‘হাইব্রিড’ চিহ্নিত হচ্ছে উত্তরা আওয়ামী লীগে!

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯, ১৯:৫৫

বদরুল আলম মজুমদার

হাইব্রিড খ্যাত বিভিন্ন দল থেকে ’হঠাৎ আগমনকারীদের তালিকা হচ্ছে আওয়ামী লীগে। খোদ দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সিনিয়র নেতারা দলের প্রতিটি স্তরে এই হাইব্রিড সনাক্তের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে এই কাজে মাঠে নেমেছেন নেতারা। তারা গোপনে ‘হাইব্রিড’ নেতাদের সনাক্তে তথ্য সংগ্রহ করছেন। বিশেষ করে রাজধানীর উত্তরাঞ্চলের প্রবেশ দ্বার খ্যাত উত্তরায় এই কাজ চলছে বেশ জোরে সোরে।  

দলের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিভিন্ন দল থেকে ‘হঠাৎ আগমনকারী লোকজনের সংখ্যা শহর এলাকায় সবচেয়ে বেশি। কাউন্সিল বা কমিটি পুনর্গঠন সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াত থেকে বড় একটি অংশ এবারও জায়গা নিতে পারে বলে তথ্য আছে। তাই এই বিষয়ে এবার সতর্ক  ক্ষমতাসীন এই দলটি। 

গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আছে, ঢাকার উত্তরাতেও এসব হাইব্রিড বা অন্য দল থেকে লোকজন বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগে ঢুুকে পড়েছে। তবে এদের দলে জায়গা করে দিতে উত্তরা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারাই দায়ী বলে অনেকে মনে করছেন। 

এদিকে, সিনিয়র নেতারা নিজের বলয় বাড়ানোসহ নানা সুবিধা নিয়ে এসব লোককে দলে স্থান দিলেও তাদের খুব একটা সক্রিয় দেখা যায় না রাজনীতিতে। 

স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এসব হাইব্রিড নেতারাই দলের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। যার বদনাম বয়ে বেড়াতে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে। নতুন ‘জয় বাংলা’ বলা এসব লোকজনের কর্মকাণ্ডে বিব্রত বোধ করেন দলের ত্যাগী নেতারা।

তিনি আরও জানান, উত্তরার সাতটি থানা ও কয়েকটি ওর্য়াড কমিটিতে সবার্ধিক সংখ্যক হাইব্রিডকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। যাদের অতীত রের্কড আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। অনেকে গ্রামে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও গত কয়েক বছরে শহরে এসে বড় আওয়ামী লীগার সেজে বসেছেন। এসব নেতাদের ব্যাপারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ এসেছে। হাইব্রিডদের সংখা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, উত্তরার বিভিন্ন কমিটিতে ৩০-৩৫ শতাংশ নেতা হাইব্রিড। অথচ অনেক ত্যাগী নেতারা কমিটিতে পদ পাননি। যাদের আমরা সব সময় মিছিলি মিটিংয়ে পেয়েছি। পদ না পেয়ে এসব লোকজন এখন রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছেন। যা দুঃখজনক। 

এ বিষয়ে উত্তর খান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন, উত্তরা আওয়ামী লীগে হাইব্রিড যে ঢুুকেনি তা অস্বীকার করতে পারবো না। তবে এ ঘটনা আমার থানায় নাই বললেই চলে। তারপরও হয়তো দুই একজন থাকতে পারে। কারণ আমরা সবাই সবাইকে চিনি। 

তবে ভিন্ন কথা বলেছেন উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ সিদ্দিকী কাক্কা। তিনি বলেন, হাইব্রিড অনুপবেশের বিষয়টি সত্য। আমার থানা এলাকায় দলীয় কর্মসূচিতে আমি ১০-১৫ জন জনকে পাই। ৭১ সদস্যের বাকিদের কখনোই দেখা পাইনি। আমার থানায় কমিটির নামে জগাখিচুড়ি হয়েছে। 

একই দাবি করেন পূর্ব থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি কুতুব উদ্দিনও। 

অপর এক স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক এস এম মাহবুবও স্বীকার করছেন উত্তরায় অন্য দলের লোকজনের অনুপ্রবেশ ঘটেছে।  তবে সংখ্যায় ৩০-৩৫ শতাংশ হবে বলে তিনি মনে করেন না। 

পিডিএসও/রি.মা