উপজেলা নির্বাচন

আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিদ্রোহীরাই

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:১৩

কাইয়ুম আহমেদ

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। দলটির তৃণমূল নেতাদের সবাই চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে শামিল হয়েছেন। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা এই পদে একই পরিবারের চারজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। বর্তমানে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করলেও তারা উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের রাজবাড়ীর বাসিন্দা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহীর নয়টি উপজেলার মধ্যে অন্তত ছয়টিতেই দেখা দিয়েছে দ্বন্দ্ব। আর বরিশাল বিভাগে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও ভোটযুদ্ধে নামার ঘোষণা দিয়েছেন জেলার ৪০ উপজেলার শতাধিক নেতা।

এদিকে, স্থানীয় নেতাদের এমন মনোভাবে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। অবশ্য এ শঙ্কার কথা মানতে নারাজ দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। তাদের মতে, দল যাকে নৌকা দেবে তার পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামবেন। অন্যদিকে, দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশগ্রহণ না করার কথা জানিয়েছে। তবে কোনো কোনো উপজেলায় তাদের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড দুই ধাপে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু দলটির স্থানীয় নেতাদের অনেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে দলের ভেতরের প্রার্থীর বিরুদ্ধেই এবার লড়াইয়ে নামতে হতে পারে নৌকার প্রার্থীদের। এদিকে বিএনপি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করলেও দলের স্থানীয় নেতারা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদিকে, মনোনয়ন ঘিরে

বিরোধকে পাত্তা দিতে রাজি নয় আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। দলের সভাপতিম-লী এবং সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, দলে সবারই কমবেশি অবদান আছে। যখন নির্বাচন আসে অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। এ নিয়ে সাময়িক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত মনোনয়ন শেষে এসব বিরোধ মিটে যাবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলের মনোনীত প্রার্থী তথা নৌকার পক্ষে কাজ করবেন, যার উদাহরণ আমরা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেখেছি।’

জানা যায়, উপজেলার মনোনয়নকে কেন্দ্র করে গত রোববার লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ক্ষমতাসীন দলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ ১৫ জন আহত হন। এ সময় ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তিবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল আলম এবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেয়েছেন। ঘটনার দিন সকাল থেকে সমর্থকরা তাকে অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় মনোনয়নবঞ্চিত ইমরুল কায়েস ফারুকের সমর্থকরা তাদের কাজে বাধা দিলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় মনোনয়ন পাওয়া মোহাম্মদ আলী আকন্দকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ। তাদের অভিযোগ, তৃণমূলের ভোটে প্রথম হওয়া সাজ্জাদুল হককে মনোনয়ন না দিয়ে মোহাম্মদ আলীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার খালেদ হোসেন স্বপনের বদলে এবার কাজী ইমদাদুল হক দুলালের নাম দলের মনোনীত একক প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রে পাঠানো হয়। একইভাবে উজিরপুরের বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের পরিবর্তে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ সিকদার বাচ্চুর নাম পাঠানো হয়। এই দুই উপজেলার মনোনয়নবঞ্চিতরা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে, উপজেলা চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী যাছাই-বাছাই নিয়ে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পড়েছে কয়েকশ। অভিযোগকারীদের মধ্যে কয়েকজন হলেন ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খান, কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. তাহের হোসেন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. ইউসুফ আলী চৌধুরী সেলিম। তাহের হোসেনের অভিযোগে বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা করে মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করার কথা। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক বর্তমান চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বৈঠক না করে নিজের নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন।

পিডিএসও/হেলাল