আ.লীগের সম্মেলন

শর্তের বেড়াজালে পদপ্রত্যাশীরা

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ০৮:৪০

জিয়াউদ্দিন রাজু

আগামী অক্টোবরে হতে যাচ্ছে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন। সম্মেলন ঘিরে দলে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। নেতৃত্বের বিন্যাসে কারা আসবেন আর কারা বাদ পড়বেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এবার দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় ক্লিন ইমেজের নেতাদের নেতৃত্বে আনতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। এজন্য পদপ্রত্যাশীদের এবার হতে হবে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। কারণ পদ পেতে তাদের পূরণ করতে হবে কেন্দ্রের জুড়ে দেওয়া শর্ত।

আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, দলে যোগ দিয়ে অনেকেই আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। প্রতিদিনই দলে এদের সংখ্যা বাড়ছে। আর এদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে এ দলের অনেক অর্জন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। তবে এদের কর্মকান্ডের লাগাম টেনে ধরা হচ্ছে। দলে চালানো হচ্ছে শুদ্ধি অভিযান। এ ছাড়া সম্মেলনের আগে নতুন করে বিতর্কিত আর কেউ যেন দলে না ঢুকতে পারে; সে বিষয়েও সতর্ক দলীয় হাইকমান্ড। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন খোদ দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলীয় সূত্র জানায়, দলকে সব দিকে উজ্জ্বল করতে পারে—এমন নেতৃত্বকে প্রধান্য দেওয়া হবে। যার কারণে এবারের সম্মেলনে নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি নীতিমালা মানা হচ্ছে। শুধু কেন্দ্রীয় সম্মেলন নয়, এবার জেলা এবং মহানগর সম্মেলনেও মানা হবে একই নীতিমালা ও শর্ত।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে কাউন্সিলর নির্বাচনের শর্ত, ২০০৮ সাল বা তার আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে হবে। বিএনপি এবং জামায়াত থেকে বিএনপিতে আসা কেউ ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা বা অন্য কোনো জনপ্রতিনিধি হলেও কাউন্সিলর হতে পারবেন না। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত কেউ কাউন্সিলর হতে পারবেন না।

জঙ্গিবাদে সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত কাউকে কাউন্সিলর করা যাবে না। মাদক ব্যবসায়ে জড়িত তালিকাভুক্ত কেউ কাউন্সিলর হতে পারবেন না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত, নারী নির্যাতন বা যৌন হয়রানিতে অভিযুক্ত, দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনকারী, নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছেন—এমন কেউ কাউন্সিলর হতে পারবেন না। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে নেতাদের ব্যক্তিগত কর্মচারীদের কাউন্সিলর করা যাবে না। মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের পিএস, এপিএস, বা ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা কাউন্সিলর হতে পারবেন না। এ নির্দেশনা মেনে আগামী কোরবানির ঈদের পর থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেলা ও মহানগরীতে সম্মেলন করে কাউন্সিলর চূড়ান্ত করা হবে।

পিডিএসও/হেলাল