ফরিদপুর-১

দুর্নীতি মামলার আসামি মনজুর, জাফরের আছে মামলার বোঝা

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:৫৪ | আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:০২

কে এম রুবেল, ফরিদপুর প্রতিনিধি
ছবি (বাম থেকে): মঞ্জুর, আবু জাফর

ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনজুর হোসেন দুর্নীতি মামলার আসামি। বর্তমানে মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর। তিনিও একটি ফৌজদারি মামলার আসামি। আগেও দুটি মামলা ছিল তার বিরুদ্ধে। তবে দুটো থেকেই অব্যাহতি পেয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে। 

হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ডেসকোর মালিকানা শেয়ার গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০০৭ সালের ৮ আগস্ট শাহবাগ থানায় একটি মামলা করে। তদন্ত শেষে ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে মনজুর হোসেনেরও নাম আছে। 

এ ছাড়া হলফনামায় মনজুর হোসেন তার ও স্ত্রীর নামে থাকা স্থাবব ও অস্থাবর সম্পদের হিসাবও দিয়েছেন। যেখানে তিনি মাছ চাষ, ব্যাংক থেকে সম্মানি ও সুদ থেকে তার বছরে সর্বোচ্চ আয় হয় বলে জানিয়েছেন। এ খাত থেকে তিনি বছরে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯৮০ টাকা আয় করেন। এর পরেই আছে পরামর্শক খাত। এ থেকে তিনি বছরে ৪ লাখ ২২ হাজার ৪০০ টাকা আয় করেন। ব্যবসা থেকে তার বছরে আয় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কৃষিখাত থেকে বছরে ৬০ হাজার টাকা আয় করেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। সবমিলিয়ে বছরে ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮০ টাকা আয় করেন।  
 
এ ছাড়া তার ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তির অস্থাবর সম্পদের তালিকাও দিয়েছেন তিনি। যেখানে লিখেছেন, তার কাছে নগদ ৩২ লাখ ২৫ হাজার ৮৭৭ টাকা রয়েছে। স্ত্রী ডেইজি বেগম রেহানার কাছে আছে ১২ লাখ ৯ হাজার ৩২১ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মনজুর হোসেনের নামে জমা আছে ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৭৮ টাকা। সরকারি চাকরিজীবী স্ত্রীর নামে জমা আছে ১৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮১ টাকা। তার নিজের নামে কোনো বন্ড বা কোম্পানি শেয়ার নেই। আছে স্ত্রীর নামে। পরিমাণ ৫ হাজার টাকা। 

এ ছাড়া সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে প্রার্থীর ব্যক্তিগত কোনো বিনিয়োগ নেই। তবে স্ত্রীর নামে ৫৯ লাখ ৪ হাজার ৩৯৫ টাকার সঞ্চয়পত্রে ও আমানতে বিনিয়োগ রয়েছে। স্ত্রীর নামে স্বর্ণালংকার রয়েছে ১৮ ভরি। অর্জনকালীন সময়ে তার মূল্য দেখিয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রার্থী ও প্রার্থীর স্ত্রী দুজন মিলে ১ লাখ ৪০ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রির মালিক। যার মধ্যে আছে ফ্রিজ, টিভি ও ওভেন। নিজের নামে আসবাবপত্র আছে ৬০ হাজার টাকার। স্ত্রীর নামে আছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার আসবাবপত্র। 

এ ছাড়া অন্যান্য খাতে মনজুর হোসেনের ২৪ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকার সম্পদ রয়েছে। স্ত্রীর নামে আছে ৬ লাখ টাকা। তবে প্রার্থী ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন কোনো ধরনের মোটরগাড়ি নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই হিসেবে স্বামী এবং স্ত্রী দুজনে মোট ১ কোটি ৮৯ লাখ ৩১ হাজার ১৫২ টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক।
 
এ ছাড়া স্থাবর সম্পদের তথ্য বিবরণীতে মনজুর হোসেন বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৭৮ শতক কৃষি জমির মালিক। যার অর্জনকালীন আর্থিক মূল্য ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া স্ত্রী ডেইজি বেগম রেহানার নামে ৫৪ শতক কৃষি জমি আছে। যার অর্জনকালীন আর্থিক মূল্য ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। প্রার্থীর নামে অকৃষি জমি রয়েছে ৯ কাঠা। যখন সম্পদের মালিক হয়েছেন তখন এর আর্থিক মূল্য ছিল ১৯ লাখ ২৯ হাজার ৭৫০ টাকা। স্ত্রীর নামে অকৃষি জমি আছে ৫ শতক। যার অর্জনকালীন দাম দেখানো হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া যৌথ মালিকানায় ১০ কাঠা পরিমাণ একটি জমির মালিক তিনি। কেনার দর দেখিয়েছেন ৩৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৫ কাঠার মালিক তিনি। 

শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরের হলফনামা

হলফনামায় ফরিদপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা একটি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন বিএনপি প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর। যার নাম্বার সি.আর-৩৮৪/১৮। মামলাটি বিচারাধীন আছে। এ ছাড়া ফরিদপুর জেলা দায়রা জজ আদালতে এবং ৩নং আমলি আদালতে থাকা দুটি মামলায় অব্যাহতির কথা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। 

শাহ জাফর কৃষি থেকে বছরে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা আয় করেন। এ ছাড়া বাড়ি ভাড়া বাবদ পান দুই লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার কাছে জমা আছে এক লাখ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৬ টাকা। তার স্ত্রীর নামে ২ লাখ টাকার স্বর্ণ আছে। এ ছাড়া নিজের এবং স্ত্রীর মিলিয়ে ৮০ হাজার টাকা ইলেকট্রনিক সামগ্রির মালিক। নিজের নামে আসবাবপত্র আছে ৯০ হাজার টাকার। একটি বন্দুক ও একটি রিভলবার আছে তার। 

স্থাবর সম্পদের মধ্যে তিনি পৌত্রিক সূত্রে ৭ একর ৪০ শতাংশ জমির মালিক। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরে তার স্ত্রীর নামে ২ কাঠা এবং গাজীপুরে ৩৫ শতাংশ এবং বোয়ালমারীতে ১২৭ শতাংশ জমি আছে। যা তিনি কিনেছিলেন ১০ লাখ টাকায়। এ ছাড়া উত্তরা মডেল টাউনে ৫ কাঠা জমি আছে শাহ জাফরের। যা তিনি ৪ লাখ ৯০ হাজার ৫৬০ টাকায় কিনেছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন। বোয়ালমারী বাজারে একটি দোতলা, ময়েনদিয়া বাজারে তিন তলা এবং একটি টিনের ঘর আছে। যার অর্জনকালীন মূল্য দেখিয়েছেন ২০ লাখ টাকা।

পিডিএসও/অপূর্ব