ঘরে-বাইরে চাপে মেনন

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে নিয়ে তার দলের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। মেননের বিরুদ্ধে ক্যাসিনোর টাকার ভাগ পাওয়ার অভিযোগ ওঠায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি তিনি একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে নতুন করে তিনি ঘরে ও বাইরে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছেন। আর সরকারের শরিক দল হিসেবে ওয়ার্কার্স পার্টিও সমালোচনার মুখে রয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় কংগ্রেসকে সামনে রেখে মেননকে নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য চরমে উঠেছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়ার্কার্স পার্টি কী তৃতীয়বারের মতো ভাঙনের মুখে পড়েছে— সেই প্রশ্নই এখন সামনে চলে এসেছে। ক্যাসিনোকান্ডসহ অপরাধ জগতে সহযোগী রাঘববোয়ালদের নাম ফাঁস করেছেন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি (বর্তমানে বহিষ্কৃত) ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। আড়ালে থাকা এ রাঘববোয়ালদের প্রশ্রয়ে অল্পদিনেই টাকার পাহাড় গড়েন তিনি। আর ক্যাসিনো থেকে আয় করা টাকার ভাগ পেতেন আড়ালে থাকা রাঘববোয়ালরাও। এদের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নাম বলেছেন সম্রাট।

জানা গেছে, রাশেদ খান মেননের শেল্টারেই ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো গড়ে ওঠে। ইয়ংমেনস ক্লাব থেকে র‌্যাবের উদ্ধার করা চাঁদাবাজির খাতায় মেননের নাম রয়েছে ৫নং সিরিয়ালে। যিনি প্রতি মাসে সম্রাটের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা নিতেন। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট এসব তথ্য দিয়েছেন।

এদিকে গত শনিবার বরিশালে এক অনুষ্ঠানে রাশেদ খান মেনন বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দেননি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম নেতার মুখে এমন মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার তৈরি হয়েছে। অশ্বিনী কুমার টাউন হলে শনিবার ওয়ার্কার্স পার্টির বরিশাল জেলা কমিটির সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাশেদ খান মেনন বলেন, আমি ও প্রধানমন্ত্রীসহ যারা নির্বাচিত হয়েছি আমাদের দেশের কোনো জনগণ ভোট দেননি। কারণ ভোটাররা কেউ ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেননি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, গত নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি।

ওয়ার্কার্স পার্টির একটি বড় অংশ এমনিতেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে ‘তোষণ করার নীতি’ ছাড়ার পক্ষে। তাদের মতে, ওয়ার্কার্স পার্টির উচিত তার কমিউনিস্ট আদর্শকে প্রাধান্য দিয়ে জনগণের পক্ষে রাজনীতি করা। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে থেকে ওয়ার্কার্স পার্টি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এখন পার্টির উচিত, বৃহৎ বাম ঐক্য গড়ে তুলে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া। দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মীর সরকারবিরোধী কঠোর মনোভাব বুঝতে পেরে সম্ভাব্য ভাঙন ঠেকাতে সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। ওয়ার্কার্স পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের এই বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রিত্ব পেলে মেনন নির্বাচন নিয়ে ‘বিরূপ’ মন্তব্য করতেন কিনা সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। গত রোববার সচিবালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘উনি এতদিন পর একথা বলছেন কেন? তিনি মন্ত্রী হলে কী এমন কথা বলতেন? মন্ত্রিত্ব পেলে কী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৪ দলের বৈঠকে মেননকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে। তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মেননের ওই বক্তব্য নিয়ে রোববার বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল তুমুল আলোচনা। সরব ছিল ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও। মেননের ওই বক্তব্যকে ভোট নিয়ে নিজেদের অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন। বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী আওয়ামী লীগ জোটের এই নেতাকে বলেছেন ‘রাজসাক্ষী’।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতির দায়িত্বহীন ওই বক্তব্যের সঙ্গে জোটের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে বিএনপি নেতা মারুফ কামাল খান মেননের সমালোচনা করে লিখেছেন, মন্ত্রিত্বের বিনিময়ে আত্মাকে বন্ধক দিয়ে রেখেছিলেন রাশেদ খান মেনন। বাদ পড়ার পরও অনেক দিন অপেক্ষায় ছিলেন যদি আবার ডাক পড়ে এই আশায়, শিকে আর ছিঁড়েনি। এ অবস্থায় দুটি সত্য কথা বলে ফেলেছেন তিনি। এটা পেয়ে হারানোর বেদনা বা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে হতে পারে। আবার রাজনীতির নানা অপকৌশল থাকে। অনেক সময় কড়া কড়া কথা বলা হয়, বিদ্রোহীর ভাব ধরা হয় ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে কিছু আদায় করার কৌশল হিসেবে। প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মন্ত্রিত্ব বঞ্চিত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নানা বিদ্রুপাত্মক কথাবার্তা বলার পর শেখ হাসিনা তাকে মন্ত্রী বানিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, মুখ বন্ধ করলাম।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ২ থেকে ৫ নভেম্বর ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কংগ্রেস। ওই কংগ্রেস সামনে রেখে দলের বর্তমান নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরোর বেশ কয়েকজন সদস্য। তাদের সঙ্গে একমত হয়ে অবস্থান নিচ্ছেন জেলা পর্যায়ের নেতারাও। ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বগুড়া, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহসহ বেশ কয়েকটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা ওয়ার্কার্স পার্টির বর্তমান নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

