চূড়ান্ত বার্তা দিতেই বিএনপির সমাবেশ

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:৫৩ | আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:৫৯

বদরুল আলম মজুমদার

আগামী শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চায় বিএনপি। আগের চেয়ে বড় ধরনের জনসমাবেশ ঘটাতে দলটির সব স্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিতে শুরু করেছেন দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। ওই সমাবেশকে সামনে রেখে বিএনপি আন্দোলনের চূড়ান্ত বার্তা দিতে যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। কিন্তু একই দিন সরকারি দল মাঠে থাকার ঘোষণা দেওয়ায় অনেকটা চিন্তিত বিএনপির হাইকমান্ড। সরকারি দল ও পুলিশের বাধা সামনে রেখে কতটা সমাগম ঘটাতে পারে তা নিয়ে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দলটি। একই দিন প্রধান দুইটি দলের মুখোমুখি সমাবেশ হওয়ায় থাকবে বাড়তি চাপ। দলটির দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, বৃহৎ জনসমাবেশ থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে চায়। এরপর সমাবেশ নয়, সোজা রাজনীতির মাঠে হরতাল অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি নিয়ে হাজির হতে চায়।

প্রথমে বিএনপির এ সমাবেশ ২৭ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হলেও পরে তা দুই দিন পিছিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়। গত সোমবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় জনসভা করা হবে বলে জানান দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এর একদিন পর গতকাল মঙ্গলবার একই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জনসভা দুই দিন পিছিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর করার কথা জানালেন রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জনসভা পেছানোর কোনো কারণ উল্লেখ করেননি। তবে দলীয় একটি সূত্র জানায়, পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারি কার্য দিবসে কোনো বড় সমাবেশ অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয় দলকে। পরে পুলিশের মৌখিক সম্মতিতেই শনিবার সমাবেশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

তবে বিএনপির অন্য একটি সূত্র জানায়, সরকারি দল একই দিন মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। সরকার চাচ্ছে তাদের দলের নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে বিএনপির সমাগমে লাগাম টানতে। সূত্রটি আরো জানায়, গতকাল ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের কথাতেও তা ফুটে উঠেছে। মূলত বিএনপির ব্যাপক জনসমাগম ঠেকাতেই তাদের এই কর্মসূচি।

বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা আগামী ১ অক্টোবর থেকে মাঠে থাকতে চায়। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার রায়ের পর পরই বিএনপি আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে। এ রকম চিন্তা মাথায় রেখেই ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে লোকজন এনে আন্দোলনের চূড়ান্ত বার্তা দিতেই চেষ্টা করছে বিএনপি। এছাড়া বিএনপিপন্থী পেশাজীবীসহ জাতীয় ঐক্যের নেতাদের মঞ্চে আনতে কাজ করছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা। ঐক্যের নেতাদের মঞ্চে আনতে এরই মধ্যে জামায়াতকে প্রকাশ্যে সমাবেশে উপস্থিত থাকতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে জামায়াত যাতে কোনাভাবেই ক্ষুব্ধ না হয় এই বিষয়ে দেখভাল করতে বিএনপির দুইজন নেতাকে জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবারের সমাবেশে জাতীয় ঐক্যের নেতারা অংশ নিতে পারেন কিনা এ বিষয়ে বিএনপির দুইজন নেতার সঙ্গে কথা হলেও তারা সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে তারা জানিয়েছেন নেতাদের বেশ কয়েকজনকে দাওয়াত দেওয়ার বিষয়ে দলে আলোচনা হয়েছে। বি. চৌধুরী ও ড. কামাল অংশ না নিতে পারলেও ঐক্য প্রক্রিয়ার দলগুলোর দ্বিতীয় সারির নেতারা অংশ নিতে পারেন।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ঐক্যের নেতাদের মঞ্চে হাজির করতে হবে এমন সিন্ধান্তের বিষয়ে এখনো দলে আলোচনা হয়নি। এ বিষয়ে ঐক্যের নেতাদের সঙ্গেও কোনো আলোচনা হয়েছে বলে মনে হয় না। তবে দলের পক্ষ থেকে তাদের হাজির করার চেষ্টা থাকতে পারে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য মওদুদ আহমদ গতকাল এক আলোচনায় বলেন, ‘সরকার পতনের আন্দোলনের জন্য ১ অক্টোবর থেকে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটের মাধ্যমে, কোনো ভায়োলেন্সের মাধ্যমে নয়। প্রেসক্লাবের বক্তব্য দিয়ে কাজ হবে না, ১ অক্টোবর থেকে রেডি হয়ে যান।’

পিডিএসও/হেলাল