তুরাগ যুবলীগ

প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে যা বলছেন ত্যাগীরা

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৯, ২০:৫১ | আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৯, ১০:২৩

বদরুল আলম মজুমদার
উপরে (বাম থেকে) কাইয়ুম ও হারুন, নিচে (বাম থেকে) মিলন ও জাকির

রাজধানী তুরাগের যুবলীগের ধারাবাহিক প্রতিবেদন নিয়ে গত কয়েক দিনে বেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুবলীগসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে যথাযথ মতামত তুলে ধরেছেন প্রতিবেদকের কাছে। তাছাড়া স্থানীয় যুবলীগের সিনিয়র নেতারা বলছেন, অনেক বছর ধরে যুবলীগের কমিটি হয় না। এবার যেহেতু কমিটি ঘোষণার সময় হয়েছে তাই যোগ্যদের এগিয়ে আনতে হবে। বর্তমান সরকারের ক্ষমতাসীন সময়ে হঠাৎ আগন্তুক নেতাদের দিয়ে দল গঠন করা হলে তা হবে আত্বঘাতী। যারা দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় যুবলীগের পতাকাকে আঁকড়ে ধরে অনেক জুলুম নির্যাতন সয়েছেন তাদেরই অগ্রাধিকার দিতে হবে। এর বাইরে কিছু হলে যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা প্রতিবেদককে বলেন, ৫২ ওয়ার্ডে যুবলীগে গত প্রায় ২৫ বছর থেকে দলকে সংগঠিত করতে কাজ করছেন আব্দুছ সালাম কাউয়ুম। গত সরকারের আমলে পুলিশি নির্যাতনে সে প্রায় পঙ্গুত্ব বরণ করতে যাচ্ছিল। আল্লাহ ওর হায়াত রেখেছে বলে এখনো বেঁচে আছে। গোটা দলিপাড়া বাউনিয়াসহ এ অঞ্চলে যুবলীগ বলতে সবাই কাইয়ুমকেই চিনতো। এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে হিসেবে ভালো একটি ইমেজও সে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এ নিয়ে কাইয়ুমও প্রতিবেদকরে কাছে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি জানান, দল যাকে ইচ্ছা দায়িত্ব দিতে পারে। তবে তিনি অনুরোধ করেন, দলের প্রতি কার কতটুকু অবদান সেটা অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।

এ ওয়ার্ডে আরো একজন ত্যাগী নেতা সভাপতি পদে আসতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি হচ্ছেন সাবেক হরিরামপুর ইউপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন হোসেন রানা। প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে তিনি বলেন, যুবলীগে আজ অনেক পদ প্রত্যাশী। অথচ আমরা যখন থেকে যুবলীগ করি তখন অনেকে এ এলাকায় আসেননি। তাই পদ পদবি দিতে হলে অবশ্যই বিচার বিশ্লেষণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমি যে কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম সেই এলাকাটি ভাগ করে চারটি ওয়ার্ড হয়েছে। সেই হিসেবে আমি একটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব চাই। আশা করি নগর নেতারা আমার প্রতি সুবিচার করবেন।

তবে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে অনেকেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন নতুন বা পুরাতন নয় দলকে যারা এগিয়ে নিতে পারবে তাদের হাতেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া যেতে পারে। এর বাইরে ৫৪ নং ওয়ার্ড নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় যুবলীগ নেতারা। তাদেরও দাবি, কমিটি দিতে হবে যোগ্যদের হাতে। কোনও সিন্ডিকেটের কাছে দলকে জিম্মি না করে, দলে কার কতটুকু অবদান সেটি বিবেচনায় নিতে হবে।

এই ওয়ার্ডে সভাপতি পদ প্রত্যাশী হারুনূর রশিদ হারুন প্রতিবেদককে বলেন, তুরাগের যুবলীগ বলতে অনেকের নাম আজ দেখছি। অথচ এলাকায় আমরাই যুবলীগকে বড় করেছি। লালন করেছি। এখন অনেকেই যুবলীগের কথা বলে। এটা মানতে পারি না। এ দল করতে গিয়ে অনেক কিছু হারিয়েছি। মুজিব আদর্শকে সামনে রেখে আগেও নিবেদিত ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকতে চাই। পদ পদবি কি দেবেন-না দেবেন সেটা নগর নেতারা বিবেচনা করবেন। আমার দায়িত্ব কাজ করে যাওয়া।

এর বাইরে এ ওয়ার্ডে সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে কাজ করছেন জাকারিয়া পাটওয়ারী (জাকির)। তিনি রাজধানী মিরপুর কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা। বর্তমানে কাজ করছেন ৫৪ নং ওয়ার্ড যুবলীগে। এর বাইরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গেও জড়িছেন নিজেকে। দীর্ঘদিন থেকেই তুরাগ যুবলীগে একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে সব কয়টি প্রোগ্রামে তার উপস্থিতি নজর কেড়েছে সবার। ব্যবসায়ী এ যুবনেতা তুরাগ থানা ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ভাটুলিয়া মহিলা মাদ্রাসার গর্ভনিং বডির দায়িত্বেও ছিলেন। সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে এবার এ ওয়ার্ডে যুবলীগের দায়িত্ব পাবেন বলে বেশ আশাবাদী তিনি।

জাকারিয়া পাটওয়ারী বলেন, মহানগর উত্তর আওয়ামী যুবলীগের নেতাদের প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস আছে—তারা আওয়ামী পরিবারের সন্তান হিসেবে ও বিগত দিনের রাজনৈতিক পরিশ্রমের মূল্যায়ন করবেন।

এছাড়া ৫৩ নং ওয়ার্ডে সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেতে কাজ করছেন আরেক যুবনেতা গোলাম রাব্বানী রাজিব। গোপালগঞ্জের টুঙ্গি পাড়া নিবাসী এ যুবনেতা নগর সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেনের একনিষ্ট কর্মী হিসেবে দীর্গদিন থেকেই ৫৩ নং ওয়ার্ডে কাজ করছেন।

তুরাগের স্থায়ী বাসিন্দা হতে যাওয়া এ নেতা প্রতিবেদককে বলেন, নগরের সিনিয়র নেতাদের পরামর্শে আমি এ ওয়ার্ডে কাজ করছি, তাই একটা ভালো কিছু আশা অবশ্যই রাখছি। নেতারা যখন যা বলেন তা পালন করা আমার দায়িত্ব।

পিডিএসও/রি.মা/হেলাল