৫৪ নং ওয়ার্ড যুবলীগ কমিটি

যোগ্যদের হাতেই উঠতে পারে দায়িত্ব

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯, ২০:৪৩

বদরুল আলম মজুমদার

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ওয়ার্ড কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে নগরের ওয়ার্ড কমিটিগুলো আগামী সেপ্টেম্বরের আগে শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। উত্তর সিটির ৫৪ নং ওয়ার্ড হচ্ছে রাজধানী তুরাগের অন্তরগত ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে প্রেস্টিজিয়াস ওয়ার্ড। তাই এখানে নেতৃত্ব পেতে আগে থেকেই শুরু হয়েছে ব্যাপক দৌড়ঝাপ। আবার দলের সিনিয়র নেতারাও চাচ্ছেন ক্লিন ইমেজ ও শিক্ষিতদের হাতেই দায়িত্ব উঠুক। 

গত প্রায় অনেক বছর থেকেই তুরাগ যুবলীগের স্থানীয় কোনো কমিটি নেই। দীর্ঘদিন পরে কমিটি হবে শুনে এখন পদপ্রত্যাশীরা একটু নড়েচড়ে বসছেন। যোগাযোগ বাড়িয়েছেন কেন্দ্রের সাথে। যুবলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিটি এলাকায় কোন থানা কমিটি রাখা হবে না। তাই তুরাগ থানা আহ্বায়ক কমিটির নামে যে একটি কমিটির প্রচার চালাচ্ছে একটি পক্ষ তা আসলে গঠনতন্ত্রবিরোধী। এ ধরণের প্রচারের কোন সুযোগ নেই বলে জানা গেছে। তারপরও একটি সুযোগ সন্ধানী গ্রুপ থানা আহ্বায়ক কমিটির প্রচার চালিয়ে নানা কর্ম-অপকর্ম করে যাচ্ছেন বলে জোরালো অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া ৪ বছর আগে মাত্র তিনজনকে দিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয় শুধু এক বছরের জন্য। যার কার্যকরিতা হারিয়েছে অনেক আগেই। তাই বাস্তব পক্ষে তুরাগ এলাকায় যুবলীগের কোন কমিটিরই বর্তমান অস্তিত্ব নেই। 

এরই প্রেক্ষাপটে নতুন গঠতে যাওয়া ওয়ার্ড কমিটিতে পদ পেতে মরিয়া অনেকেই। এ নিয়ে গ্রুপভিত্তিক দল উপদলও তৈরি হয়েছে। যার প্রকাশ্যে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন নগর নেতারা। ৫৪ নং কমিটিতে আসার জন্য এখন পর্যন্ত যারা কাজ করছেন তাদের মধ্যে অন্যতম আশরাফুল আলম রুবেল। তিনি দীর্ঘ দিন থেকে ৫৪ নং ওয়ার্ড এলাকায় সবার্ধিক সংখ্যক কর্মী সমর্থক দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। পারিবারিক ঐতিহ্য ভালো থাকায় দলের সিনিয়র নেতাদের গুডবুকে আছেন তিনি। নিজেকে সভাপতি পদে যোগ্য হিসেবে দাবি করে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ দিন থেকে পদ-পদবী ছাড়াই দলের জন্য কাজ করছি। চাওয়ার পাওয়ার হিসেব না করেও আমি নিজের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দলের সর্বমহলে আমার গ্রহণযোগ্যতা আল্লাহর রহমতে ভালো। এখন সিনিয়ররা যেভাবে কাজ করতে বলবেন সেটাইকে আমার দায়িত্ব মনে করবো। বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে কাজ করছি সেটাই করে যাবো আমৃত্যু। 

একই ওয়ার্ডে আরেক সভাপতি পদপ্রত্যাশী হারুনূর রশিদ হারুন। তিনি নিজেকে এ এলাকার যুবলীগের ধারক বাহক দাবি করে বলেন, এলাকায় আমরাই যুবলীগকে বড় করেছি। লালন পালন করেছি। এখন অনেকেই যুবলীগের কথা বলে। এটা মানতে পারি না। তবে তার এ কথার সঙ্গে একমত হতে পারেননি পদপ্রত্যাশী আরো তিনজন নেতা। তারা মনে করছেন, যুবলীগকে খারাপ একটি চেহারায় পূনঃপ্রতিষ্ঠিত করতেই আগের ডোল বাজিয়ে চলেছেন। আসলে শিক্ষিত সজ্জনরা যাতে কমিটিতে না আসতে পারে এজন্য এরা সঙ্গবদ্ধ প্রচারণায় মেতেছেন। আসলে যোগ্যদের হাতে দায়িত্ব আসলে অনেক চাঁদাবাজ-ধান্ধাবাজকে হয়তো আর দেখা যাবে না। এটাই তাদের ভয়। 

দলের আরেক পদপ্রত্যাশী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও অস্ট্রেলিয়া ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রুবেল। দেশের সর্বোচ্ছ ডিগ্রিধারী এ তরুণ নেতা প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমরা আসলে আওয়ামী পরিবারকে ধারণ করি, লালন করি। প্রবাস জীবন শেষ করে গত কয়েক বছর থেকে ৫৪ নং ওয়ার্ড যুবলীগের হয়ে কাজ করছি। এর আগে তুরাগ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। অনেকেই অনেক কথা বলতে পারে তবে, যোগ্যতা বিচার করেই সিনিয়ররা দায়িত্ব দেবেন বলে আশা তার। 

এর বাইরে এ ওয়ার্ডে পদ পেতে কাজ করছেন জাকির হোসেন পাটোয়ারীসহ কয়েকজন। তারা প্রত্যেকেই মনে করছেন—কমিটি হবে হবে বলে অনেক কিছুই শুনি। কমিটি আর হয় না। তাই তাদের দাবি, সহসায় যেন কমিটিগুলো আলোর মুখ দেখে।    

পিডিএসও/হেলাল