যেভাবে পাল্টে যাচ্ছে উত্তর যুবলীগের হিসেব, সম্মেলনের দিন ঘোষণা হতে পারে কমিটি

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ২১:০৬

বদরুল আলম মজুমদার

স্থানীয় সরকারের সীমানা নির্দেশ মোতাবেক সংশোধিত হচ্ছে যুবলীগের ঢাকার দুই অংশের সাংগঠনিক অঞ্চল। এমন সীমানা নির্দেশনার ফলে পাল্টে যেতে পারে দলীয় পদ প্রত্যাশীদের হিসেবও। বিশেষ করে ঢাকা মাহনগর উত্তর যুবলীগের সীমানা নির্দেশনায় বাদ যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ধানমন্ডি, কলাবাগান ও রামপুরাসহ আশ-পাশের এলাকা। অর্থাৎ দুই সিটি কর্পোরেশনের সীমানাই যুবলীগের সাংগঠনিক অঞ্চল হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে। আর এতেই কপাল পুড়তে পারে উত্তর যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ কয়েক প্রার্থীর। তবে তাজবিরুল হক অনু ধানমন্ডি এলাকার ভোটার হলেও তার দাবি তিনি সারাজীবন রাজনীতি করেছেন উত্তর এলাকায়। তাই এবারও তিনি পদ চান উত্তরে। দক্ষিণে যাওয়ার বিষয়টি তিনি একেবারেই নাকচ করে দেন। এনিয়ে তার অনুসারিরা দ্বিধায় থাকলেও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান তারা। এদিকে অনুর উত্তর-দক্ষিণ বির্তকের মাঝে কপাল খুলে যেতে পারে অন্য আরো কয়েকজন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর।

উত্তর যুবলীগের সূত্র জানায়, সভাপতি পদে প্রার্থীতায় তেমন চমক আপাতত দেখা না গেলেও এখনও সর্বাধিক আলোচনায় আছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন। তার পরেই প্রার্থীতার দৌঁড়ে মোটামুটি ভালো অবস্থান নিতে পেরেছেন জাকির হোসেন বাবুলও। তিনি ঢাকা উত্তর সিটির একজন নির্বাচিত কাউন্সিলর। সূত্রমতে, জনপ্রতিনিধিদের সাংগঠনিক পদে পদায়ন না করা নিয়ে দলের কিছু নীতিগত অবস্থানের কারণে বাবুলের সামনে কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে বিষয়টি। তবে তার অনুসারি নেতারা বিষয়টিকে একেবারেই পাত্তা দিতে চান না।

আরেক সভাপতি প্রার্থী ইসমাইল হোসেনের সামনে এ ধরণের কোনও বাধা না থাকলেও প্রতিপক্ষরা বলছেন, পুরনোরা পূনরায় দায়িত্বে আসতে পারবেন না। আর এমন প্রচারনা দিয়েই মূলত ইসমাইল হোসেনকে আলোচনার বাইরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তার অনুসারি নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা, তারা মনে করছেন, জাকির হোসেন বাবুলসহ সভাপতি পদে অন্য যারা আছেন তাদের থেকে অনেক বেশি সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে তার। দলের দুর্দিনে পরীক্ষিত নেতা হিসেবে শীর্ষ নেতাদের নজরও রয়েছে তার প্রতি। তাছাড়া উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য পূর্বে যে কোনও একজনকে পদায়ন করা হতে পারে। গত দুইবারের কমিটিতে এমন ট্রাডিশনই দেখা গেছে। আর এই রকম প্রত্যাশা নিয়েই এগিয়ে আছেন ইসমাইল হোসেন।

অপর দিকে সাধারণ সম্পাদক পদে তাসবিরুল হক অনু সর্বাধিক আলোচনায় থাকলেও অন্য প্রার্থীরাও বেশ ভালো লবিং তদবির দিয়ে এগিয়ে থাকার চেষ্ঠা করছেন। এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক সাহাদাত হোসেন সেলিম, মামুন সরকার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম খান এবং উপ-দপ্তর সম্পাদক এ এইচ এম কামরুজ্জামান কামরুলসহ আরো অন্তত দুইজন নেতা।

দলের পদ প্রত্যাশী নেতাদের অতীত রাজনীতি ও বর্তমান সাংগঠনিক দক্ষতা বিচার করেই পদায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন যুবলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন সিনিয়র নেতা। তিনি মনে করেন, কোনও ভাই রাজনীতি নয়, আবার কোন বলয়েরও নয়। যুবলীগের নেতৃত্ব আসবে ক্লিন ইমেজ ও সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পন্নদের হাতে।

সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে উত্তর যুবলীগের যে কয়জন নেতা বিভিন্নভাবে চেষ্টা তদবির করছেন, তাতে যোগ্যতার বিচার চান সব প্রার্থী। তারা মনে করছেন, একে অন্যকে হাইব্রিড বা সুযোগ সন্ধানী বা অন্য অনেক মন্দ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়ার নামে যেভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা নেতাদের চরিত্র হনন ছাড়া আর কিছুই নয়। দলের স্বার্থে এগুলো বন্ধ করা উচিত বলে মনে করেন তারা।

এদিকে যুবলীগের কেন্দ্রিয় সম্মেলনের দিনই উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। গত ২/৩ দিন থেকে নগর নেতাদের মুখে মুখে রয়েছে এমন আলোচনা। এ অবস্থায় নড়েচড়ে বসছেন পদপ্রত্যাশীরাও। শেষ পর্যন্ত কি হয় তা দেখতে ২৩ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলেই মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে উত্তরের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও সাবেক ছাত্র নেতা মামুন সরকার বলেন, এরকম কথা শুনছি, এর বেশি কিছু জানি না। নিজের পদ প্রাপ্তির ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, আমি ছাত্র জীবনে টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি। ছাত্রাবস্থায় টঙ্গী কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জি এস পদে নির্বাচন করতে ফরমও উঠিয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের দলীয় প্যানেলের কারণে সেময় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই। সেই থেকে রাজনীতি করে আজকের পর্যায়ে এসেও যে কোনও বির্তকের উর্দ্ধে নিজেকে রাখার চেষ্ঠা করেছি। এখন দলের নেতারা সেটি বিবেচনায় নিবেন বলেই প্রত্যাশা তার।

অপর প্রার্থী কামরুজ্জামান জানান, নিজের ক্লিন ইমেজ ও সকলের নিকট গ্রহণযোগ্যতাকে নিজের রাজনীতির পুঁজি বলেই মনে করছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের সাংগঠনিক অভিযোগও নেই। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের নেতা-কর্মীদের কাছে জনপ্রিয়। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার দুই শাসনামল বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের গণতান্ত্রীক আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০০১ সালে বিরোধী দলের রাজনীতিতে ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে রাসেল স্কয়ারে নির্যাতনের শিকার হন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ছাত্রলীগের মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।

পিডিএসও/রি.মা