জানা গেছে, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস, পলিট ব্যুরোর সদস্য মনোজ সাহা, নুরুল হাসান, ইকবাল কবির জাহিদ আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্য করে সরকারের অন্যায় কর্মকান্ডে সমর্থন জোগানোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণকে সমর্থন জানিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির দীর্ঘদিনের সংগ্রামী ইতিহাসকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। সরকারের সঙ্গে থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির একাধিক সংসদ সদস্য অনিয়ম, দুর্নীতিতে যুক্ত হয়েছেন। সরকারের হেফাজত তোষণের নীতির বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়নি ওয়ার্কার্স পার্টি। ফলে পার্টি তার কমিউনিস্ট আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ওয়ার্কার্স পার্টি এখন আর কমিউনিস্ট পার্টি নয়। ফলে আমি এই পার্টি থেকে সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। মঙ্গলবারের মধ্যেই আমি সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নেব।’ আগামী কংগ্রেসের মধ্যদিয়ে দল ভাঙছে কিনা, জানতে চাইলে বিমল বিশ্বাস বলেন, ‘আমি আমার সদস্যপদ প্রত্যাহার করব। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। এরপর যদি অন্য নেতারা তাদের পদ প্রত্যাহার করে নেন তাহলে তো আমার কিছু বলার নেই। আমি দেখব, কয়টা জেলার নেতারা কংগ্রেস প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর জেলার নেতাদের সঙ্গে বসে আমাদের পরবর্তী রাজনৈতিক করণীয় ঠিক করব। আমরা মনে করি, কমিউনিস্ট পার্টি হিসেবে আমাদের এখন বাম ঐক্য গড়ে তুলে সাধারণ মানুষের পক্ষে রাজনীতি করা উচিত।

এদিকে কংগ্রেস সামনে রেখে ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সম্মেলনগুলোতে ভিন্নমত অবলম্বনকারীদের প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক তর্ক-বির্তক হচ্ছে। গত সপ্তাহে বগুড়া জেলার সম্মেলনে পাল্টাপাল্টি কমিটিও হয়েছে। ওয়ার্কার্স পার্টি সমর্থক ছাত্রসংগঠন ছাত্রমৈত্রীর সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের অনেকেই ভিন্নমত অবলম্বনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

দলীয় কয়েকটি সূত্রে জানা যায়, ওয়ার্কার্স পার্টির বর্তমান নীতির বিরোধিতাকারীরা ভিন্ন একটি দল গঠন করে বাম জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই তারা দল গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছেন। বিমল বিশ্বাসকে সভাপতি করে ওই দল গঠন করা হবে।

সূত্র মতে, ১৯৯২ সালে তিনটি বামদল মিলে ওয়ার্কার্স পার্টি গঠন করা হয়েছিল। একসময় চীনপন্থি ধারায় সংগঠন করা নেতারাই এখন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আছেন। ফলে দলটির মধ্যে বরাবরই আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্য করে ক্ষমতায় যাওয়া নিয়ে বিরোধ ছিল। এবার এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। দলটির গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা বিমল বিশ্বাস ও ইকবাল কবির জাহিদ নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেও সংসদ সদস্য হতে পারেননি। ফলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট থেকে বেরিয়ে আসতে তারা তৎপর হয়েছেন।

আর দলের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী মনোভাব চাঙ্গা হওয়ায় আসছে কাউন্সিলে দলে ভাঙন ঠেকাতে রাশেদ খান মেনন সরকারের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন বলে অনেকের ধারণা। সম্প্রতি বরিশালে দলের এক অনুষ্ঠানে তিনি একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে মেনন এমন সমালোচনা করেন।

