সাবেক মন্ত্রীদের কেউ মাঠে কেউ নীরবে

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৪২

জিয়াউদ্দিন রাজু

টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রক্ষায় নতুনদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা ছিল নতুন সরকারের। ফলে সাবেক মন্ত্রীরা বাদ পড়েন। মন্ত্রিত্ব হারিয়ে কেউ রাজনৈতিক মাঠে বা দলের জন্য দৌড়-ঝাঁপ করলেও কেউ আবার লোক চক্ষুর আড়াল হয়ে আছেন। সাবেক মন্ত্রীদের একটি অংশ আবার অভিমান থেকে নীরব-নিশ্চুপ হয়ে গেছেন। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি দলের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যসহ ৩৬ জন। বয়সে প্রবীণ, নিজের কর্মকান্ডে বিতর্কিত ও দক্ষ হাতে মন্ত্রণালয় চালাতে না পারা—এসব কারণে নতুন সরকার থেকে বাদ পড়ে মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য।

এদিকে গত দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারে মন্ত্রী ছিলেন যারা, তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন কারণে নানাভাবে আলোচনা ও সমালোচনায় ছিলেন। মন্ত্রী থাকাকালে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা ও সমালোচনায় থাকলেও মন্ত্রিত্ব হারানোর পর তারা আর নেই টিভির পর্দা ও পত্রিকার পাতায়। আবার মন্ত্রিত্ব না থাকায় আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ ও প্রবীণ নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ সরব আছেন সরকার ও দলের গঠনমূলক সমালোচনার মধ্য দিয়ে। আওয়ামীপন্থি ও সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি থেকে বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানান দিচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীদের। বিভিন্ন ইস্যুতে ও পরিস্থিতি বুঝে সাবেক মন্ত্রীরা সরকার ও দলের বিরুদ্ধে যায়—এমন বক্তব্যও দিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের অভিযোগ উঠলে দলের নেতাকর্মীদের বিচারের দাবি জানাতেও পিছপা হচ্ছেন না। রাজনীতির মাঠে শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকায় তাদের গঠনমূলক প্রতিক্রিয়ার প্রতি অনেকেরই আগ্রহ বাড়ছে।

সাবেক মন্ত্রীদের অবস্থান : আওয়ামী লীগ সরকারে টানা দুবারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। আগের মতো আলোচনায় নেই তিনি। বয়সের কারণে রাজনীতি থেকে দূরে আছেন তিনি। বর্তমানে লেখালেখি করে সময় কাটছে তার। পাশাপাশি বয়স বেশি হওয়ায় সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী ইমাজউদ্দীন প্রামাণিকসহ অনেকেই এবারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদেরও উপস্থিতি নেই গণমাধ্যমে। সরকার ও দলের অনুষ্ঠানেও তাকে তেমন দেখা যায় না।

তবে তার এক অনুসারী জানান, জন্যকল্যাণে বেশি সময় দিচ্ছেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এছাড়াও দলীয় এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজের অবস্থানও জানান দিচ্ছেন তিনি।

আর মন্ত্রী না হলেও নতুন সরকারের শুরুতে দলীয় কর্মকান্ড ও নানা অনুষ্ঠানে ব্যস্ত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সম্প্রতি ডাকসুর সাবেক এই ভিপি ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্যে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতিতে নেতিবাচক ভূমিকা রাখার সমালোচনা করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের রাজনীতি নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমও একইভাবে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সাম্প্রতি ঘটে যাওয়া ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির খুনিকে আশ্রয় দেওয়া আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকে ‘ক্রিমিনাল’ বলে এবং কঠিন শাস্তির দাবিও করেন তিনি। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজপথের বিরোধী দল বিএনপিকে সংসদে যোগদানের আহ্বান করে, সরকারের গঠনমূলক আলোচনা করার জন্য বলেন তিনি। ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সাম্প্রতিক নানা বক্তব্য নিয়েই ইতিবাচক আলোচনা চলে আসেন।

তবে সাবেক মন্ত্রীদের কেউ কেউ বক্তব্য দিয়ে আরো সমালোচনারও জন্ম দিচ্ছেন। ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হেসেছিলেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে শুরু করে সবার মাঝেই সমালোচনার শিকার হন তিনি। কিন্তু এবার মন্ত্রিত্ব না থাকায় তাকে খুব বেশি জনসম্মুখে দেখা যায় না।

অন্যদিকে বিভিন্ন সময়ে আলোচিত সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া নিজেকে অনেকটা আড়াল করে রেখেছেন বলে মনে করেন তার অনুসারীরা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও আছেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। তাকে দলীয় কর্মকান্ডে ও সরকারি অনুষ্ঠানেও তেমন দেখা যায় না। কোনো বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের আলোচনাতেও তিনি নেই।

সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ, বেসামরিক বিমানমন্ত্রী শাজাহান কামালও অনেকটা আড়ালে।

তবে সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই। তারা সংসদীয় কমিটির দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও কেউই আগের মতো দলীয় কার্যক্রমে মনোযোগী হতে দেখা যায় না বলে দলীয় সূত্র জানায়। সংবাদমাধ্যমের প্রচারেও নেই তারা।

পিডিএসও/হেলাল