যুবলীগের বৈঠক

অনুপস্থিত ওমর ফারুক, দফতর সম্পাদক আনিস বহিষ্কার

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৫৪ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ১০:২০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের মধ্যে সবচেয়ে বেকায়দায় আছে যুবলীগ। শীর্ষনেতারা ক্যাসিনো বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় যুবলীগের এ অবস্থা। আর এ অবস্থার মধ্যেই আগামী ২৩ নভেম্বর সংগঠটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে। সম্মেলনের প্রস্তুতি উপলক্ষে দলটির সর্বোচ্চ প্রেসিডিয়াম সভা গতকাল শুক্রবার ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছে।

প্রেসিডিয়ামের এ সভা সংগঠনের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর ডাকার বিধান থাকলেও গতকালের সভায় উপস্থিত ছিলেন না তিনি। তবে উপস্থিত না থাকলেও তার অনুমতিতেই সভা আহ্বান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ। সভার শুরুতে গুরুতর অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে দলটির পলাতক দফতর সম্পাদক আনিসুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই তড়িৎ চলে যান সভার সভাপতি ও দলের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ।

পরে সভাপতির অনুপস্থিতির বিষয়ে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত গণমাধ্যমে কর্মীদের বলেন, ‘সভায় চেয়ারম্যান ছিলেন না। উনি বোধহয় ব্যস্ত ছিলেন। তাই আসতে পারেননি।’ সংগঠনটির অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ আতিয়ার রহমান দিপু সাংবাদিকদের বলেন, ‘সভায় যুবলীগের দফতার সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিসকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজকের সভা ডাকার অনুমতি চেয়ারম্যান দিয়েছেন। তার নির্দেশেই এ সভা হয়েছে। তবে তিনি কেন আসেননি, সে বিষয়টি জানা নেই। হয়তো অসুস্থতার কারণেও না আসতে পারেন।’

তিনি জানান, বৈঠকে আসন্ন সপ্তম কংগ্রেস (সম্মেলন) নিয়ে আলোচনা হয়। কংগ্রেসে বর্তমান চেয়ারম্যান না থাকলে কে সভাপতিত্ব করবেন; সে বিষয়ে মতামত নিতে দলের প্রেসিডিয়াম মেম্বারদের একটি প্রতিনিধি আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শহীদ সেরনিয়াবাত, শেখ শামসুল আবেদীন, আলতাব হোসেন বাচ্চু, মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মো. ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, মো. আতাউর রহমান, বেলাল হোসাইন, আবুল বাশার, মোহাম্মদ আলী খোকন, অধ্যাপক এবিএম আমজাদ হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার নিখিল গুহ, শাহজাহান ভূঁইয়া মাখন, ডা. মোখলেছুজ্জামান হিরু।

উল্লেখ্য, সরকারের চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদ্য বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট ও তার সহযোগী যুবলীগ নেতা আরমান গ্রেফতারের পর ওমর ফারুক চৌধুরীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় বলে খবর বেরিয়েছে সংবাদমাধ্যমে। এরপর থেকেই যুবলীগ চেয়ারম্যান দলীয় সব ধরনের কাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। তেমন একটা প্রকাশ্যেও আসছেন না। তবে দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞার খবরের পর ওমর ফারুক চৌধুরী একটি গণমাধ্যমকে টেলিফোনে বলেন, ‘আমি দেশ ছেড়ে পালাব কেন? আমি দেশেই আছি, দেশেই থাকব। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।’

দফতর সম্পাদক আনিস বহিষ্কার : সংগঠনের পরিচয়ে আর্থিক তছরুপ ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অপরাধে যুবলীগের দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল যুবলীগের কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রেসিডিয়াম সদস্যদের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ আতিয়ার রহমান দিপু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দিপু বলেন, ‘আনিসুরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে অনেক অভিযোগ এসেছে। এই অভিযোগের কারণে আমাদের আজকের প্রেসিডিয়াম বৈঠকে তাকে বহিষ্কারের বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ বহিষ্কারের আগে কি তাকে আপনারা শোকজ করবেনÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন তো শোকজ করার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য পিয়ন থেকে দফতর সম্পাদক বনে যান কাজী আনিসুর রহমান। নিজেকে চেয়ারম্যানের কালেক্টর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে নিজের আখের গোছানোর অভিযোগ ওঠে। বিএনপির শাসনকালে যুবলীগ অফিসের পিয়ন ছিলেন কাজী আনিস। ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চাকরি পাওয়ার পর মাসিক বেতন ছিল সাকুল্যে ৩ হাজার টাকা। ২০১২ সালে তার সেই বেতন বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ৭ হাজার টাকা। ২০১২ সালে যুবলীগের নতুন কমিটি গঠনের পর ভাগ্য বদলে যায় আনিসের। পিয়ন থেকে পদোন্নতি পেয়ে আনিস দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাসিম রূপককে উপদফতর সম্পাদক পদ দেওয়া হলে রাগে-ক্ষোভে তিনি তা গ্রহণ করেননি।

দফতরের দায়িত্ব পেয়ে মাত্র ৭ বছরের মধ্যেই কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার মালিক তিনি। ঢাকার শুক্রাবাদে বিশাল বাড়ি ছাড়াও ধানমন্ডিতে রয়েছে তার অনেকগুলো ফ্ল্যাট। ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল অর্থ জমা রয়েছে তার। দুটি জাহাজও তিনি কিনেছেন। এ ছাড়া বিনিয়োগ করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। কমিটি বাণিজ্য ও ক্যাসিনোর ভাগবাটোয়ারা করেই আনিস এই বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হন।

পিডিএসও/তাজ