এ বিষয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওয়ার্কার্স পার্টির সব কাউন্সিলেই ভিন্নমত আসে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক সময় ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়। এবারও তাই হবে। কয়েকটি জেলা এরই মধ্যে ভিন্নমত যারা পোষণ করেছেন তাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। কিছু জেলায় তাদের প্রস্তাব সমর্থন পায়নি। দলে ভাঙনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মেনন বলেন, আমাদের এখানে ভিন্নমত চর্চার সুযোগ আছে। তবে কেউ যদি দল থেকে বেরিয়ে গিয়ে ভিন্ন দল গঠন করতে চায়, আমাদের তো কিছু করার নেই।

দলের অভ্যন্তরীণ চাপে সরকারের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন কিনা, জানতে চাইলে মেনন বলেন, আমি মন্ত্রী থাকার সময়ও সরকারের বিরোধিতা করেছি। আমাদের পার্টি ফোরামে সরকারের বিরুদ্ধে অনেক সমালোচনা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ফলে আমি নতুন করে সরকারের সমালোচনায় নামিনি।

জানা গেছে, বর্তমানে দলটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার সঙ্গে দলটির পলিট ব্যুরোর বেশ কয়েকজন সদস্যের মতপার্থক্য চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এখন কংগ্রেসকে সামনে রেখে পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাসসহ অন্তত পাঁচজন সদস্যের মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে। তাদের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলিলে দ্বিমত পোষণ করে বিকল্প প্রস্তাবও এসেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওয়ার্কার্স পার্টির এই মতভেদের মূলে পার্টির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, দলের মতাদর্শ, রণনীতি, লেনিনীয় নীতি, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও অভিমত, আওয়ামী লীগের জোটে থাকা না থাকা, বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বে ভূমিকায় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ, কমিউনিস্ট চরিত্র থেকে সরে আসা, সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে ভিন্নমত উপেক্ষা ইত্যাদি রয়েছে। অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই এমন মতপার্থক্য চলে আসছে, যা এখন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়ে দলে ভাঙন সৃষ্টি করছে।

আগামী ২ নভেম্বর ওয়ার্কার্স পার্টির চার দিনব্যাপী দশম কংগ্রেস শুরু হতে যাচ্ছে। এতে উপস্থাপেনর জন্য পার্টির যে রাজনৈতিক দলিল প্রস্তুত করা হয়েছে, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন নুরুল-জাহিদরা। তা আমলে না দিলে ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে বেরিয়ে বিমল বিশ্বাসের নেতৃত্ব আলাদা দলও ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, পার্টিতে মতাদর্শগত পার্থক্য নিয়ে আমরা রাজনৈতিক দলিলে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছি। তবে এই প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি নন তিনি।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, কমিউনিস্ট পার্টিতে অসংখ্য অভিমত থাকে। এবার পলিট ব্যুরোর দুজন সদস্য লিখিতভাবে মত দিয়েছেন, তা পুরো পার্টিতে প্রচারও করা হয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক প্রস্তাব ও সাংগঠনিক দলিলও সবার কাছে গেছে, তাতেও ভিন্নমত যুক্ত করা হয়েছে। এসব কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে, সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে।

তবে এসব বিষয়ে খুব গুরুত্ব দেননি জানিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ভিন্নমত থাকবে, ছোটখাটো সমস্যাও থাকতে পারে। কিন্তু সেটাকে বিকল্প দলিল বলা যায় না। ভোটের মাধ্যমে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত হয়। তাই কংগ্রেসই সব কিছু ঠিক করবে।

পার্টির সাবেক সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি একটি মার্কসবাদী সংগঠন, কিন্তু সে অনুযায়ী দলের কোনো কিছুই হচ্ছে না। তাই পার্টিকে কমিউনিস্ট পার্টিও মনে করতে পারছি না। তাই আমি আমার প্রাথমিক সদস্য পদ প্রত্যাহার করে নেব।

প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে ইউনাইডেট কমিউনিস্ট লীগ ও সাম্যবাদী দলকে (আলী আব্বাস) নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি গঠিত হয়। এরপর প্রথম দফায় ১৯৯৫ সালে পলিট ব্যুরোর সদস্য টিপু বিশ্বাস দল থেকে বেরিয়ে গণফ্রন্ট এবং ২০০৪ সালে পলিট ব্যুরোর আরেক সদস্য সাইফুল হক দল ছেড়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি গঠন করেন।

পিডিএসও/তাজ