ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির কেন এতো মনোনয়নপ্রত্যাশী?

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:২৩ | আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৩

বদরুল আলম মজুমদার

ঢাকা-১৮ তথা বৃহত্তর উত্তরা রাজধানীর ঢাকার সর্ববৃহৎ নির্বাচনী আসন। রাজধানীর এ শহরতলীর মানুষ এখনো নিজেদের গ্রামের বাসিন্দা বলেই জানেন। নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের চাল-চলনও সেই গ্রামেরই মতো।  রাজধানীর ভেতরে হলেও মানুষ এখনো মুল ঢাকাকেই রাজধানী মনে করে। তুরাগ, উত্তর ও দক্ষিণখানের মানুষ রাজধানীর বাসিন্দা হলেও তারা এখনো নিজেদের শহুরে ভাবতে শিখেনি। এলাকাটি মডেল টাউনে রুপান্তর হওয়ায় বাসিন্দাদের আয় রোজগার বেশ বাড়লেও অনেকের জীবন যাত্রা এখনো সেকেলে। 

তাই দলীয় রাজনীতিও তারা অনুসরণ করেন অকেনটা গ্রাম্য পলিটিক্সের মতো করেই। আওয়ামীলীগ বা বিএনপি সবদলের রাজনীতিই এখনো চলে গ্রামীণ আবহে। এসব কারণে স্বাধীনতার পর থেকেই এখানে এমপি নির্বাচত হয়ে আসছেন বহিরাগতরাই। বহিরাগতদের পিছনে হাটতে গিয়ে নিজেরা এমপি হওয়ার যোগ্যতাটুকুও বিসর্জন দিয়েছেন স্থানীয়রা। এমন আলোচনা স্থানীয়দের মুখ থেকে থেকে উঠে আসলেও এলাকার অর্থেকের বেশি বাসিন্দা এখন অভিবাসী বা বহিরাগত। বলতে গেলে তারাও এখন এলাকার স্থায়ীবাসিন্দা। আর্থিক সামর্থ্য বা প্রভাবে এখনো পেরে না উঠলেও রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ এখন বাহিরাগতদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত। 

জানা যায়, সংসদীয় গণতন্ত্রের শুরুতে ১৯৯১ সালে এ আসনে বিএনপির থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পরে তিনি এ আসনটি ছেড়ে দিয়ে এমপি বানান তরুণ সেনা অফিসার ও নোয়াখালীর বাসিন্দা মেজর (অব) কামরুল ইসলামকে। তারপর থেকেই আসনটি নিয়ে বিএনপিও কামরুলকে ঘিরে চিন্তা করে। কিন্তু জরুরি সরকারের পর তিনি দলের মূল স্রাতের বাইরে ছিটকে পড়েন। পরে ২০০৮ সালে এখানে মনোনয়ন দেওয়া হয় জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত আরেক তরুণ নেতা আজীজুল বারী হেলালকে। তিনিও পেরে উঠেননি মেজর কামরুলের সাবেক এ নির্বাচনী আসনে। এখন তিনি নিজ এলাকা খুলনায় সেটেল্ডে হতে চান বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

২০০৮ সালের পর বিএনপির সাবেক এমপি কামরুল ইসলাম রাজনীতি থেকে অনেকটা দূরে সরে যান। পরে ২০১৫ সালের দলের কাউন্সিলে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান পদে আসীন হন। তার পরের কয়েক বছর দলের নেতাদের খবর রাখার চেষ্টা করলেও গত ৩ মাস থেকে তিনি আমেরিকায় অবস্থান করছেন। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে তারই এক অনুসারী নেতা।

এরই মধ্যে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও তিনি থাকতে চাচ্ছেন না নির্বাচনী রেসে। এমন কথা শোনা গেলেও বিষয়টি কামরুল থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তিনি যে নির্বাচনে আসতে চান না এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা-১৮ আসনে। এ খবরে অনেকেইে নড়েচড়ে বসেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করে ১০টির মতো মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেন। 

যদিও মেজর কামরুল ইসলাম শেষ পর্যন্ত এসে নির্বাচনী হাল ধরার সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তারপরও এ নেতারা মনোনয়ন ফরম তুলে নিজেদেরে আলোচনায় রাখতে চান। এসব নেতাদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের বিষয়ে দলের তৃণমূলে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকলেও তাদের দৃষ্টি পড়ে আছে তরুণ ২ মনোনয়নপ্রত্যাশীর দিকে। যারা ঢাকা-১৮ আসনে সক্রিয় রাজনীতি করে আসছেন। যাদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি অন্য যে কোনো সিনিয়র নেতার থেকেও কম নয়।

ধারণা করা হচ্ছে, মেজর কামরুল ইসলাম নির্বাচনের ব্যপারে আগ্রহ না দেখানোর অন্যতম কারণ হতে পারে তরুণ ২ নেতার অনড় অবস্থান। কারণ নিজেদের সাজানো মাঠ অন্যেকে ছেড়ে দিয়ে যেমন ভুল করতে চাইবে না তারা, আবার মনে করছেন এমন ছাড় দিলে নিজেদের রাজনীতিও হুমকিতে পড়তে পারে।

এ পর্যন্ত ঢাকা-১৮ আসনে যারা মনোয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, দক্ষিণখান বিএনপির সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন, একই থানার অধিবাসী বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিন, তুরাগ বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী মোস্তফা জামান, সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান, বিমানবন্দর সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, যুবনেতা এস এম জাহাঙ্গীর ও তরুণ নেতা মো. বাহাউদ্দিন সাদী।

পিডিএসও/তাজ