ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন

তুরাগে পুরোনোর সাথে পাল্লা দিতে প্রস্তুত নতুনরাও

প্রকাশ | ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১৭ | আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ২৩:০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন। মাত্র বছর খানেক আগে নতুন সংযুক্ত ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচন হলেও আইনে সেগুলোকে উপনির্বাচনই বলা হয়েছে। তাই এবার প্রথমবারের মতো ৫ বছরের জন্য তুরাগের নতুন অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এর আগে গত জানুয়ারি মাসের নির্বাচনে নতুন ৩টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দলীয়প্রার্থী বাছাই না হওয়ায় মাঠে ছিলেন অনেক প্রার্থী। কিন্তু এবার দলীয় মনোনয়নেই অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। অপরদিকে কাউন্সিলরদের মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ায় ‘আবার কেন নির্বাচন’ এমন ইস্যুটি  নিয়ে কেউ কেউ কোর্টে যেতে পারেন। তবে স্থানীয় সরকারের আইনমতে কোর্টে গিয়েও কোনো লাভ হবে না বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জবাব দিতে নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুত। 

তুরাগের ৩টি ওয়ার্ডে গত নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন, ৫৪ নং ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজ, ৫৩ নং ওয়ার্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ও ৫২ নং ওয়ার্ডে ফরিদ আহমেদ। এ তিনজন নির্বাচিত হলেও ওয়ার্ডগুলোতে প্রার্থী ছিলেন প্রায় ৩০ জন। এর মাঝে অনেক প্রার্থীই তাদের জামানত ফিরে পাননি। শোনা যায় এবারো তারা নির্বাচন করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। নির্বাচিত তিনজন দলীয় সমর্থনে ছিলেন কি-না তা নিয়ে যথেষ্ঠ বির্তক রয়েছে। যার প্রভাব এবারের নির্বাচনেও পড়বে।

দলীয় অপর একটি সূত্র জানায়, গত নির্বাচনে যাই হোক এবার নতুনভাবে প্রার্থী ঠিক করবে দল। দলের প্রতি নিষ্ঠা ও দীর্ঘ দিনের পরীক্ষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্তদের হাতে যাবে দলের টিকেট।

৫২ নং ওয়ার্ড : এই ওয়ার্ডে গতবারের প্রার্থীদের সাথে এবার নতুন আরো কয়েকজন প্রার্থী যুক্ত হচ্ছেন। যারা নির্বাচনের মাঠে বা ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলার যথেষ্ঠ ক্ষমতা রাখেন। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন তুরাগ থানা কৃষক লীগের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম। এর বাইরে আরো অন্তত দুজন প্রার্থীর খবর পাওয়া গেলেও তারা এখনই আলোচনায় আসতে চান না। কয়েকজন প্রার্থী এবার আরো বেশি শক্তিমত্তা নিয়ে মাঠে আসছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

গতবার এ ওয়ার্ডে প্রার্থী ছিলেন, তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি হালিম, সাবেক হরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম ইকবাল, ৫২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী সোহেল রানা, সাবেক ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার ইব্রাহিম গনি, রতন কুমার, ইব্রাহীম, তুরাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক করিম খান, সাবেক ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার দেলোয়ার হোসেন, তুরাগ থানা আওয়ামীলীগের সদস্য রাইসুল ইসলাম লিটন প্রমুখ।

৫৩ নং ওয়ার্ড : গত নির্বাচনে এ ওয়ার্ডের নির্বাচনে তেমন উত্তাপ না থাকলেও এবার এখানে শুরু হয়েছে জটিল রাজনৈতিক হিসাব। বৃহত্তর উত্তরা আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা ও তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসিম চেয়াম্যানের পরিবার থেকে এবার প্রার্থী থাকছে এখানে। তুরাগ থানা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক, বর্তমানে তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মুহিবুল হাসান এবার এ ওয়ার্ডে নির্বাচন করতে চান। আওয়ামী রাজনীতির পারিবারিক ঐতিহ্যকে পুঁজি করে এবার শক্ত একটি ফ্যাক্টর তৈরি করতে চান মুহিবুল।

এর বাইরে বর্তমান কাউন্সিলরের ভাতিজা ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাদেকুর রহমানও নিজের প্রার্থিতার জানান দিতে চান। তুরাগ থানা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাদেক তার আপন চাচার নির্বাচনে গতবার মুখ্যভূমিকা পালন করলেও এবার তিনিই প্রার্থী হিসেবে কাজ শুরু করেছেন।

উল্লেখ্য, চেয়ারম্যানের পরিবারের শক্তিশালি ভূমিকার কারণেই বর্তমান কাউন্সিলর বিপুল ব্যবধানে জয় পায় বলে জানায় স্থানীয় একটি সূত্র। এর বাইরে এখানে নতুন প্রার্থী হিসেবে আছেন থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি লেহাজ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন ও জামাল উদ্দিন। 

৫৪ নং ওয়ার্ড : সব হিসাবেই জটিল নির্বাচনী অঙ্ক চলে এ ওয়ার্ডটিতে। এখানে এবার নতুন প্রার্থী হিসেবে বেশ আলোচনায় আছেন চেয়ারম্যান পরিবারের আরেক প্রভাবশালী প্রার্থী সাবেক ছাত্র নেতা ও তুরাগ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী জাহিদুল হাসান। তিনিসহ তার পরিবারের লোকজন গতবার যুবরাজ খানের পক্ষে কাজ করলেও এবার তারা নিজেরাই প্রার্থী। তাই এবারের নির্বাচনে এই পরিবারটি এই ওয়ার্ডের ভোটের মাঠে একটা ফ্যাক্টর।

এর বাইরে গতবারের প্রার্থীরা এবারও নির্বাচনী মাঠে থাকার কথা শোনা যাচ্ছে। দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন হলে এখানে কে পাবেন দলের টিকেট—তা নিয়ে এখনই বলার সময় আসেনি। গতবার এখান থেকে নির্বাচন করেছিলেন, মজিবুর রহমান, সোহেল রানা, সুরুজ মোল্লা, আব্দুর রাজ্জাক মেম্বার, আব্দুল বারিক, জবেদ আলী, ও আলা উদ্দিন আলাল প্রমুখ।

পিডিএসও/তাজ