একাদশ সংসদ নির্বাচন

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছেন বিএনপির ৭০ প্রার্থী

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:১৮ | আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৩৩

বদরুল আলম মজুমদার

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থীরা, তাদের সংখ্যা ৭০ জন বলে জানা গেছে। তবে বিএনপি নেতাদের মনে আশঙ্কা—এ ধরনের মামলা করে সুফল মিলবে না। এর আগে নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত দেন পরাজিত প্রার্থীরা ভোটের মাঠের অনিয়ম তুলে ধরে ট্রাইব্যুন্যালে মামলা করবেন। কিন্তু কয়েক দিন পরই বিএনপির বেশিরভাগ পরাজিত প্রার্থী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেন। এরপরই স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বিএনপির প্রার্থীরা মামলায় যাবেন না। যদিও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বেশ কয়েকজন প্রার্থী মামলা করার প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ করেছেন।

লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত সপ্তাহে দলের পরাজিত প্রার্থীদের সঙ্গে স্কাইপিতে কথা বলে মামলা করার নির্দেশনা দেন। যদিও দেশের সব কয়টি জেলা ও মহানগর এলাকায় একজন করে প্রার্থীকে প্রতীকী এ মামলার করার কথা জানানো হয়। তারেকের এই নির্দেশের কারণে শেষ পর্যন্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়।

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৬৪টি জেলার ৬৪টি আসন ও মহানগরসহ মোট ৭০টি আসনের প্রার্থীরা মামলা করবেন। তাদের হয়ে মামলা পরিচালনার জন্য সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনকে প্রধান করে আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়েছে। তারা বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চাপে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, মামলা করার পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ আমাদের হাতে আছে। এসব তথ্যপ্রমাণ একত্র করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মামলা করা হবে। ৩০০ আসনের মধ্যে ৭০টি আসনে মামলা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, দলের স্থায়ী কমিটি মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সে হিসেবে এখন মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সাইফুল আলম ফিরোজ। গত শনিবার সন্ধ্যায় স্কাইপিতে তারেক রহমান যেসব প্রার্থীর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন তাদের মধ্যে তিনি একজন। ফিরোজ গতকাল বলেন, নির্বাচনের পরই তিনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্দেশ দেওয়ায় তিনি বাকি প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন।

কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম বলেন, তার সঙ্গেও শনিবার তারেক রহমানের কথা হয়েছে। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্দেশ দিয়েছেন। সে হিসেবে তিনি মামলা করার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তবে যে কারণে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে ভোট কারচুপিসহ অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে মামলায় অনিচ্ছুক ছিলেন তার অন্যতম কারণ হচ্ছে এতে করে কোনো লাভ হবে না। সুবিচার মিলবে না। মামলার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান গণমাধ্যমে বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিষয়টি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত। কী হবে না হবে তা নিয়ে ভাবার চেয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা প্রার্থীদের দায়িত্ব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করলে অনেক সময়ই পাঁচ বছর কেটে যায়। এর মধ্যেও কোনো ফয়সালা হয় না। বিষয়টি অনেকেরই জানা। তারপরও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে মামলা করব।

পিডিএসও/হেলাল