ওয়ার্ড নং-৫৩ : হলফনামার বিশ্লেষণ

বছরে ৫ লাখ টাকা আয় মোস্তফার!

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৪৮ | আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:০৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

এবারের সিটি নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটির ৫৩ নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করছেন হাজী মোস্তফা জামান। বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক পদে আছেন তিনি। স্থানীয়ভাবে এ প্রার্থী একজন ধনকুবের। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় এই প্রার্থী অধিকাংশ তথ্যই গোপন করেছেন। হলফনামার তথ্যমতে, রাজধানী উত্তরার মতো জায়গায় প্রায় ৪শ ৭৭ শতাংশ জমির মালিক হলেও তার বাৎসরিক আয় মাত্র ৫ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা।

স্থানীয়দের মতে, মাসে প্রায় কোটি টাকা ভাড়া পেলেও আয়কর রির্টানে এসব তথ্য দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে নির্বাচনী খরচ হিসাবে মাত্র দুই লক্ষ টাকার হিসাব দিলেও প্রার্থীর দৈনিক খরচ ৩ লাখের উপরে বলে জানা গেছে। নিজেকে পরহেজগার দাবিকারী এ কাউন্সিলর প্রার্থী মিথ্যা দিয়ে শুরু করেছেন নির্বাচন। তাই গোড়ায় গলদ রেখে জনগণের কল্যাণে কিভাবে কাজ করবেন এই প্রার্থী– তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার প্রতিপক্ষসহ সাধারণ ভোটাররা। 

জানা গেছে, হাজী মোস্তফা ও তার পরিবারের মাসিক আয় প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি, কিন্তু নিজের আয়ের উপর সরকারের নায্য ট্যাক্স না দিয়ে, প্রার্থী এখন কালো টাকার ‘কুমিরে’ পরিণত হয়েছেন বলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীর জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তিনি ১৭৫১ বর্গফুটের ৩টি ও ১৫২৭ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। অথচ তার নিজ মালিকানাধীন উত্তরায় আরো অন্তত তিনটি ৬ তলা বাড়ি থাকলেও হলফনামায় তা দেননি এই প্রার্থী। এছাড়া তার হাতে নগদ টাকা আছে মাত্র ২ লক্ষ টাকা, যা তিনি নির্বাচনী খরচ হিসাবে ব্যবহার করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

কিন্তু প্রার্থীর নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রচারণার শুরু দিন থেকেই মোস্তফার প্রতিদিনের নির্বাচনী খরচ হয় আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা। এ টাকার উৎস কোথা থেকে আসছে তার কোনো সঠিক উত্তর প্রার্থীর কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিপক্ষের প্রার্থীরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে মোস্তফা প্রায় ৫ কোটি টাকা বাজেট নিয়ে নেমেছেন। প্রার্থীর নির্বাচনী খরচ ২ লক্ষ টাকা বলে হিসাব দাখিল করলেও বাকি টাকার উৎসের বিষয়ে কোনই তথ্য দেননি তিনি।  তারা বলছেন, এভাবে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে, মাঠে কালো টাকা ছড়ানোর বিষয়টি সবার নজরে আনা উচিত। এজন্য সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর কাছে সহায়তা চেয়েছেন প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

প্রার্থীর সম্পদের হিসাব বিষয়ে উত্তরা বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা প্রতিবেদককে বলেন, মোস্তফার পারিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ কেউ আন্দাজ করতে পারবে না। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় নামে বেনামে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আছে। আর এসব স্থায়ী সম্পদ থেকে মাসে প্রায় কোটি টাকা ভাড়া আদায় হয়। তাছাড়া উত্তরায় বিভিন্ন জায়গা প্রায় দুই হাজারের মতো কাঁচা ঘরবাড়ি করে ভাড়া দিয়েছেন। কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় বাৎসরিক ৫ লক্ষ টাকা আয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা হাস্যকর!

প্রার্থীর হলফনামায় ৪৫টি মামলার কথা বলা হলেও একটি আলোচিত থ্রি মার্ডার মামলার বিষয়টি গোপন করেছেন প্রার্থী। এ বিষয়ে থানা আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল জানান, ২০০৩ সালে বিএনপির হাজী মোস্তফার নির্দেশনায় ইউনিয়ন পরিষদের রানিং মেম্বার তৈয়ব আলীসহ থ্রি মার্ডার মামলার অন্যতম হুকুমের আসামি তিনি। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন। তবে প্রার্থীর পরিবারের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, এ মামলায় হাজী মোস্তফার নাম কাটানো হয়েছে। তবে মামলার বাদী আমির হোসেন মেম্বার এ বিষয়টি বিচারাধীন বলে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

এদিকে, নির্বাচনী হলফনামার বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাজী মোস্তফার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি। 

পিডিএসও/তাজ