জাপার দুর্গে নজর আ.লীগ-বিএনপির

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:০৮

বদরুল আলম মজুমদার

গৃহবিবাদে দুর্বল হয়ে পড়ার সুযোগে লাঙ্গলের দুর্গে হানা দিতে এবার তৎপর হয়ে উঠেছে বড় দুই দল। এতে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত লাঙ্গলের দুর্গে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ধরাশায়ী হতে পারে জাতীয় পার্টি। রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে জাতীয় পার্টি এখন দ্বিধা বিভক্ত এবং দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে।

রওশনপন্থি অংশের নেতারা এরশাদপুত্র রাহগির আল মাহির সাদকে মনোনয়ন দিতে পারেন। আজ প্রার্থী ঘোষণা করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পিছু হটেন রওশন। অপরদিকে, জি এম কাদেরপন্থি নেতারা রংপুর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিরকে প্রার্থী ঠিক করে রেখেছেন। জাতীয় পার্টির এই বিভেদের সুযোগ নিয়ে বাগড়া দিতে পারেন এরশাদের ভাতিজা আসিফ। আর জাতীয় পার্টির এই গৃহবিবাদে লাঙ্গলের দুর্গে হানা দিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

রংপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে ১৬ নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত এ আসনে নৌকার কাণ্ডারী হতে পারেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জমান। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বাইরে এবার আসনটি দখলে নিতে কোমর বেঁধে নেমেছে বিএনপিও। রংপুর-৩ আসনে রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন প্রার্থী ঠিক থাকলেও কয়েক দিন আগে তিনি মারা যান। তাই এখন পর্যন্ত দলটির ৫ নেতা নির্বাচন করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। সব ঠিক থাকলে এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন দলের ২০ দলীয় জোটের রিটা রহমান অথবা মোজাফ্ফরের স্ত্রী।

গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেনি। কৌশলের কারণে জাতীয় পার্টির দুই অংশ তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণায় দেরি করছে। তবে আজকের মধ্যেই প্রার্থিতার বিষয়টি তাদের পরিষ্কার করতে হবে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রওশন এবং জি এম কাদেরের বিরোধ মীমাংসা করতে দুই পক্ষের সিনিয়র আটজন নেতা নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠকটি চলছিল। তিনটি বড় দলই তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা না করলেও দলের তৃর্ণমূল পর্যায়ে নির্বাচন প্রস্তুতির কাজ চলছে পুরোদমে। আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা না দিলেও ভোটের মাঠ এরই মধ্যে গরম হয়ে উঠেছে। জি এম কাদের এবং রওশনের সমঝোতা না হলে দুই পক্ষই আলাদা প্রার্থী দেবেন। স্থানীয় রাজনীতি বিশ্লেষক, সুধী সমাজ ও সাধারণ ভোটাররা জানায়, রংপুরের জাতীয় পার্টির সবচেয়ে আবেগের নামটি হলো এরশাদ। জাতীয় পার্টি একক প্রার্থী দিতে পারলে লাঙ্গলের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। তবে জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী থাকলে আওয়ামী লীগের বিজয়ের সুযোগ তৈরি হবে। আবার লাঙ্গল ও নৌকার মাঝখানে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারে ধানের শীষও।

এদিকে, রংপুরে আওয়ামী লীগের পক্ষে ‘আর কোনো ছাড় নয়, রংপুর-৩ আসনে নৌকা চাই’ স্লোগান শোনা যাচ্ছে। দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী ১৬ নেতাই নৌকা প্রতীক পেতে তৎপর। তাদের অনুসারীরা এরই মধ্যে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী জানান, মনোনয়ন পেতে আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। তবে কোনো ধরনের বিরোধ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষেই কাজ করবেন সবাই।

মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তিনবারের সরকারের আমলে দেশে যে নজিরবিহীন উন্নয়ন হয়েছে, রংপুরবাসী সে উন্নয়নের সমান অংশীদার হতে পারেনি। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে রংপুর বিভাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রংপুর-৩ আসনে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকা। বিষয়টি এখানকার মানুষও উপলব্ধি করছে। মানুষ এখন আর এরশাদময় আবেগ নয়, উন্নয়ন চাচ্ছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগের দফতর সূত্র জানায়, দল থেকে যে ১৬ জন মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সেগুলো যাচাই-বাছাই হচ্ছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনে মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মনোনয়ন বোর্ডের সভা চলছিল। আবেদন ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রোজী রহমান প্রমুখ।

জাতীয় পার্টি থেকে ফরম নিয়েছেন পাঁচজন এরশাদের ভাগনি মেহেজেবুন নেসা টুম্পা, এরশাদপুত্র সাদ এরশাদ, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, মহানগর জাতীয় পার্টির এস এম ইয়াসির ও জেলা জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুর রাজ্জাক।

বিএনপি থেকে পাঁচজন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমাও দিয়েছেন বলে জানান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম। তারা হলেন রংপুর মহানগর বিএনপির সহসভাপতি কাওছার জামান বাবলা, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিজু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রইচ আহমেদ, সদ্য প্রয়াত রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া হোসেন ও ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ পিপলস পার্টির সভাপতি রিটা রহমান। বিএনপির প্রার্থী ঠিক করতে দলটির নেতারা গুলশানের অফিসে বৈঠকে বসেছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রার্থী হিসেবে এখনো কারোর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

পিডিএসও/হেলাল