দাঁড়াতে পারছে না বিএনপি

প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৯, ০৯:১৫ | আপডেট : ১৯ মে ২০১৯, ১৪:৩৩

বদরুল আলম মজুমদার

শুধু সিদ্ধান্তহীনতার কারণে দেশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হাতছাড়া করেছে বিএনপি। নিজের শক্ত অবস্থান থেকে টলে যাচ্ছে, দাঁড়াতে পারছে না। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বদলে ফেলছে দলের দীর্ঘদিনের অবস্থান। সংসদে যোগ দিয়ে এই সরকারকে মেনে নেওয়ার বিষয়টিও ভালোভাবে নিতে পারছে না শরিকরা। কার্যকরী নেতৃত্ব ও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে সমালোচনা শুনতে হচ্ছে শরিকদের। এই হতাশা নিয়ে একটি দল জোট থেকে বের হয়ে যায়। ক্ষুব্ধ আরো কয়েকটি দল। এ অবস্থায় বিএনপি কি কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাবে কিংবা সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়েও হতাশ অনেকে। তাই দলটির ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে ভেতর বাইরের শুভাকাঙ্ক্ষীরা এক ধরনের অন্ধকারেই আছে।

সূত্র জানায়, শেষ সময়ে বিএনপি সংসদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে অন্ধাকারেই ছিল শরিক ও তৃণমূল। হঠাৎ কেন বিএনপি এমন সিদ্ধান্ত নিতে গেল তার হিসাব মিলাতে পারছেন না অনেকে। সংসদে যোগ দেওয়ার বিষয়টি সমঝোতার অংশ কি না এ নিয়ে নেতাদের মনে প্রশ্ন রয়েছে। সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তি বিষয়ে সরকারকে নমনীয় করতেই সংসদে যায় বিএনপি। এ নিয়ে দুটি পক্ষের আলাপ-আলোচনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হলেও তার সত্যতা মেলেনি। আবার খালেদা মুক্তির সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি সংসদে যোগ দিলেও মহাসচিব না যাওয়ার কারণ কি তারও হিসাব মেলাতে পারছে না কেউ। শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মুক্তি না মিললে সংসদে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের মাঝে নতুন প্রশ্ন উঠতে পারে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির সমঝোতার অংশ হিসেবে সংসদে যোগ দিয়েছে বিএনপি এমন প্রশ্নের জবাবে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান দুদু বলেন, কোথায় কি সমঝোতা হয়েছে, সেটি বলতে পারব না। তবে এটুকু জানি দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে বিএনপি সংসদে যোগ দিয়েছে।

অনেকে মনে করছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো নেতৃত্ব দলে অনুপস্থিত। যৌথ নেতৃত্বে দল পরিচালিত হচ্ছে বলা হলেও এতে কেউ বিচক্ষণতা দেখাতে পারছেন না।

এ কারণে গত এক বছরে নীতিনির্ধারণী বিষয়ে দলটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত খুব কমই নিতে পেরেছে। একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত বিএনপিকে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা দলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিতে শুরু করেছে।

নেতৃত্বের দূর্বলতার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক আলোচনায়, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব) অলি বলেছেন, জোটের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার জন্য তাকে অথবা ঢাকায় অবস্থানরত কোনো বিএনপি নেতাকে নেতৃত্ব দিতে হবে। বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে জেলে থেকে আমাদের নির্দেশ নেওয়া সম্ভব না। আবার তারেক রহমানের পক্ষে লন্ডন থেকে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকা সম্ভব নয়। সুতরাং আমাদের সেই দায়িত্ব নিতে হবে এবং আমি সেই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

এদিকে একাদশ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার পর এমপিদের শপথ গ্রহণকে কৌশলের অংশ বলে চালানো হয়। একইভাবে বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচিত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ না নেয়াকেও বলা হয় কৌশলের অংশ। এতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করায় সেখানে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছে। নেতাকর্মীদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—এ উপনির্বাচনে অংশ নেওয়াটা কোনো ধরনের কৌশলের অংশ। কারণ বিএনপির নেতা শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। এখন সেই আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে তা হবে দেশের রাজনীতিতে একটা নতুন মাত্রা।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নির্বাচন বয়কট করা হবে দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত। আবার শপথ নেওয়ার পর উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য নৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বগুড়ার উপনির্বাচনে অংশ নিলে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো ভোটে বিএনপি যাবে না—ভবিষ্যতে দলের এমন অবস্থানও থাকবে না। নির্বাচনে অংশ নিলে এ ইস্যুতে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়াও তাদের জন্য কঠিন হবে। তাই সব মিলে কোন পথে হাঁটবে বিএনপি তা নিয়ে দলের মধ্যে চলছে অস্থিরতা।

জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইবরাহিম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, সংসদে যাওয়া না যাওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি গত জোটের বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বদলের বিষয়ে আমাদের অবহিত করা হয়। তিনি আরো বলেন, বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের সাতজন এমপি সংসদে গিয়েছে। তাহলে মহিলা এমপি কেন যাবে না। বগুড়া উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারেও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া যাবে না। তবে আমরা মনে করছি, নির্বাচনে অংশ নেয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে ইবরাহিম বলেন, বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আমরা বিএনপিকে বার বার বলেছি। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা বিএনপির।

পিডিএসও/হেলাল