উত্তরা যুবলীগের সম্মেলন : মডেল টাউনে পদ চান ডজন প্রার্থী

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:০৭ | আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:৪৯

বদরুল আলম মজুমদার

বৃহত্তর উত্তরা আওয়ামী লীগের মর্যাদাপূর্ণ দুটি ওয়ার্ড উত্তরা পূর্ব ও উত্তরা পশ্চিম। এ দুটি ওয়ার্ডে এবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রকাশ্যে এবং অপ্রকাশ্যে প্রায় ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার উত্তরা আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বৃহত্তর উত্তরা যুবলীগের ৮টি ওয়ার্ডে সম্মেলন হতে যাচ্ছে।

এর আগে ২০১৭ সালে রাজধানীর কামার পাড়া হাইস্কুল মাঠে তুরাগের চারটি ওয়ার্ডের সম্মেলন হয়। এবারের সম্মেলনে সবার্ধিক সংখ্যক ওয়ার্ড জড়িত থাকায় জমজমাট একটি সম্মেলনের ইঙ্গিত ছিয়েছেন আয়োজকরা। যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক এতে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় এমপি অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। 

বৃহত্তর উত্তরা যুবলীগের একাধিক সূত্র জানায়, এবারের সম্মেলন শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় স্থানীয় ওয়ার্ডগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হবে। একই সাথে প্রতিটি ওয়ার্ডে সুপার ফাইভ কমিটির ঘোষণাও থাকতে পারে। উত্তর সিটির ১ নং ওয়ার্ডটি মডেল টাউন হিসেবে পরিচিত। আগে এখানে একটি কমিটি থাকলেও এবার প্রশাসনিক থানা হিসেবে এখানে সাংগঠনিক দুটি ওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়েছে। ১নং ওয়ার্ডে (উত্তরা পূর্ব থানায়) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে অনেকেই নিজেদের সিভি জমা দিয়েছেন নগর নেতাদের কাছে। পদ পাওয়ার জন্য এখানে রয়েছে ব্যাপক প্রতিযোগিতাও। নগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলয়ে বেশ কয়েকজন প্রার্থী এখানে জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন। শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠে যুবলীগের এ ওয়ার্ডের দায়িত্ব—তা নিয়ে তৃণমূল নেতারাও বেশ তৎপর। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে বড় ধরণের শোডাউনের প্রস্তুতিও রয়েছে তাদের। 

এখানে প্রার্থী হিসেবে চমক দেখাতে পারেন মডেল টাউন থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইদুল ইসলাম সোহেল। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের তার সরব উপস্থিতি এবং স্থানীয় ও নগর নেতাদের সাথে ঘনিষ্টতা তাকে অনেকের থেকেই এগিয়ে রেখেছে। যুবলীগের উত্তরা পশ্চিম এলাকায় ব্যাপক সমাগম করতে সক্ষম এ নেতা এবার এ ওয়ার্ডে সভাপতি হিসেবে শক্তিশালী প্রার্থী বলেই মনে করছেন তৃণমূল নেতারা। তবে এ বিষয়ে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, শক্তিশালী প্রার্থী কিনা জানি না, তবে যুবলীগ আমার প্রাণের সংগঠন। তাই এই সংগঠন ও এর নেতারা আমাকে কখনো নিরাশ করবেন না এটা আমার বিশ্বাস। বাকিটা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা। 

এখানে আরো যে কয়জন প্রার্থী সভাপতি পদে আসতে চান, তাদের মাঝে অন্যতম হচ্ছেন এ ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, সাংগঠিক সম্পাদক বুলবুল আহমেদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, আচ্ছাদুজ্জামান খান চন্নু, একই কমিটির অর্থ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মাহী। এছাড়া বিশেষ এক নেতার আশির্বাদে এখানে প্রার্থী হয়েছেন ব্যবসায়ী ও উত্তরা ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল। 

সভাপতি প্রার্থী বুলবুল আহমেদ বলেন, আমার ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফারুক হোসেন আকাশ নগরে রাজনীতি করবেন, তাই এ ওয়ার্ডের সাবেক নেতাদের মধ্যে আমার অবস্থান আল্লাহর রহমতে ভালো। 

এখানে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী আছেন, ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রাজ্জাক, রতন দেওয়ান ও মুহিতুল আলম। ধারণা করা হচ্ছে এখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এমন দুইজনকে বেছে নেওয়া হতে পারে যারা সার্বক্ষণিক দলের জন্য নিবেদিত এবং যেকোনো ধরণের কলঙ্ক থেকে মুক্ত। সেই বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত কার হাতে দায়িত্ব যায়, তা আগাম বলাও যাচ্ছে না।

অন্যদিকে মডেল টাউন ১নং ওয়ার্ড (পূর্ব থানা) এ প্রার্থীতা জমে উঠেছে। বেশ কয়েকজন যোগ্য প্রার্থী একই এলাকায় পদ দাবি করায় নেতাদের জন্যও বিষয়টি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ওয়ার্ড থেকে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সাবেক মডেল টাউনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আজাহার। তিনি নগর সভাপতির ব্লকে রাজনীতি করেন। সভাপতির নিজ জেলায় বাড়ি হওয়ার সুবাধে তিনি একটু রিল্যাক্স আছেন বলে শোনা যায়। তবে দলের অপর প্রার্থীরাও কোনো অংশেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আজহারের থেকে কম নয়। এখানে সভাপতি পদে আসতে চান উত্তরা আজমপুর কাঁচাএলাকার ব্যবসায়ী শাওন সরকার। তিনি সাবেক ছাত্রনেতা, ছাত্র সংসদের নির্বাচিত নাট্য সম্পাদক এবং ২০০৬ সালে অক্টোবরে জামাত-বিএনপির সময় উত্তরা থানায় ৩টি মামলায় গ্রেফতার হয়ে ২ মাস  ১০ দিন কারাবরণ করেন।

এ ওয়ার্ডের সাবেক নেতা আব্বাস আলী মোল্লা ও ইব্রাহিম খলিল হিরো। সাধারণ সম্পাদক পদে এখানে আসতে চান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন রুবেল ও মেহেদি হাসান মিজান। 

সভাপতি পদে জোরালো প্রার্থী আব্বাস আলী খান প্রতিবেদককে বলেন, যুবলীগের রাজনীতি করি দীর্ঘ প্রায় ২০-২২ বছর। এ দীর্ঘ জীবনে পার্টিকে ব্যবহার করে কোনও সুবিধা নেওয়ার কথা চিন্তা করিনি। দলের সুদিন-দুর্দিন সব সময় পাশের থাকার চেষ্টা করি। আশা করি, প্রাণের সংগঠনের নেতারা আমাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করবেন।

এখানে সাধারণ সম্পাদক পদে একমাত্র শক্তিশালী প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন রুবেল। তিনি এ পদে আসার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। সাবেক এ ছাত্রনেতা স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার সুনজরে থাকায় তার এ পদে আসতে তেমন অসুবিধা হওয়ার কথা নয় বলে জানিয়েছন তার ব্লকে রাজনীতি করা একাধিক শুভাকাঙ্ক্ষী।

পিডিএসও/রি.মা /হেলাল