তারেকের নির্দেশে আরো ৪ জনের শপথ

অবশেষে বিএনপি সংসদে

শপথ নিতে সময় চেয়েছেন ফখরুল

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:৩৩ | আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:৫২

বদরুল আলম মজুমদার

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শপথ নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা। আর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শপথ নেওয়ার জন্য সময় চেয়েছেন বগুড়া থেকে নির্বাচিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশবাসী তো বটেই বিএনপির নেতাকর্মীরাই ছিলেন অন্ধকারে, আর দিনভর ছিল নাটকীয়তা। দিন শেষে নির্বাচিতরা দলীয় সিদ্ধান্তেই শপথ নিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা মেনেই তারা সংসদে যোগ দিয়েছেন।

এদিকে, শপথ নেওয়ার পর গতকাল সংসদে যোগ দিয়েই কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ। অপরদিকে, মির্জা ফখরুলের সময় চাওয়ার বিষয়টিও দলের হাইকমান্ডের অনুমতি নিয়েই হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যদিও শপথের কয়েক ঘণ্টা আগে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, জোর করে শপথ নেওয়ানো হচ্ছে। অবশ্য কয়েক ঘণ্টা পরই সুর পাল্টে যায় রিজভীর। তিনিও স্বীকার করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতিতে শপথ নিয়েছেন দলীয় এমপিরা।

শপথ নেবেন মহাসচিব এমন খবরের ঘণ্টাখানেকের মাথায় রাত সাড়ে ৭টায় গুলশান অফিসে সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ নিয়েই সংসদে যাচ্ছে বিএনপি। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছি। কেন হঠাৎ করে সরে আসলেন? এমন প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর না দিয়ে এ বিষয়ে পরে ব্যাখ্যা দেওয়া হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল।

গতকাল সোমবার বিকেলে শপথ নেওয়ার পর বিএনপির সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলাপ করে তার সম্মতিতে শপথ নিয়েছি। আরেক সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তেই তারা সংসদে এসেছেন। তাদের ওপর সরকারের চাপ ছিল তবে সে কারণে তারা সংসদে আসেননি। তিনি বলেন, সংসদে তারা নতুন নির্বাচন দাবি করবেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি চাইবেন। হারুনুর রশীদ বলেন, আমরা দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলাম। আসলে এ সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে না। জনগণের ভোটে এ সরকার নির্বাচিত হয়নি। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হয়নি। যে কারণে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচনে যে ফল মানুষ প্রত্যাশা করেছিল তা পায়নি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিম্ন আদালতের ফরমায়েশি রায়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। অথচ দেশের ফাঁসির আসামি, মাদকের আসামির মতো জঘন্য আসামিরা জামিনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই আমরা আশা করব সরকার অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দেবে এবং তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।’ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সম্মতি থাকলে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসেননি কেন? এ প্রশ্নের জবাবে হারুনুর রশীদ বলেন, মহাসচিবের বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। এ বিষয়ে তাকেই জিজ্ঞেস করেন, তিনি ভালো বলতে পারবেন।

দলের সম্মতিতে আপনার শপথ নিলেন অপরদিকে জাহিদুর রহমানকে দল বহিষ্কার করেছেন কেন? এ প্রশ্নের জবাবে হারুনুর রশীদ বলেন, আগে শপথ নেওয়ায় তিনি আজ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এখন দল হয়তো তার ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। জাহিদুর রহমান হয়তো লিখিতভাবে ক্ষমা চাইবেন। দল বিবেচনা করবে। আপনারা কি পাঁচ বছরের জন্য এই সংসদকে বৈধতা দিতে এসেছেন? এ প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, আমরা এই সংসদকে বৈধতা দিতে আসিনি। দেশে আইনের শাসন নেই, সুশাসন নেই, দেশে অরাজকতা চলছে, ১৭ কোটি মানুষকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে—এই বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য আমরা সংসদে এসেছি।

সংসদ সূত্র জানায়, বিএনপির নির্বাচিত চার এমপি শপথ নিতে পারেন এমন বিষয় জানতে পেরে সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত ছিল সংসদ সচিবালয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একে একে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের বিজয়ী এমপি উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া, বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল হক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. হারুনুর রশীদ। সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় স্পিকারের জাতীয় সংসদ ভবনের কার্যালয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল বিএনপির আরেক এমপি ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান শপথ নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা পায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। নির্বাচনে মাত্র আটটি আসনে জিততে পারে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে তারা শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করেন। এর মধ্যে বিএনপির ছয়জনের মধ্যে একমাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেননি। এর আগে গণফোরাম মনোনীত দুজনের মধ্যে মৌলভীবাজার-২ আসনের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর গত ৭ মার্চ এবং গত ২ এপ্রিল সিলেট-২ আসনের মোকাব্বির খান শপথ গ্রহণ করেন।

শপথ গ্রহণ শেষে স্পিকারের কার্যালয়ে বিএনপি এমপিরা সংসদে আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় দাবি করেন। সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, সংসদে আমরা সংখ্যায় কম হলেও সারা দেশে আমাদের বিপুল জনসমর্থন রয়েছে। এরপর বিএনপির পাঁচজন সংসদ সদস্য দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংসদে ফিরে অধিবেশনে যোগদান করেন।

পিডিএসও/হেলাল