৫১ নং ওয়ার্ড যুবলীগ

জুয়েল-নাজমুলেই চোখ সবার

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৯, ১৮:৪০ | আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৯, ১৮:৫৩

বদরুল আলম মজুমদার

সিটির ৫১ নং ওয়ার্ডটি তুরাগের সাবেক হরিরামপুর ইউপির অংশ হলেও উত্তরার ১১,১২,১৩ ও ১৪ নং সেক্টর দিয়ে গঠিত এলাকাটি রাজধানী উত্তরার প্রাণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। উত্তরা ও নতুন সেক্টর এর মাঝামাঝিতে অবস্থিত সিটির এ ওয়ার্ডটি এখন অনেক বেশি বাণিজ্যিক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। স্বাভাবিক ভাবে এই এলাকার প্রতি নজর পদ প্রত্যাশীদের। উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা অন্তরগত যুবলীগের এ সাংগঠনিক ওয়ার্ডে নেতৃত্ব দিতে কম-বেশি ১০-১২ জনের নাম শোনা যায়। তবে পদ প্রত্যাশীরা যে যার মতো করেই গুছিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন নিজেদের। ভি আই পি অধ্যুষিত এ ওয়ার্ডের নেতাদের লবিং-তদবিরও অনেকটা হাই প্রোফাইলের। তাই কমিটি ঘোষণার আগে পদ প্রত্যাশীরা তাদের নিজেদের ‘লবিং প্রোফাইল’ বাড়াতেই ব্যস্ত।

সামাজিক মর্যাদা, কর্মী যোগাযোগ ও আর্থিক দিক থেকে এ ওয়ার্ডের প্রার্থীদের মধ্যে সভাপতি পদে ইফতেখারুল ইসলাম জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক পদে নাজমুল হাসানের নাম উঠে আসে সবার আগে। এর বাইরে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী পদ দুটি পেতে লড়ে যাচ্ছেন।

জানা যায়, সাবেক তিতুমীর কলেজের ছাত্রনেতা মাহবুবুল আলম অরুন, সাবেক ছাত্র নেতা মাহমুদুল হাসান সুমন, মাহবুব সরকার, গোলাম মর্তূজা, রতন দেওয়ানসহ আরো বেশ কয়েকজন। এদের সবাই এ ওয়ার্ডটিতে পদ পেতে জোর চেষ্টা চালালেও প্রোগ্রাম করার দিক থেকে অনেকেই থাকেন গর হাজির।

এর মধ্যে স্থানীয় ও নগর কেন্দ্রিক সব কয়টি প্রোগ্রামে সর্বাধিক সংখ্যক কর্মী নিয়ে জুয়েলের জোরালো উপস্থিতি ইতোমধ্যে নজর কেড়েছে সবার। এ নিয়ে নগর নেতারাও তার প্রতি ‘হ্যাপি’ বলে শোনা যায়। এর বাইরে ব্যক্তিগত সাংগঠনিক দক্ষতা, নিজস্ব আর্থিক সঙ্গতি একটি বাড়তি যোগ্যতা বলেই অনেকের ধারণা। এছাড়া তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একটি পরিবারের সদস্য হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে এ পদে দেখতে চায়। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও ব্যপক কর্মী যোগাযোগ জুয়েলের চাওয়াকে আরো বেশি সমর্থন জুগিয়েছে। এছাড়া গত সিটি নির্বাচনে সে এ ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করে সবাইকে অবাক করেছেন। সেই নির্বাচনে প্রথমবার নেমে ভালো রেজাল্টও তুলে আনতে সক্ষম হন তিনি।

আরও পড়ুন : প্রচার আছে ২ জনের, প্রত্যাশী অনেক

এ বিষয়ে জুয়েল প্রতিবেদককে বলেন, এ ওয়ার্ডেও যুবলীগকে শক্তিশালী করতে আমি কাজ করে যাচ্ছি। দলের সিনিয়রদের পরামর্শে প্রতিটি প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে থাকি। আওয়ামী পরিবারের সন্তান হিসেবে আমার জন্য দলকে কখনো বদনামের ভাগি হতে দিবো না। দায়িত্ব পেলে আমার ব্যক্তিগত মেধা আর শ্রম দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে পারবো, ইনশাহআল্লাহ।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আরেক প্রার্থী নাজমুল হাসান। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশিম, হরিরামপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও বৃহত্তর উত্তরা আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এলাকার আওয়ামী পরিবারের অনেকেরই রাজনৈতিক গুরু তার পিতা। প্রবীন আওয়ামী পরিবার হিসেবে তাদের বাড়তি একটি কদরও রয়েছে এলাকায়। সাবেক ছাত্র নেতা নাজমুল হাসান তুরাগ থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে যুবলীগ উত্তরের নগর সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেনের একনিষ্ট কর্মী হিসেবে রাজপথে সরব রয়েছেন। তার পরিবার ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, সে সিটির ৫৩ ও ৫১ নং ওয়ার্ডের যে কোনও একটির দায়িত্বে আসতে চান। তবে তার নিজের ইচ্ছা ৫১ নং ওয়ার্ডে কাজ করার। তারপরও নগর নেতারা এ দুই ওয়ার্ডের যেখানেই দায়িত্ব দেন, কাজ করতে আপত্তি নেই তার।

এ ওয়ার্ডে সভাপতি পদে আসতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মাহবুবুল আলম অরুন। নগরের এক সাংগঠনিক সম্পাদকের ঘনিষ্ট বন্ধু এ নেতা তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগে এক সময় সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তৎকালীন সরকারের সময় নগর উত্তর আওয়ামী লীগ নেতা কাদের খানের সঙ্গে জেলও খাটেন। অপর দিকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জোর আলোচনায় আছেন মাহমুদুল হাসান, তিনি যুবলীগের সাবেক এক কেন্দ্রীয় নেতার রিলেটিভ। প্রাইভেট ভার্সিটি ছাত্রলীগের সাবেক এ নেতার রাজপথের ভুমিকা ছিলো জোরালো। এর বাইরে গোলাম মূর্তজা, মাহবুব সরকার ও রতন দেওয়ান ভালো লবিং দিয়ে বেশ এগিয়েছেন।

পিডিএসও/রি.মা