উত্তরা যুবলীগের সম্মেলন, প্রভাবশালী প্রার্থী যারা

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:১৪ | আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:২৪

বদরুল আলম মজুমদার

বৃহত্তর উত্তরার ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২০ সেপ্টেম্বর ৮টি ওয়ার্ডের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উত্তরা আজমপুরের এ সম্মেলনে যুবলীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানীর উত্তর খান থানার ৩টি ওয়ার্ডে প্রায় ১৫/২০ জন প্রার্থী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। প্রসাশনিক থানা ও উইনিয়নটি ভেঙে এখানে উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩টি নতুন ওর্য়াড গঠিত হয়েছে। এ ওয়ার্ডগুলোতে প্রধান দুটি পদে আসতে সংশ্লিষ্ট নেতারা নগরের দুই শীর্ষ নেতার পাশাপাশি উত্তর খান থানা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের আনুকুল্য পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাপ করছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৪৪ নং ওয়ার্ডে যুবলীগের পদ পেতে বেশ কয়েকজন নেতা জোর চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে প্রার্থীদের একজন তার পদ পাওয়ার ব্যপারে প্রতিবেদককে ৯৯.৯ % নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তিনি জানান, আমি ইসমাইল ভাইয়ের সাথে রাজনীতি করি, নগর উত্তর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একজন সহ-সভাপতির সাথে আছি, তারাসহ স্থানীয় আরো অনেকেই আমাকে এ পদে দেখতে চায়। তাই আমি মনে করি আমার এ পদ পাওয়া সময়ের ব্যপারমাত্র।

এ দিকে এখানের প্রার্থীরা কৌশল করে আপন ভাই, ভাতিজাকেও ডামি প্রার্থী করেছেন। তবে এসব ডামি প্রার্থী মাঠে থাকলেও সাধারণ সম্পাদক পদে ‘নাজমুল’ নামের একজনের পদ পাওয়ার ব্যপারে অন্য এক নেতা শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে আরো জানতে হলে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষার পরামর্শ দেন ঐ নেতা। এ দিকে এ ওর্য়াডে সভাপতি পদে থাকতে চান উত্তর খান (পূর্ব) সভাপতি তাইজুল ইসলাম। তিনি আগে ইউনিয়নটির অর্ধেকের সভাপতি থাকলেও এবার তিনি আসতে চান ওয়ার্ডে। যদিও তরুণ প্রার্থীরা বলছেন, পুরোনোদের ওপরে নেওয়ার কথা নেতারা বলেছেন। তাই ওনাদের এখানে থাকার ব্যপারে অনেকে সন্দিহান হলেও এ ওয়ার্ডে শক্তিশালী প্রার্থী তিনি। এ ওয়ার্ডে অপর এক সভাপতি প্রার্থী সুরুজ্জামান বেপারি প্রতিবেদককে বলেন, দলের জন্য রাতদিন কাজ করি। দল এবার মূল্যায়ন করবে বলে আশাবাদি। অপর দিকে এ ওয়ার্ডে সাধারণ সম্পাদক পদে আরিফুল ইসলাম প্রিন্সও পদ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদি। 

৪৫ নং ওয়ার্ডে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেলেও এখানে শক্তিশালী প্রার্থীদের মধ্যে যারা বেশ তৎপর তারা হলেন, সভাপতি পদে মাজহারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক পদে রায়হান হোসেন, মামুন হোসেন সেন্টু, মহিউদ্দিন শিমুল ও সবুজ উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে সভাপতি পদে আসতে চান মাহরুল ইসলাম।

তিনি প্রতিবেদককে বলেন, পদ পাওয়ার অনেক কাজ করতে হচ্ছে। কে কোথায় প্রার্থী আছে বলতে পারবো না। নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা আরো বলেন, আশা করি দল আমাকে এবার সঠিক মূল্যায়ণ করবে। এ ওয়ার্ডে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী বলেন, আমরা এখানে যুবলীগের পতাকা তুলে ধরেছি অনেক আগেই। আশা করি দলের নেতারা আমাকে দেখবেন। এ ওয়ার্ডে দলের অপর প্রার্থীদের সঙ্গে যোগযোগ করা সম্ভব হয়নি। 

এর বাইরে উত্তর খানের ৪৬ নং ওয়ার্ডে যুবলীগের সভাপতি পদে মুল প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন মোতাহার হোসেন। তিনি ইউনিয়ন (পূর্ব) কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এবার তিনি এ ওয়ার্ডে সভাপতি পদে একজন শক্তিশালী প্রার্থী। দলের তৃর্নমূল নেতারাও মনে করছেন এ ওয়ার্ডে সভাপতি হচ্ছেন মোতাহার হোসেনই। তবে তার বাইরে অন্য অরো দুইজন প্রার্থী থাকার কথা জানা গেলেও তাদের নাম জানা যায়নি। কারণ হিসেবে নেতাকর্মীরা বলছেন, অনেকে কৌশলগত কারণে সরাসরি প্রার্থী না হয়ে ভেতর ভেতর পদের জন্য দৌড়ঝাপ করছেন। পদ পেলেই তারা সামনে আসবেন অন্যথায় গোপনই থেকে যাবেন।

এখানে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন যুবনেতা আমির হোসেন। তিনি পদ পাওয়ার ব্যপারে যথেষ্ঠ আশাবাদি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের সুদিন-দূর্দিন সব সময়ই পাশে আছি। দলের বদনাম হবে তাই অনেক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেকের মতো স্রোতে গা ভাসাইনি। আশা করি দল এবার মূল্যায়ন করবে।

পিডিএসও/রি.মা