সম্মেলন ২৩ নভেম্বর

যুবলীগের শীর্ষ পদে আসছেন কারা

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:১৪

জিয়াউদ্দিন রাজু

আগামী ২৩ নভেম্বর যুবলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের (৭তম কংগ্রেস) তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলনও হতে পারে বলে জানা গেছে। ওই সম্মেলনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে কারা আসছেন নতুন নেতৃত্বে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর যুবলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে স্থান হতে পারেন—এ রকম বেশ কয়েকজনের নামও শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া অনেকে এসব পদ পাওয়ার জন্য জোরালো তদবিরও শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে এবং সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসেবে ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। এ ছাড়া যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি-বিন মর্তুজার নামও শোনা যাচ্ছে। এর বাইরেও যুবলীগের চেয়ারম্যান হতে পারেন এমন বেশ কয়েকজন নেতার নাম সামনে আসছে। এতে ফজলে নূর তাপসের বড় ভাই শেখ ফজলে শামস পরশের নামও রয়েছে।

তবে যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুর রহমান মারুফ চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তিনি যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আপন ছোট ভাই। এ ছাড়া শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছোট ছেলে শেখ ফজলে নাঈমও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি বর্তমানে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য। তরুণ সমাজের কাছে জনপ্রিয় নাঈম পেশায় আইনজীবী। এর বাইরে আলোচনায় রয়েছে অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান শহীদ তথা শহীদ সেরনিয়াবাদের নাম। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার উপস্থিতি দৃশ্যমান। তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের খালাতো ভাই বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, যুবলীগের চেয়ারম্যান কে হবেন, তা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঠিক করে দেবেন। তবে নেতা নির্বাচনে শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং জাহাঙ্গীর কবির নানকের প্রভাব থাকবে। কারণ দুজনই আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া তারা দুজনই যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে ওপরে আলোচিত ব্যক্তিদের বাইরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের নামও আলোচনায় রয়েছে। যুবলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে তিনি অনেক জনপ্রিয় থাকায় আলোচনায় আসছেন বলে অনেকে মনে করছেন। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে নতুন করে এই সংগঠনের চেয়ারম্যান হওয়ার আগ্রহ তার নেই বলে তিনি ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশারের নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি ‘বায়রা’র সাবেক সভাপতি। তিনি গত জাতীয় নির্বাচনে ফেনীর সোনাগাজী থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে জোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ওই আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

যুবলীগের হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে একজন নূরনবী চৌধূরী শাওন। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য তিনি। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। তিনি বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের রাজনৈতিক গুরু বলে মনে করা হয়। এ কারণে যুবলীগের বর্তমান শুদ্ধি অভিযানেও বেশ আলোচনায় রয়েছেন শাওন। এর আগে নিজ গাড়ির চালক হত্যা মামলাতেও আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বাইরে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের অনেকের নামই আলোচনায় রয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন। এর বাইরে মহানগর উত্তরে ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিত বর্তমান উপ-দফতর সম্পাদক এ এইচ এম কামরুজ্জাম কামরুলের নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক দফতর সম্পাদক ছিলেন।

কামরুল খালেদা জিয়ার দুই দফা শাসনামলে বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ২০০১ সালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের রাসেল স্কয়ারে নির্যাতনের শিকার হন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ছাত্রলীগের মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের বর্তমান প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাসভীরুল হক অনুর নামও শোনা যাচ্ছে। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০২-২০১০ সাল পর্যান্ত তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাহাদাৎ হোসেন সেলিমের নামও আলোচনায় রয়েছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের আলোচনায় রয়েছে ওই কমিটির বর্তমান দফতর সম্পাদক এমদাদ, উপ-দফতর সম্পাদক খন্দকার আরিফুজ্জামান আরিফ। তারা সংগঠনের শীর্ষ পদগুলোতে স্থান পাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

পিডিএসও/হেলাল