এ ব্যাপারে তিনিও দ্বিমত করবেন না। কারণ, তার শরীর অত্যন্ত খারাপ। এ মুহূর্তে তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।’

দলীয় সূত্রমতে, কেবল স্বজনরা নয়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ক্রমাবনতির পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির নেতারাও চান প্যারোলে হলেও এ মুহূর্তে দলের চেয়ারপারসনকে মুক্ত করা প্রয়োজন। শুরুর দিকে যেসব নেতা প্যারোলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তারাও এখন পক্ষে মত দিচ্ছেন। তারা মনে করছেন, কারাগারে ধুঁকে ধুঁকে মরার চেয়ে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়াটাই খালেদা জিয়ার জন্য শ্রেয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘জীবিত খালেদা জিয়া আমাদের কাছে বেশি প্রয়োজন। সুতরাং স্বজনরা যদি খালেদা জিয়ার প্যারোলের ব্যাপারে আবেদন করেন এবং ম্যাডাম যদি সেটা মেনে নেন, তাহলে আমাদের কিছু বলার থাকবে না।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যাহ বুলু বলেন, ‘প্যারোল চাওয়া না চাওয়া খালেদা জিয়ার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমি কোনো মতামত দিতে পারব না। দলের হয়ে যদি কিছু বলতে হয়, সেটা মহাসচিব বলবেন।’

দলের আরেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, ম্যাডাম এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তাকে বাঁচাতে হলে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। সে কারণেই হয়তো পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলের কথাটা বলা হচ্ছে। আর এমন কিছু হলে দলের পক্ষে দ্বিমত করারও কিছু থাকবে না।

পিডিএসও/তাজ