আওয়ামী লীগের টার্গেট তরুণরা

প্রচারণার তত্ত্বাবধানে জয়

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ১০:৪৯ | আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৪৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

তরুণ ভোটারদের মূল লক্ষ্য (টার্গেট) করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং বিরোধীদের নেতিবাচক রাজনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে পাঁচটি মাধ্যম ব্যবহার করছে দলটি। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে। কারণ দেশের অধিকাংশ তরুণই এই মাধ্যমে বেশি আকৃষ্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা বেশি সময় ব্যয় করেন। এ কারণে এ মাধ্যমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রচার উপকমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে দলটির গবেষণা উইং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)।

সিআরআই সূত্রে জানা গেছে, তরুণদের আকৃষ্ট করতে এবারের প্রচারণায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তো থাকবেই সঙ্গে তরুণদের ভবিষ্যৎ চিন্তাভাবনার প্রতিফলনও মিলবে নির্বাচনী প্রচারণায়। এর ব্যাখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের তরুণ সমাজের চিন্তাচেতনার সঙ্গে যদি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দূরত্ব তৈরি হয়, সেক্ষেত্রে নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এটি চিন্তা করেই অর্থাৎ তরুণদের সঙ্গে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করাই হবে এবারের নির্বাচনী প্রচারণার মূল লক্ষ্য।

আওয়ামী লীগের প্রচার উপকমিটির এক নেতা জানান, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে জোর প্রচারণা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম যশোরে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আসছে নির্বাচনে সাইবার যুদ্ধ হবে। এমন প্রেক্ষাপটে তিনি দলের কর্মী-সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘তারা (প্রতিপক্ষ) যদি মিথ্যা একটি লেখে, আপনারা ১০টি জবাব লিখুন। আপনারা কেন পিছিয়ে থাকবেন? আগামী নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংঘাতিক লড়াই হবে। আপনাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’

সরকারি হিসাব অনুযায়ী (৩১ জানুয়ারি ২০১৮), দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ১২ হাজার ১০৫ আর নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৭৬ জন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটার ছিলেন ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৬৭ জন। ২০০৮ সালে ছিলেন ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার। অর্থাৎ গত ১০ বছরে তরুণ ভোটার বেড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ। আগামী নির্বাচনে এরাই জয়-পরাজয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখবেন।

আওয়ামী লীগের নির্বাচন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে নবীন ভোটার বেশি। এই নবীন ভোটাররা বিএনপি-জামায়াতের অপকর্ম সম্পর্কে জানেন না। এই বিষয়গুলো নবীনদের কাছে পৌঁছাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিআরআই সূত্র জানায়, দেশের তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সরাসরি প্রচারণার কাজটি তত্ত্বাবধান করবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর জন্য বিভিন্ন কনটেন্ট সিআরআইয়ের পক্ষ থেকে সরবরাহ শুরু হয়েছে।

দলটির প্রচার উপকমিটির এক নেতা জানান, ইতোমধ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির তত্ত্বাবধানে একটি প্রচার উপকমিটি ও একটি মিডিয়া উপকমিটি গঠিত হয়েছে। প্রচার উপকমিটি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভিন্নধর্মী প্রচারণার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার জন্য পাঁচটি মাধ্যম ব্যবহার করছি। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিরোধীদের নেতিবাচক রাজনৈতিক দিকগুলো সেখানে তুলে ধরা হচ্ছে।’

দলটির উপপ্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমীন বলেন, ‘প্রচারণার জন্য সব ধরনের মাধ্যমই আমরা ব্যবহার করব। গত ১০ বছরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আমাদের অর্জনগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে। পাশাপাশি তরুণ সমাজকে আকৃষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে যে কনটেন্টগুলো আসবে, সেগুলো অবশ্যই ব্যতিক্রমী হবে।’

পিডিএসও/হেলাল