স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন লতিফ সিদ্দিকী!

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৪৭

অনলাইন ডেস্ক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত দলের সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তার একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ভাতিজা মোশারফ হোসেন সিদ্দিকী জানান, কালিহাতী উপজেলার প্রতিটি গ্রাম ও পাড়া মহল্লায় তার গণভিত্তি ও সর্বোচ্চ সমর্থক রয়েছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী এখনও তাকে চান। এ বিপুল সংখ্যক সমর্থকের দাবির মুখে এ আসনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নিতে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত সমর্থন মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়ারও বিধান রয়েছে। এ বিধাননুসারে লতিফ সিদ্দিকীর জন্য ভোটারদের সেই স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ চলছে। আগামী রোববার লতিফ সিদ্দিকী কালিহাতীতে এসে এ ব্যাপারে ঘোষণা দেবেন বলেও জানান মোশারফ হোসেন সিদ্দিকী।

জানা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর মহাজোট সরকারে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্যও হন তিনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টাঙ্গাইল-৪ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে হজ, তাবলিগ জামাত এবং দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ সম্পর্কে বেফাঁস মন্তব্য করে দেশ ও বিদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সর্বোচ্চ সমালোচিত হন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

এ কারণে ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার ও মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। এ অভিযোগেই তিনি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণও করেন। কয়েক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। কারাগার থেকে মুক্ত হয়েই তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এতে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনটি শূন্য হয়।

তবে সংসদ থেকে পদত্যাগের পরও লতিফ সিদ্দিকী এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত অব্যাহত রাখেন। বিভিন্ন সময় সামাজিক নানা অনুষ্ঠানে তিনি যোগদান করতেন। এছাড়াও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর এখন পর্যন্ত লতিফ সিদ্দিকীর প্রভাব রয়েছে বলে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে হাসান ইমাম খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলার একাধিক নেতা জানান, এবারের নির্বাচনেও হাসান ইমাম খান এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন। তবে দলীয় মনোনয়ন পেলেও বর্তমান সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারীর সঙ্গে কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের দূরত্ব রয়েছে বলে অসংখ্য নেতাকর্মী অভিযোগ তুলেছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য সোহেল হাজারী ছাড়াও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবু নাসের, উপজেলা আওয়ামী লীগর সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য লিয়াকত আলী এবং জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সোলায়মান হাসান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও তারা একাট্টা হয়ে সোহেল হাজারী ব্যতীত অন্য যে কাউকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য দলের সর্বোচ্চ নেতাদের কাছে দাবি জানিয়েছেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

পিডিএসও/রিহাব