রায়ে অখুশি নয় তবে পুরোপুরি সন্তুষ্টও নয় আওয়ামী লীগ

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:০৪

অনলাইন ডেস্ক

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের ফাঁসি ও খালেদা জিয়াকে বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছে আওয়ামী লীগ।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ দাবি জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১৬৪ ধারায় মুফতি হান্নান বলেছিলেন, তারেক রহমানের অনুমতি নিয়েই তারা হামলা করেছিলেন। আমরা তারেক রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করেছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘২১ আগস্টের ঘটনা ছিল রাষ্ট্রীয় মদদে সরকারি জঙ্গি হামলা। ওই সময় দায়িত্বরত সেনা গেয়েন্দা সংস্থার প্রধানের ভাষ্য থেকে একথা পরিষ্কার খালেদা জিয়া এ হামলা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল রাষ্ট্রীয় পাপ। আমরা খালেদা জিয়ারও বিচার দাবি করছি।’

এ মামলায় উচ্চ আদালতে আপিল করবেন জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা এ রায়ে অখুশি নই তবে পুরোপুরি সন্তুষ্টও নই।  আমরা ন্যায়বিচার চেয়েছি।  আমরা বিচারকে কখনো প্রভাবিত করিনি। আমরা মনে করি এটি ভালো রায়। আদালতকে ধন্যবাদ জানাই, তবে আমরা উচ্চআদালতে আপিল করব।’

আওয়ামী লীগ এ নেতা বলেন, ‘১৪ বছর পর ইতিহাসের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার মামলার রায় দিয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর এমন জিঘাংসামূলক ঘটনা আর ঘটেনি। ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জজ মিয়া নামক নাটক সাজিয়েছে বিএনপি। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা অনেকখন দাঁড়িয়ে কথা বলতে চাইলেও তাকে ফ্লোর দেওয়া হয়নি। বিএনপি নেতারা তখন এ হামলা নিয়ে হাস্যরস করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘২১ আগস্ট সম্পর্কে মির্জা ফখরুল যা বললেন তা দেশের মানুষের কাছে হাস্যকর। কেন আপনারা আলামত নষ্ট করলেন? কেন ধুয়ে মুছে সব পরিষ্কার করে ফেললেন? বিচারপতি জয়নাল আবেদিন তদন্তের নামে কি তামাশা করেছিলেন! তিনি বলেছিলেন এ ঘটনায় পাশ্ববর্তী দেশ জড়িত। তবে জাতির কাছে আজ সত্য প্রকাশিত হয়েছে। সত্য ধামাচাপা দেওয়া যায়না।’

আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এ কে এম এনামুল হক শামীম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, সাংস্কৃতিক  সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, শিল্প বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি, রেমন্ড আরেং প্রমুখ।

এর আগে বুধবার সকালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এ মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিস চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কায়কোবাদসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাকি ১১ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত।

পিডিএসও/রিহাব