প্রার্থী এক ডজন, কাদের ভাগ্যে জুটবে দলের টিকেট?

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪৮ | আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:০৩

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, সিলেট ব্যুরো

টানা তৃতীয় মেয়াদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যেই শপথ গ্রহণ করেছেন নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদ ও সংসদ সদস্যরা। 

সংসদ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ জানুয়ারি বসবে একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এদিকে সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই এবার তোড়জোড় শুরু করেছেন সিলেট বিভাগের দুটি সংরক্ষিত আসনের অন্তত একডজন নারী নেত্রী। সংরক্ষিত আসনের টিকেট নিয়ে সংসদে যেতে তারা লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডে। এসব নেত্রীদের বেশিরভাগই গেলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তারা এবার চাইছেন সংরক্ষিত আসনের টিকেট। দলের শীর্ষ নেতাদের নজরে পড়তে অনেকেই এখন অবস্থান করছেন ঢাকায়।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সিলেট বিভাগ থেকে সংরক্ষিত নারী সাংসদ নির্বাচিত হন আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী (সিলেট-হবিগঞ্জ) ও শামসুন্নাহার বেগম শাহানা রব্বানী (সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজার)। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেয়া চৌধুরী হবিগঞ্জ-১ ও শাহানা রব্বানী সুনামগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচনে লড়তে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন সায়রা মহসিন, সুনামগঞ্জ-১ আসন থেকে কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিমা শাহরিয়ার দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে তাদের করো ভাগ্যেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন জোটেনি। তাই এবার সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদ হয়ে সংসদে যেতে চান তারা।

এছাড়া সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হতে আলোচনায় রয়েছেন, সাবেক সাংসদ সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, কেন্দ্রীয় মহিলা লীগ নেত্রী অ্যাডভোকেট মাহফুজা বেগম সাঈদা, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাজনীন হোসেন, সিলেট জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রুবী ফাতেমা ইসলাম, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসমা কামরান, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মারিয়ান চৌধুরী মাম্মী, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. নাজরা চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের সদস্য রওশান জেবা রুবী।

জানা যায়, দেশে সংরক্ষিত নারী সাংসদ আসন ৩০ থেকে ৫০ টিতে উন্নীত করা হলেও সিলেটে আসন সংখ্যা এখনো অপরিবর্তীত। সিলেট বিভাগে নারী আসন মোট ২টি। এ দুটি আসনে প্রার্থী সংখ্যা অধিক হওয়ায় এবার আসন দুটিতে ‘চমক’ থাকতে পারে। দশম সংসদ নির্বাচনের পর যেসব আসন থেকে নারী সংসদ সদস্য চেয়েও পাননি এসব আসনকেই এবার প্রাধান্য দিবেন প্রধানমন্ত্রী এমনটাই মনে করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। 

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত মহিলা আসনে নতুনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে যারা দলের ও সরকারের দুর্দিনে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, বিভিন্ন কাজে অবদান রেখেছেন, দলের ও দলের সহযোগী সংগঠনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদেরকেই মূল্যায়ন করবেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। 

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশব্যাপী এসব সংরক্ষিত আসনের সদস্য বাছাই করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে। সে ক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আনঅফিসিয়ালী খোঁজ খবর নেন। তবে সিলেটের ক্ষেত্রে যেহেতু আসন সংখ্যা মাত্র ২টি আর এর বিপরীতে প্রার্থী অনেক। সে ক্ষেত্রে এবার চমক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় এ আওয়ামী লীগের শীর্ষ এই নেতা।

পিডিএসও/অপূর্ব