ঐক্যফ্রন্টের ফলশূন্য বৈঠক

কাদের সিদ্দিকী অনড়

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৯, ০৯:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই ঘণ্টার বৈঠকেও কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ফলে গতকাল সোমবারের বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই স্থগিত হয়েছে। ওই বৈঠকে কাদের সিদ্দিকীর আলটিমেটামের বিষয়টি এজেন্ডায় থাকলেও এ ব্যাপারে সুরাহা হয়নি। ফলে নিজের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন কাদের সিদ্দিকী।

উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় গতকাল বিকেল ৪টায় বৈঠকে বসেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। এই বৈঠকে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ছাড়া ঐক্যফ্রন্টের বেশিরভাগ নেতাই উপস্থিত ছিলেন।

নিজেদের মধ্যে ঐক্য অটুট রাখা, আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণের পাশাপাশি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর আলটিমেটামের বিষয়টির সুরাহা হওয়ার কথা ছিল। সংসদ সদস্য হিসেবে ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সাতজন শপথ নেওয়ায় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার আলটিমেটাম দেন কাদের সিদ্দিকী। ৮ জুন এই আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও আরো দুই দিন সময় দেন কাদের সিদ্দিকী। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টির সুরাহার জন্য ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বৈঠকে বসেন। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৈঠক হলেও নিজেদের মধ্যে কেবল আলোচনা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র আ স ম আবদুর রব ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আজকের বৈঠকে ড. কামাল হোসেন উপস্থিত না থাকায় আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। তাই বৈঠকটি আজকের মতো স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আবার বৈঠকে বসা হবে।’ আ স ম রব আরো বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করা পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু এখনো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। ভবিষ্যতে বৃহৎ ঐক্য গড়ে তোলা হবে।’

এদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। এরই মধ্যে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে আমার। আশা করি খুব শিগগিরই আবার বৈঠকে বসব। ড. কামালের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার পরই আমি আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাব। আমি যে আলটিমেটাম দিয়েছিলাম সে বিষয়ে অটল আছি।’

ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ইকবাল সিদ্দিকী, বিকল্পধারার একাংশের সভাপতি নূরুল আমিন ব্যাপারী, মহাসচিব শাহ আহমদ বাদল, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া। এ ছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না না এলেও তিনি দুজন প্রতিনিধি পাঠান। তারা হলেন নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মো. জাহিদ ও মমিনুল হক।

পিডিএসও/হেলাল