আসছে বিশেষ আয়োজন

তারুণ্যের ভাবনায় আওয়ামী লীগ

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৯, ০৮:৪৩ | আপডেট : ১৯ জুন ২০১৯, ১৪:৩৯

জিয়াউদ্দিন রাজু

তারুণ্যের মেধা, নতুন চিন্তাধারা, সৃজনশীল মনোভাব দেশকে সামনের দিকে অনেক দূর এগিয়ে নেয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তোফায়েল আহমেদ, আবদুর রাজ্জাক, তাজউদ্দীন আহমদরা তরুণ বয়সেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে এই দেশকে স্বাধীন করেছেন। তার আগে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শত্রুদের বুলেটে বুকের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করে মায়ের ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তরুণরাই। স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে রাজনৈতিক সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে বিস্ময়কর উন্নয়নসহ সর্বত্র এ দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন তরুণরাই। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বের নানা স্তরে তরুণ প্রজন্মকে নির্দেশনা দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন তরুণরা। টানা তৃতীয়বারের মতো এই দলটির ক্ষমতায় আসার পেছনে কাজ করেছে তরুণ প্রজন্মের সমর্থন।

তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নেওয়ার উপকারিতা পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এ ব্যাপারে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তরুণ জনগোষ্ঠীর মনোভাব জানা—তারা আগামীতে কেমন আওয়ামী লীগ দেখতে চান। আওয়ামী লীগ তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনায় ঘরোয়া বৈঠক বসতে যাচ্ছে। বৈঠকে অংশ নেবেন সারা দেশের বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসার প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী। যেখানে ৭০ বছর পার করা আওয়ামী লীগ সম্পর্কেও থাকবে তাদের ধারণা ও নিজস্ব বিশ্লেষণ। আরো থাকছে-আইনের শাসন ও স্বাধীন বাংলাদেশে বিশ্বাসী সব দলের রাজনীতি চর্চার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আগামীতে দেশকে কীভাবে আরো সমৃদ্ধ করা যায় সেই বিষয়টিও। আর তরুণদের সব তথ্য পরামর্শ ও পরিকল্পনার কথা শুনবেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতারা।

তরুণদের মনোভাব জানার চেষ্টা কেন আওয়ামী লীগ করছে—এ প্রশ্নের জবাবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, এই দলটি সবসময় তারুণ্য নির্ভর। সুদূর অতীতের দিকে লক্ষ করলেও দেখবেন, দলের মাঠ পর্যায়ের আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনায় অংশ নিয়েছেন তরুণরা। দলের বয়স ৭০ হলেও দলটি যেন বুড়িয়ে না যায়, সে জন্য তরুণদের মনোভাব ধারণ করা জরুরি। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই তরুণদের ওপরই। তারই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে, দলের প্রচার উপকমিটির আয়োজিত ‘তারুণ্যের ভাবনায় আওয়ামী লীগ’ এ ধরনের শিরোনামে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঘরোয়া পরিবেশে একটি অনুষ্ঠান করা হবে। এটি অনেকটা ‘লেটস টক’-এর মতো একটা অনুষ্ঠান হবে। আগামী ২৯ জুন এই অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতারা।

ঘরোয়া বৈঠকে কোন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা থাকছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা থাকবেন। ইংলিশ মিডিয়াম পড়ুয়া, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে—কেমন আওয়ামী লীগ চাই এ ধরনের অনুষ্ঠান হবে। যেখানে প্রায় ৩০০ জন তরুণ শিক্ষার্থীরা থাকবেন। তারুণ্যের ভাবনায় আওয়ামী লীগ—এ ধরনের নাম দেওয়ার পরিকল্পনা করছে আমাদের উপপ্রচার কমিটি।

অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব আন্দোলন-সংগ্রাম, গৌরব ও অর্জনে তরুণেরাই অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। বিগত ৭০ বছরে আওয়ামী লীগের ইতিহাসে বিপর্যয়ের সময়ে তরুণরা আমাদের পাশে ছিলেন। তাই আগামীদিনেও তরুণদের ভাবনা জানতে চায় আওয়ামী লীগ। এ আলাপ-আলোচনার মূল্য উদ্দেশ্য হচ্ছে, কি করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আরো গতিশীল, আরো জনসম্পৃক্ত, আরো তারুণ্য সম্পৃক্ত করা যায়। পাশাপাশি আমাদের দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে কীভাবে সমৃদ্ধ দেশ গড়া যায় এ বিষয়টি নিয়েও তরুণদের সঙ্গে আলোচনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় তরুণদের অগ্রাধিকার দেন জানিয়ে তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন, যা লেটস টক নামকরণ করা হয়েছে। একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে তরুণদের যেভাবে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছেন, তৃতীয় বিশ্বে এ ধরনের নজির খুব একটা নেই।

পিডিএসও/হেলাল