স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদে আসছেন দুর্দিনের নেতারা

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:২০

জিয়াউদ্দিন রাজু

মেয়াদ যেন শেষই হতে চায় না স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান কমিটির। তবে আট বছর ধরে খুঁড়িয়ে চলার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন হতে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সম্মেলনের আয়োজন চলছে। ত্যাগী, স্বচ্ছ ও ক্লিন ইমেজের নেতার খোঁজে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব দুর্দিনের কর্মীদের হাতে তুলে দিতে।

এদিকে, নেতৃত্বের পালাবদল ঘিরে নেতাকার্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ইতোমধ্যে সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে শুরু হয়েছে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাঁপ।

দলীয় সূত্র জানায়, এবারের কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন। কাজেই নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি একটা ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বর্তমান সভাপতির গুরুত্ব থাকার কথা থাকলেও সম্প্রতি তিনি বিতর্কিত হওয়ার কারণে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে। এ ছাড়াও শুদ্ধি অভিযানে আওয়ামী লীগের অনেক অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম আসে, তাই নতুন নেতৃত্বের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে খুব বিচার-বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে তৈরি হবে। অতীতে এসব বিষয় বিবেচনায় থাকলেও এবার সেই প্রক্রিয়া হবে খুবই তৎপর। সংগঠনের কেন্দ্রীয় শীর্ষ পদপ্রার্থীদের শিগগিরই তাদের বায়োডাটা জমা দিতে বলা হবে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, অন্যবারের মতো ছাত্ররাজনীতির কর্মীরা মূল্যায়ন পাবেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ। আমরা চাই, ত্যাগী ও যোগ্য এবং মেধাবী নেতারা নেতৃত্বে আসুক।

আওয়ামী লীগের সূত্র বলছে, এবার স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পরীক্ষা দিয়ে আসতে হবে। সে ক্ষেত্রে সাবেক ছাত্রলীগের কর্মীরা বেশি মূল্যায়ন পাবেন। কারণ তারা পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্রলীগের পদ পেয়েছেন। এ ছাড়াও পরিবারের মতাদর্শকেও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপুর নাম। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকাকালীন টিপু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

জানা গেছে, টিপু চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার হন এবং ১/১১ সময়ে তিনি ছাত্রদের নেতৃত্ব দিয়েছেন; শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলনেও ভূমিকা রাখেন।

সম্মেলনের বিষয়ে শেখ সোহেল রানা টিপু বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগে নেতৃত্ব পাওয়ার প্রধান মানদন্ড ক্লিন ইমেজ, ত্যাগী মনোভব এবং সাংগঠনিক দক্ষতা। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন তাদেরই নেতৃত্বে আসা দরকার।

এরপর আলোচনায় রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল। তিনি স্কুলজীবনে মাদারীপুর জেলায় ১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও ছিলেন। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে বেশ কয়েকবার এবং ১/১১-এর সময়েও কারাভোগ করেন। এ ছাড়া আলোচনায় আছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ শাকিব বাদশা। শেখ সোহেল রানা টিপু ও বাদশা একই কমিটির ছাত্রনেতা। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আফজাল বাবুর নামও শোনা যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা মহানগরে আলোচনায় রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল। আওয়ামী লীগ বিরোধী দল থাকাকালীন বিপুল তিনটি মামলার আসামি করা হয়েছিল। ১/১১ সময়েও তিনি রাজপথে ছিলেন।

আলোচনায় আরো আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান রানা, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি ইসহাক মিয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আবুল কালাম আজাদ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং দক্ষিণ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপন।

মহানগরের সম্মেলনের বিষয়ে কামরুল হাসান রিপন বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা জীবনবাজি রেখে দলের জন্য কাজ করেছেন। রাজপথে থেকেছেন, আন্দোলন করেছেন, তারা নেতৃত্ব আসুক। এতে সংগঠন যেমন শক্ত হবে; তেমনি জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতও শক্তিশালী হবে।

তারিক সাঈদ বলেন, দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হওয়ায় আমাদের প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানাই। যারা দুঃসময়ে দলের পাশে থেকে কাজ করেছেন, রাজপথে থেকেছেন, তারাই যেন নেতৃত্বে আসেন—এই প্রত্যাশা আমার।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, চাঁদাবাজি, ক্যাসিনো ব্যবসাসহ খারাপ কিছুর সঙ্গে জড়িত নেই—এমন নেতাদের স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন পদে দেখতে চাই।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতাদের সমন্বয়ে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সর্বশেষ ২০১২ সালে ১১ জুলাই সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পান মোল্লা আবু কাওছার। আর সাধারণ সম্পাদক হন পঙ্কজ দেবনাথ।

পিডিএসও/হেলাল