যে কারণে এমপি হতে চান মাইনূল হোসেন খান নিখিল

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:৪০ | আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:৫০

বদরুল আলম মজুমদার

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের আইকনখ্যাত যুবনেতা মাইনূল হোসেন খান নিখিল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে এমপি নির্বাচন করতে চান। বঙ্গবন্ধুর আর্দশ বুকে ধারণ করে যিনি দীর্ঘ ৩০ বছরের অধিক সময় থেকে রাজনীতিতে সক্রিয়। ছাত্র রাজনীতির পর সর্বপ্রথম মিরপুরের ৯ নং ওর্য়াডের যুগ্ম আহবায়ক পদ দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে যুব রাজনীতি শুরু করলেও ব্যক্তিগত সততা ও দলের প্রতি একনিষ্ঠতার গুনে পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে উত্তরের সভাপতি হিসেবে কাজ করছেন। মাইনুল হোসেন নিজে যেমন বঙ্গবন্ধুর আর্দশ ধারণ করেছেন, ঠিক তেমনি সেই আর্দশের প্রতি অনুপ্রানিত করতে পেরেছেন হাজার হাজার যুবকের মাঝে। অনেকে মনে করেন, সততা ও দলের প্রতি আন্তরিকতার কারণে যুবলীগ উত্তরের অবস্থা অন্য যে কোনও সময়ের থেকেও শক্তিশালী।

ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামী অনুশাসনে বিশ্বাসী এ যুবনেতা নেতা চাঁদপুর জেলার মতলব থানার হাজী মোফাজ্জল হোসেন খান এর ছেলে। তার পিতা ও পরিবারের সকলেই বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পিতা প্রয়াত মোফাজ্জল হোসেন খান চাদপুরের মতলব উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও একটি ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন। আওয়ামী পরিবারের কারণে তিনি ও তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন সময় জেল জুলুমেরও শিকার হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির প্রতি প্রচণ্ড আত্ববিশ্বিাসী এ যুবনেতা জনসেবায় নিজেকে সব সময় জড়িয়ে থাকতে পছন্দ করেন। তার ব্যক্তিগত অফিসে গিয়েও এমন চিত্র দেখা যায়। বর্তমান স্থানীয় এমপি থাকা সত্বেও লোকজন বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা নিতে আসেন তার অফিসে। সদালাপি ও ধৈর্য্য ধরে কথা শোনার কারণে মানুষেরও আগ্রহে থাকছেন সব সময়। 

কেন এমপি হতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে নিখিল প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আসলে এমপি হতে চাই এ অঞ্চলের মানুষের সেবার জন্যই। মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে এমন ব্রত নিয়েই এলাকার সাধারণ মানুষ, স্কুল কলেজের শিক্ষক-ছাত্র থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সমাজিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনেক দিন থেকেই বলছেন। আমি তাদের বলেছি নৌকার প্রার্থী হওয়া জন্য নিজেকে এখনো তৈরি করতে পারিনি। ২০০৮ সালে প্রথম আমি মনোনয়ন চাওয়ার মনস্থির করেছিলাম। কিন্তু নিজের মনে শঙ্কা ছিল মানুষ আমাকে ভোট দিবে তো ? তারপর ২০১৪ সালে মনে করেছি আমি অর্ধেক যোগ্যতা অর্জন করেছি। এবার সেই যোগ্যতার প্রমান দিয়েছেন আমার এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। 

তিনি আরো বলেন, তারাই অন্তত দুই বছর থেকে আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাগাদা দিতে থাকে। এখন আমার নিজের উপলব্ধিও বেড়েছে। আমি এ পর্যন্ত যতটি উঠান বৈঠক করেছি প্রতিটিই ছোট খাটো জনসভায় রূপ নিয়েছে। আমি আল্লাহর দরবারে হাজার শুকরিয়া জানাই যে, এ এলাকার অধিকাংশ মসজিদ মাদ্রাসার ইমাম সাহেবেরা আমার জন্য ব্যক্তিগতবাবে প্রচারসহ দোয়া খায়ের করছেন। এটাই আমার শক্তি। 

রাজনীতির পাশাপাশি ঢাকা-১৫ আসন এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িয়েছেন এ মনোনয়ন প্রত্যাশী। ঢাকা ও চাঁদপুরে একাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুল কলেজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। সামাজিক এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সব সময় থাকছেন সাধারণ মানুষের নজরে। মিরপুরের অন্যতম সমস্যা মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবসময় বলিষ্ট ভুমিকা রাখার কারণে অভিভাবক মহলও বিশেষ সন্তুষ্ট তার প্রতি। অতীতে বিভিন্ন সময় এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে স্থানীয়ভাবেও ব্যাপক গ্রহণযোগ্য তিনি। 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর থানার ১৩ এবং কাফরুল থানার ৪, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা-১৫ আসন। নবম জাতীয় নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ঢাকা-১১ ভেঙ্গে ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৬ নামে তিনটি আসন গঠন করা হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী উইং কমান্ডার (অব.) হামিদুল্লাহ খান আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদারের কাছে পরাজিত হন। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে না আসায় দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে এ আসনটির এমপি হিসেবে আছেন প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা কামাল মজুমদার। এবার এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পরিবর্তনের গুঞ্জন বেশ জোরালো। এমন অবস্থায় যে কয়জন প্রার্থী এ আসন থেকে মনোনয়ন চাচ্ছেন তাদের মাঝে ভালো একটি অবস্থানও তৈরি করতে পেরেছেন নিখিল। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ সব সংগঠনের লোকই আছেন তার সঙ্গে। তার অনুসারীরা মনে করছেন, আগামী নির্বাচনে একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তিনি নৌকার প্রতিক নিয়ে আসতে পারবেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, অপরাপর প্রার্থীর থেকে যে কোনও যোগ্যতাই এবার নিখিল ভাইয়ের কোনও বিকল্প নেই। 

পিডিএসও/রিহাব