হার্ডলাইনে যাচ্ছে না বিএনপি

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১০:০১ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:০৫

বদরুল আলম মজুমদার

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের পর সার্বিক পরিস্থিতি সর্তকতার সঙ্গে সামাল দিতে চায় বিএনপি। রায় নিয়ে দল যাতে অহেতুক কোনো ঝামেলায় না জড়ায় সে জন্য নেতাকর্মীদেরও আগাম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, রায়কে কেন্দ্র ক্ষমতাসীন দল উসকানি দেওয়ার মতো অনেক কর্মকাণ্ড করতে পারে। যেগুলো রায় পরবর্তী কয়েকদিন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এমন অবস্থায় কোনোভাবেই রাজনীতির মাঠে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হতে দেবে না বিএনপি।

কারণ, দলটি আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাছাড়া নির্বাচনে সমান সুযোগ আদায় ও খালেদার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনেরও চেষ্টা করছে। এর বাইরে বৃহত্তর ঐক্য গঠন প্রক্রিয়াকেও সামনে এগিয়ে নিতে বেশ তৎপর বিএনপি নেতারা। এমন অবস্থায় রায় নিয়ে কঠোর কোনো কর্মসূচি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চায় না বিএনপি। এ নিয়ে বিএনপি নেতারা রায়ের আগে-পরে দফায় দফায় মিটিং করে নিজেদের করণীয় ঠিক করেছেন। বৈঠকে সূত্র জানায়, সরকার নানাভাবে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার পাঁয়তারা করছে। খালেদা জিয়ার জেল যাওয়ার পর শান্তিপূর্ণ উপায়ে যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে এবারও তাই করতে চায় বিএনপি। এমন অবস্থায় রায় নিয়ে আপাতত কঠোর কোনো কর্মসূচি না দিয়ে কোনোমতে সপ্তাহ পার করার চেষ্টা করছে দলটি। দলটির একজন সিনিয়র নেতা বলেন, সরকার রায় নিয়ে অনেক কিছুই করতে চাইবে। যা ইতোমধ্যে প্রকাশও পাচ্ছে। তবে নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ চলতে থাকায় রায়টি নিয়ে রাজনীতি চলতে পারে বড়জোর তিন থেকে চার দিন। এই কয়দিন বিএনপিও সর্তকভাবেই পার করবে।

এদিকে, রায়ে প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি নেতারা বলছেন, রায় সরকারের ফরমায়েশেই হয়েছে। সরকার নির্বাচনে আগে এ মামলাকে কাজে লাগানোর জন্যই এতে তারেক রহমানকে জড়িয়েছে। তাদের মতে, তারেক রহমানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করতে তদন্ত প্রক্রিয়ায় নজির সৃষ্টি করেছে সরকার। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সঠিক তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করে কোনো মতে একটা রায় নিয়েছে সরকার। যা নজিরবিহীন। ইতোপূর্বে বিএনপির পক্ষ থেকে এ মামলার তদন্ত নিয়ে একাধিক সংবাদ সম্মেলনও করা হয়েছে। বিএনপি মনে করে, দেশের মানুষ রায়ের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেশ ওয়াকিবহাল। তারা বলেন, সরকারের ইচ্ছায় রায় হয়, তা দেখিয়ে গেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা। তাই রায় নিয়ে বাড়িত সুবিধা সরকার নিতে পারবে না।

রায় প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি দলগতভাবে ৭ দিনের কর্মসূচি পালন করছে। কর্মসূচিগুলোর ধরন দেখেও বোঝা যায় বিএনপি রায় পরবর্তী সময়টি পার করতে সাদামাটা কর্মসূচির আশ্রয় নিয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এড়িয়ে যতটা সম্ভব কর্মসূচি পালন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি নেতারা রায়টিকে আইনিভাবে মোকাবিলা ছাড়া তেমন কোনো পথও দেখছেন না। কারণ নির্বাচনের আগে তারেকের মামলা নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা বিএনপির জন্য অতটা সহজ নয়। তাই খালেদার মুক্তি আন্দোলনই বিএনপির জন্য ‘সেইফজোন’। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে দেশের সাধারণ মানুষের সহানুভূতি যেমন পাওয়া যাবে আবার এখানে সফলতা আসতে পারে। তাই বিএনপির নেতারা আপাতত অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দিতে রাজি নন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় শুনেছেন কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বহুল আলোচিত এ হামলা মামলার রায় শোনেন তিনি। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদ-ের খবর পেয়ে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ ছিলেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিএনপি ও হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার মামলার রায়ের মতোই ছেলে তারেক রহমান ও দলীয় নেতাদের মামলার রায়ের ঘটনায় দলকে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই অনুসারে বড় কোনো কর্মসূচি দেয়নি দলটি। রায় শোনার পর দলীয় নেতাকর্মীদের হতাশ না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বলা হয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল