শ্রমিক লীগ : তারুণ্যে বদলাবে পুরোনো নেতৃত্ব

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১০:০৭

জিয়াউদ্দিন রাজু

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে আজ। দুই বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় ৮ বছর আগে। তাই সম্মেলন ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম এই সংগঠনে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সকালে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দুপুরের পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইস্টিটিউশনে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ঘোষণা করা হবে এ সংগঠনের আগামীর নেতৃত্ব। তারুণ্যনির্ভর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আগামীর প্রত্যাশা পূরণে নতুনরা এগিয়ে যাবেন এই প্রত্যাশা সংগঠনটির নেতাকর্মীদের।

সূত্র জানিয়েছে, শ্রমিক লীগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুই পদেই পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ বর্তমানে শীর্ষ দুজনই কাটিয়েছেন আট বছর। তাই সম্মেলনের মাধ্যমে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির দক্ষ নেতৃত্ব চান আওয়ামী লীগ সভাপতি। তাই বাদ পড়তে যাচ্ছেন টেন্ডার ও চাঁদাবাজি, ক্যাসিনো পরিচালনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতরা।

সম্মেলনে নতুন কমিটিতে তারুণ্যনির্ভর, ত্যাগী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব চায় দলের হাইকমান্ড। ফলে শ্রমিক লীগের শীর্ষ পদসহ আগামী কমিটি থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন বয়সের ভারে ন্যুব্জ নেতারা। পাশাপাশি অন্যদল থেকে এসে সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করে যারা বড় পদ বাগিয়ে নিয়েছেন— এমন বিতর্কিত নেতাদেরও জায়গা হবে না নতুন কমিটিতে। এছাড়া সংগঠনে অধিকাংশ নেতা প্রবীণ হওয়ায় তারাও বাদ পড়তে যাচ্ছেন।

২০১২ সালের সর্বশেষ সম্মেলনে জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শুকুর মাহমুদ আর সাধারণ সম্পাদক হন সিরাজুল ইসলাম। আট বছরে এই কমিটিতে ৪৫ সাংগঠনিক জেলার কমিটি করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক লীগের সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ। তিনি ২০০৩ সাল থেকে এই পদে আছেন। তিনি ১৯৯৪ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৮৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৬ থেকে এখন পর্যন্ত রেলওয়ে শ্রমিক লীগেরও সাধারণ সম্পাদকের পদে আছেন।

আলোচনায় আছেন আরেক সহ-সভাপতি আমিনুল হক ফারুক। তিনি সোনালী ব্যাংক সিবিএ’র তিন মেয়াদে সভাপতি এবং ব্যাংক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করা এ শ্রমিক নেতা শ্রমিক রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

আলোচনায় আছেন সহ-সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি ভলিবল ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের নিয়ে আয়োজিত নানা অনুষ্ঠানে শ্রমিক লীগের প্রতিনিধিত্ব করেন। আলোচনায় আছেন নওগাঁ থেকে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইসরাফিল। তিনি ১৬ বছর ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংগঠনের শীর্ষ পদে আসতে পারেন শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু। এর আগে একাধিকবার শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মন্টু। তিনি শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং পাবনা জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ট্রেড ইউনিয়নের রাজনীতিতে তিনি জড়িত রয়েছেন। ফজলুল হক মন্টু ১৯৬৯-৭০ সালে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বে ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি পাবনা জেলা মুজিব বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও শ্রমিক লীগের সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম। দীর্ঘদিন সংগঠনের শীর্ষ পদে থেকেও এবার তিনি সভাপতি হতে চান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাদের যোগ্য মনে করলে আবার দায়িত্বে রাখবেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলে জানান।

এছাড়াও কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন, শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলাম, তিনি শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির এজিএস এবং কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণ সম্পাদকে আলোচনায় আছেন, শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফর আলী। তিনি ১৯৮৪ সালে শ্রমিক লীগের সহ-সম্পাদক হিসেবে শ্রমিক লীগে যাত্রা শুরু করেন। তিনি শ্রমিক লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম মিলকী। তিনি এর আগে শ্রমিক লীগের শিক্ষা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি রাজউক শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং টঙ্গীবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আলোচনায় রয়েছেন সংঘঠনের কেন্দ্রীয় অর্থবিষয়ক সম্পাদক সুলতান আহমেদ। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড সিবিএ’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

শ্রমিক লীগের শীর্ষ পদে আরো আলোচনায় আছেন, কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন মিয়া। তিনি আদমজী জুট মিল সিবিএ’র প্রচার সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ২০০৩ সালে আদমজী জুটমিল চালু সংগ্রাম পরিষদ প্রতিষ্ঠা করে তিনি আদমজী জুটমিলের শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রদান করেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এই সংগঠনের ব্যানারে তিনি শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আলোচনায় থাকা শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজম খসরু সোনালী ব্যাংক সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠা লাভ করে জাতীয় শ্রমিক লীগ। ২০১২ সালের সর্বশেষ সম্মেলনে হয়েছে।

পিডিএসও/তাজ