ডিএনসিসি ওয়ার্ড নং-৫৪

বিতর্কিত সোহেল আসলে কার?

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ২০:২৫ | আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৫৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত জোট সরকারের আমলে বিএনপি’র থানা সভাপতির শেল্টারে থেকে নিজের ব্যবস্যা বানিজ্য চালিয়েছিলেন তিনি। ঘুরেছেন যুবদলের পদ পেতেও। কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর গত কয়েক বছর থেকে এখন আওয়ামী লীগ নেতা সাজার চেষ্টা করছেন। হরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে পদ পেতে নানা কলাকৌশল করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন বির্তকিত এ নেতা। সর্বশেষ ইউনিয়ন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে কমিটির তালিকা হাতে লিখে সোহেল শেখকে পদ দিয়ে দেন তারা। অনেকে এটাকে ‘যাদুর কাঠি’র মহা তুঘলকি কাণ্ড বলে প্রচার করছেন। কী এই যাদুর কাঠি এ বিষয়ে কিছু দিন আগে ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগযোগ করলে তিনি ফোনে কোনও কথা বলতে রাজি হননি। 

এ নিয়ে সাবেক নগর উত্তর কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রতিবেদককে বলেছিলেন, এ ধরণের তালিকা তাদের মাধ্যমে প্রকাশ হয়নি। হাতে লেখা বিতর্কিত পদ দিয়েই আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন চান এ প্রার্থী। কিন্তু সব দিক বিবেচনায় তাকে মনোনয়ন দেয়নি দলীয় মনোনয়ন বোর্ড। তাছাড়া থানা কমিটি থেকেও তার নাম প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করা হয়নি। এখন সেই বিতর্কিত আওয়ামী ‘নেতা’ দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি দলীয় নির্দেশনার বিষয়টিতে কর্ণপাতও করছেন না।  

এ বিষয়ে থানা আওয়ামী লীগের এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবেদককে বলেন, দলের মাঝে এসব ‘কাল সাপ’কে ঢুকিয়ে যারা দলের ক্ষতি করছেন তাদের বিষয়ে নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই নজর দিতে হবে। তাছাড়া তিনি বলেন, যারা তাকে নেতা বানিয়েছে তাদের আমরা চিনি, এখন তারা কই। যারা তাকে দলীয় লেভেল দিয়েছেন, এখন তারা কই? সোহেল শেখের দল বিরোধী ভূমিকার বিষয়ে তাদের ভূমিকা দেখতে চায় দল।

আরও পড়ুন : মনের টান

আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী এ নেতা এবার ৫৪ নং ওয়ার্ড থেকে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করছেন। ইতোমধ্যে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিষেধগার করছেন বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শূন্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের এ নেতা ব্যাক্তি জীবনে বেশ বিতর্কিত। নানা ছল-চাতুরির আশ্রয় নেয়া এ প্রার্থী ইতোমধ্যে একাধিকবার বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের শিরোনামও হয়েছেন। ধউর এলাকায় একটি মসজিদের জমি দখল করে বিক্রির অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী। উত্তরা ১২ নং সেক্টর এলাকায় একটি বাড়ি দখলের অভিযোগে বেসরকারি একটি টেলিভিশনের শিরোনাম হয়েছিলেন তিনি। এছাড়া ঢাকা রয়েল ক্লাবে তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে নবগঠিত কমিটি তাকে সেই টাকা ফেরত দিতে আল্টিমেটামও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর বাইরে এ ক্লাবকে ব্যবহার করে গত দুই বছর সভাপতি পদে থেকে তিনি নিজেই নারকোটিস্কের ব্যবসা করেছেন বলে একাধিক সদস্য প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সোহেল শেখের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে অর্থ তছরুপ ছাড়াও মাদকের ব্যবসা থেকে কোটি টাকা আয় করেছেন। শুধু তাই নয়, একটি সামাজিক ক্লাবের বারকে ব্যবহার করে উঠতি ছাত্রদের কাছে ক্লাব থেকে মাদকও বিক্রি করা হতো বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।

তাছাড়া, নির্বাচনের কিছুদিন আগে এলাকার উঠতি প্রায় তিন শতাধিক ছেলেদের নিয়ে নৌ ভ্রমণে যান এই প্রার্থী। কথিত আছে, এই নৗে ভ্রমণে প্রায় শতাধিক বোতল মদও সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই মদ খেয়ে এলাকার প্রায় ৫০ জন ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনাটি সেসময় বেশ আলোচিতও ছিলো। পারিবারিকভাবেও এ প্রার্থীর ইমেজ সঙ্কট রয়েছে। শেখের টেক এলাকায় তাদের পারিবারিক শেল্টারে মাদকের কারবার হতো বলে  অধিকাংশ এলাকাবাসী স্বাক্ষ্য দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানার জন্য গত কয়েকদিন থেকে প্রতিবেদকের নাম্বার থেকে শতাধিক ফোন ও এস এম এস করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। উল্টো তার একজন প্রতিবেশীকে তিনি বলেছেন নিউজ করে তাকে কিছু করা যাবে না।  

পিডিএসও/রি.মা