জাতীয় পার্টির কাউন্সিল

আসতে পারেন নতুন মহাসচিব

প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৫০ | আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৫

বদরুল আলম মজুমদার

আগামী ২৮ ডিসেম্বর সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এরশাদের মৃত্যুর পর এটাই দলের প্রথম কাউন্সিল। বহুল কাঙ্ক্ষিত এই কাউন্সিলে চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই। কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান না। সংসদের বাকি মেয়াদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যেতে চান। তবে চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন না এলেও দলের মহাসচিব পদের পরিবর্তন হচ্ছে বলে অনেকেই মত দিচ্ছেন। তবে সম্মেলনের আগে এখনই এ নিয়ে মুখ খুলতে চান না নেতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির কাউন্সিল অধিবেশনে মহাসচিব পদে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও জিয়াউদ্দিন বাবলু শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তাদের দুজনকে শক্ত প্রার্থী ভাবা হলেও এ পদে আসতে পারেন দলের অপর প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ। রওশনের সঙ্গে জি এম কাদেরের বিরোধের সময় দলের চেয়ারম্যানকে উপযুক্ত সঙ্গ দিয়ে বিশেষ আস্থার জায়গায় আছেন তিনি।

তবে পরবর্তী মেয়াদে মহাসচিব পদে থাকতে চান রাঙ্গাও। অনেকের মতে, অদৃশ্য কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ না থাকলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব হিসেবে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারই মনোনীত হবেন। যদিও সূত্র বলছে, জাতীয় পার্টির সঠিক নেতৃত্ব দলের শীর্ষ নেতারা দিতে পারেন না। নেতাদের হাত-পা বাঁধা। অদৃশ্য শক্তি থেকে দলের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত আসে।

কাউন্সিল দলের শীর্ষ দুই পদের নির্বাচন প্রসঙ্গে দলটির বর্তমান মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। তবে চেয়ারম্যান পদে জি এম কাদের ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী নেই। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম কাদেরই থাকছেন। তিনি আরো বলেন, রওশন এরশাদ দলটির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান হিসেবে থাকছেন। তিনি জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা তো আছেনই। তবে দলের যেকোনো সিদ্ধান্ত বেগম রওশন এরশাদের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া হবে। এমনকি এখনো যেকোনো সিদ্ধান্ত তার সঙ্গে পরামর্শ করেই নেওয়া হয়।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মহাসচিব হতে চাই না। মহাসচিব হওয়ার বিষয়ে কে কী বলছেন, সেটা আমার দেখার বিষয় না। পার্টির চেয়ারম্যান পদ নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি মন্তব্য করতে চাই না। মহাসচিব পদে কে আসছেন—এমন প্রশ্নে জাতীয় পার্টির দুজন প্রভাবশালী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মহাসচিব পদে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এই নতুন মুখ হতে পারেন জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।

তবে সূত্রগুলো বলেছে, ডিসেম্বরে কাউন্সিল নিয়ে যথেষ্ট সংশয় থাকলেও তা কাটিয়ে উঠেছে জাতীয় পার্টি। এসব বিষয় নিয়ে দলের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, জাতীয় পার্টির ৭৬টি জেলা কমিটির মধ্যে ৫৬ জেলার কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। বাকিগুলোতে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চলেছে। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় কাউন্সিল চাচ্ছেন না অনেকেই। তবে দলের একটি অংশ আগামী ২৮ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করতে ইচ্ছুক।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, অনেক জেলায় জাতীয় পার্টির কাউন্সিল হয়েছে ঠিকই, তবে সেসব জায়গায় এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া যায়নি। ঢাকা ও এর আশপাশের অনেক জেলাতেও কমিটি নেই। এর মধ্যে গাজীপুরের অবস্থা খুবই নাজুক। এ জেলায় দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম চলেছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে।

পিডিএসও/হেলাল