আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আজ

আসতে পারে তৃণমূল গোছানোর নির্দেশনা

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ১০:২০

জিয়াউদ্দিন রাজু

বিভিন্ন সময়ে বিএনপি-জামায়াত বা অন্য রাজনীতির মতাদর্শের নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশে চিন্তিত আওয়ামী লীগ। টানা তৃতীয়বারের ক্ষমতাসীন এই দলে যোগ দিয়ে দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন বহিরাগতরা। তবে দলটির ২১তম কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে এসব অনুপ্রবেশকারীর ইতি টেনে পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচনে যারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

আজ শুক্রবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের যৌথসভায় এসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে তৃণমূলে শুদ্ধি অভিযান থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূলের দ্বন্দ্ব-সংঘাত, অক্টোবরে দলের জাতীয় সম্মেলন এবং মুজিব বর্ষের কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, বহিরাগতরা আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও দলের রাজনীতি ও আদর্শ ধারণ করেননি। অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় নেতাদের নিয়ে নিজেদের গ্রুপ ভারী করছেন। এতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বাড়ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে আওয়ামী লীগের ওপর। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ব্যাপক হারে প্রার্থী হওয়া এবং সেই প্রার্থীকে দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা, এমপি ও মন্ত্রীর সমর্থনও ভালোভাবে দেখছে না দলটি। এই নেতাদের চিহ্নিত করে তালিকা করা হয়েছে। তালিকায় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের নাম রয়েছে।

আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, তৃণমূলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোকে সম্মেলন করতে বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের এসব কমিটি গঠন-পুনর্গঠন শেষে সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় সম্মেলনের কেন্দ্রীয় প্রস্তুতি দৃশ্যমান হবে। ওই সময় সম্মেলন আয়োজনে গঠন করা হবে আটটি সম্মেলন প্রস্তুত উপকমিটি। আগামী সম্মেলনে দল ও সরকার আলাদা করার বিষয়ে ব্যাপক চমক থাকবে বলেও মনে করছেন নেতারা। যৌথসভায় এসব বিষয়ে আরো নির্দেশনা আতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছেন তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিত করে আওয়ামী লীগ থেকে বের করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধী পরিবারের কোনো সদস্য যাতে আওয়ামী লীগের সদস্য হতে না পারেন বা কোনো কমিটিতে ঢুকতে না পারে সে দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা তৈরি হচ্ছে, দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। আমরা মাঠে নেমেই আছি। দিনক্ষণ দিয়ে মাঠে নামার কোনো বিষয় নয়। তবে যেহেতু যৌথসভার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাই যৌথসভার নির্দেশনাগুলোর প্রতি গুরুত্ব থাকবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সদস্য হতে হলে একটা সময় পর্যন্ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে করতে হবে। উপজেলা নির্বাচনে বিষয়ে তিনি বলেন, যারা দলের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন তাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। এদের ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কে কোন ধরনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন সে অনুযায়ী তাদের চিঠি দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, যে আটটি টিম করা হয়েছে এই টিমগুলো আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত কাজ করবে দলের তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য। মূলত সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করতে আটটি কাজ করবে। সম্মেলনের আগে দল বিরোধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। বিগত দিনের সরকারের নানা উন্নয়ন জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। জেলা জেলায় বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী যেন যথার্থ পর্যায়ে পালিত হয় সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের তাগিদ দেওয়া হবে।

পিডিএসও/হেলাল