যুবলীগ : নেতৃত্বের লড়াইয়ে মূল্যায়িত হবেন ছাত্রনেতারা

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৫৫

জিয়াউদ্দিন রাজু

ক্যাসিনোকাণ্ডে দায়িত্বশীল অনেকের নাম আসায় এখন অনেকটা বেসামাল আওয়ামী যুবলীগ। ২৩ নভেম্বর দলটির কংগ্রেস। এ অবস্থায় দলের হাইকমান্ড যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ছাত্রলীগ থেকে আসা নেতাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, অনিয়ম, দুর্নীতি আর টেন্ডারবাজির অভিযোগে ভাবমূর্তি সংকটে পতিত এই সংগঠনকে টেনে তোলাই হবে নতুন নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ।

সে লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা যুবলীগের অভিযুক্ত ও সমালোচিত নেতাকর্মীদের সংগঠন থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে পদপ্রার্থীদের বয়সসীমা ৫৫ বছরের মধ্যে বেঁধে দিয়েছেন। এর ফলে দীর্ঘদিন বুড়োদের কাছে আটকা থাকা যুবলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অনেকেই সংগঠন থেকে বাদ পড়বেন। বার্ধক্যের কারণে বাদ পড়া নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও দলীয় সভাপতির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

এদিকে সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী যুবলীগের শীর্ষনেতাদের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের বেশিরভাগই বয়সের কারণে এবার প্রার্থী হতে পারছেন না। তাদের অনেকেই এখন মূল দলের কোনো শাখা-উপশাখা কমিটিতে পদপ্রাপ্তির তদবির শুরু করেছেন।

বাদ পড়া নেতাকর্মীরা জানান, ত্যাগী-পোড় খাওয়া অনেকে সিনিয়র এ যাত্রায় বাদ পড়লেও দলের স্বার্থে যুবলীগের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগের ১ নম্বর প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, বয়সের কারণে অনেকে বাদ পড়ে যাচ্ছেন এটা ঠিক, এতে মন খারাপের কিছু নেই। আমরা মনে করি যুবলীগে পর্যাপ্ত যোগ্য নেতাকর্মী রয়েছেন। তারা রাজনীতি বোঝেন। তাদের অনেকেই ছাত্ররাজনীতি থেকেই ত্যাগী উচ্চশিক্ষিত। বাদ পড়াদের শূন্যতা এসব উচ্চ শিক্ষিত তরুণরা পূরণ করতে পারবেন। তারা ভবিষ্যতে সংগঠনের মুখ উজ্জ্বল করবেন।

যুবলীগের এই প্রেসিডিয়াম নেতা বলেন, মন খারাপ করে বা ভুল বুঝে বসে থাকলে তো চলবে না। বয়সসীমা নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা বলেছেন সেটাই চূড়ান্ত। যারা বাদ পড়ে যাচ্ছেন তাদের জেলা-উপজেলায় আওয়ামী লীগ করার সুযোগ রয়েছে। তবে বয়সের বিষয়ে ঘরোয়াভাবে একাডেমিক একটা আলোচনা হতে পারে।

আগামী দিনের নেতৃত্ব বিষয়ে জানতে চাইলে এক সময়ের সফল ছাত্রনেতা ও বর্তমানে আওয়ামী যুবলীগের প্রচার সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমাদের নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সাবেক ছাত্রনেতা থেকে উঠে আসা নেতৃত্বকে যুবলীগের দায়িত্বশীল পদে স্থান দিলে তারা সংগঠনের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবেন। কারণ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সব আন্দোলন-সংগ্রামে তারাই নেতৃত্ব দিয়েছেন।

আগামী সম্মেলনে তরুণদের ভাবনার বিষয় জানতে চাইলে ছাত্ররাজনীতি থেকে আসা ও বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের উপদফতর সম্পাদক এ এইচ এম কামরুজ্জামান কামরুল প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে অবশ্যই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বাগত জানাই। তবে সংগঠনে কিছু অভিজ্ঞ ও পোড় খাওয়া নেতাদেরও দরকার রয়েছে। তাহলেই অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতাদের সমন্বয়ে যুবলীগ আরো উজ্জ্বল ও গতিময় হবে।

যুবলীগের ৭ম কংগ্রেসকে সামনে রেখে গত রোববার বিকালে গণভবনে যুবলীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যুবলীগ নেতাদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৫ বছর নির্ধারণ এবং যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলামকে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও হারুনুর রশীদকে সদস্য সচিব করা হয়। কেন্দ্রীয় যুবলীগের সম্মেলনের পর যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলনের নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

পিডিএসও/তাজ