ছাত্রলীগের কমিটি ভাঙার দাবি পদবঞ্চিতদের

আলটিমেটাম, গণপদত্যাগের হুমকি, উপেক্ষিত জাবি

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ১০:৪৬ | আপডেট : ১৫ মে ২০১৯, ১৪:২১

জিয়াউদ্দিন রাজু

সম্মেলনের এক বছর পরে হওয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়েও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে পদবঞ্চিত নেতাদের মধ্যে। এদিকে, কমিটি ঘিরে মারামারির ঘটনা ঘটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে। পদবঞ্চিতরা বলছেন, ত্যাগী ও দক্ষ ছাত্রনেতাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি এ কমিটিতে। তাই তারা এই কমিটি ভেঙে দিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। তারা বলছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই কমিটি ভেঙে দেওয়া না হলে তারা বিক্ষোভ, অনশন এবং গণপদত্যাগ করবেন।

এদিকে, কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে। এ ছাড়া কমিটি গঠনে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। বিক্ষুব্ধরা অভিযোগ করছে, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে বিবাহিত ও অছাত্রদের কমিটিতে নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগের নতুন কমিটির নেতারা বলছেন, যারা বর্তমানের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে সমালোচনা করছেন, তারা মূলত বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ভাঙতে চান। আর সাবেক ছাত্রনেতাদের ভাষ্য, সঠিক মূল্যায়নের ঘাটতি, এলাকাভিত্তিক রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার জেরেই এই কমিটি হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, নতুন কমিটি গঠনের নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিবাহিতদের খুঁজতে একটি কমিটি করা হবে।

সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে শোভন বলেন, এ বিষয়ে ছাত্রলীগের যে সাবেক নেতারা আছেন তাদের দ্বারা সমন্বয় করে একটি কমিটি গঠন করে দেব। যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

জানা যায়, সাইফুর রহমান সোহাগ ও জাকির হোসেনের কমিটিতে যারা গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছিলেন, তারা নতুন কমিটিতে স্থান পাননি। আবার স্থান পেলেও তাও একই বা আরো নিচের। এসব নিয়েই দেখা দিয়েছে অসন্তোষ, বিভেদ।

এরই মধ্যে গত সোমবার কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর পদবঞ্চিতরা বিশ্ববিদ্যালয় মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে তাদের সংবাদ সম্মেলন করতে দেয়নি। উপরন্তু আন্দোলনকারীদের শিবির বলে স্লোগান দেন নতুন কমিটির নেতারা। ওই সময় পদবঞ্ছিতরা অভিযোগ করেন, মূলত ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার (শৌভন ও রাব্বানী) যারা অনুসারী ছিল তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে গত সোমবার রাতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে মধ্যে মারামারির ঘটনায় নারীনেত্রীসহ অন্তত ১৫ জন আহতে হয়েছেন। যাদের মধ্যে এক নারী নেত্রীর মুখে ১৭টি সেলাই লেগেছিল।

তবে এসব ঘটনাকে খুবই সিম্পল বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার রেশ ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে মারামারির ঘটনা সামান্য বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ সংগঠনে লাখ লাখ নেতাকর্মী মুজিব আদর্শের সৈনিক আছেন। তাদের মধ্যে যোগ্য নেতারা সবাই পদ-পদবির প্রত্যাশা করেন। কিন্তু সবাইকে তো আর পদ-পদবি দেওয়া সম্ভব হয় না। কারণ পদের সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় থেমে যায়। এটা নিয়ে খুব বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করার কিছু নেই।

এনিয়ে ছাত্রলীগের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ছাত্রলীগের মধ্যে যে মারামারি হয়েছে এটি সাধারণ ঘটনা। এমন বৃহৎ সংগঠনে চাইলেও অনেকে পদ পায় না। তবে যারা হামলা করেছে তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাবি প্রতিনিধি জানান, ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক নেতা স্থান পেলেও তারা এবারও উপেক্ষিত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন এই ইউনিটের নেতাকর্মীরা। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী। তাদের ভাষ্য, বরাবরের মতো এবারও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ বঞ্চিত হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে মেধাবীরা রাজনীতিতে আগ্রহ হারাবেন।

গত সোমবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। এতে দুটি স্থান পান জাবির নেতাকর্মীরা। তারা হলেন সহসভাপতি পদে আরিফুল ইসলাম আরিফ এবং উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে মাহবুবুর রহমান সালেহী। তবে এই দুজন ছাড়াও এবার বেশ কয়েকজন নেতা পদপ্রত্যাশী ছিলেন। এর মধ্যে মো. মুরশিদুর রহমান আকন্দ, হামজা রহমান অন্তর, নিশাত ইমতিয়াজ বিজয় প্রমুখের নাম জোরেশোরে উচ্চারিত হয়েছে। তবে তারা পদ পাননি। এর আগে বিগত কমিটিতেও প্রথম দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র দুজন পদ পান। যদিও পরে আরো কয়েকজনকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্যপদ দেওয়া হয়।

শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরই মেধাবীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। শিক্ষা-দীক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঢাবির পর জাবির স্থান। অথচ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি হলে তাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়ন করা হয় না। ঢাকার বিভিন্ন কলেজও জাবির চেয়ে বেশি মূল্যায়ন পায়।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, যারা পদ পেয়েছেন, তাদের শুভেচ্ছা। কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ যাদের যোগ্য মনে করেছে তাদের পদ দিয়েছে। তবে আমি আশা করব, সামনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরো বেশি পদ পাবে।

পিডিএসও/হেলাল