বরখাস্ত হলেন আলোচিত কাউন্সিলর সাঈদ

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৪৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এ কে এম মমিমুল হক সাঈদকে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে গত জুন পর্যন্ত ১৮টি বোর্ডসভা হয়। এর মধ্যে ১৩টি বোর্ডসভায় মমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন না। এর মধ্যে একনাগারে টানা তিনবার (১ম থেকে ৩য়, ৭ম-১০ ও ১২তম-১৭তম) সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ডিএসসিসি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া অসংখ্যবার বিদেশে গেছেন এবং এখন সেখানে অবস্থান করছেন মমিনুল হক।

উল্লিখিত বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তিনি আত্মপক্ষ যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একজন কর্মকর্তাকে তদন্ত করার জন্য নিয়োজিত করা হয়। ওই কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে প্রতিবেদন দেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন ২০০৯ এর ধারা ১৩ এবং উপধারা (১) এর (ক গ ও চ) অনুযায়ী কাউন্সিলর পদ অপসারণ যোগ্য অপরাধ। সেই হিসেবে স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন ২০০৯ এর ধারা ১৩ এবং উপধারা (২) অনুযায়ী ডিএসসিসি ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদ থেকে মমিনুল হক সাঈদকে বরখাস্ত করা হলো।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর মতিঝিলের ইয়াংমেনস ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র ও বনানীর গোল্ডেন ঢাকা ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। র‌্যাব ও মতিঝিল থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, এই চারটি ক্লাবের মধ্যে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবটি চালাতেন যুবলীগ নেতা ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক। এই ক্লাবে তার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ক্যাসিনো, জুয়া, মাদকের আসর বসত। তবে র‌্যাবের অভিযানের কয়েক দিন আগেই তিনি সিঙ্গাপুরে চলে যান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিঙ্গাপুর-থাইল্যান্ডে মমিনুল হকের ক্যাসিনোর ব্যবসা আছে। প্রতি মাসেই তিনি বিদেশে যাওয়া-আসা করেন। ফকিরাপুল ও আরামবাগের অনেকেই তাকে ‘ক্যাসিনো সাঈদ’ নামে চেনেন। ক্যাসিনো ছাড়াও যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটের ঘনিষ্ঠ মমিনুলের চাঁদাবাজি থেকে টেন্ডারবাজি সব কিছুতেই একক আধিপত্য ছিল।

পিডিএসও/তাজ