ঢাকা মহানগর বিএনপি

‘দক্ষিণের মিছিলের কাছে প্রমাণ হলো উত্তরের দেউলিয়াত্ব’

প্রকাশ | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:২৫ | আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:৩৭

বদরুল আলম মজুমদার

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে মিছিল করেছে মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি। দক্ষিণের মিছিলে দেখা যায় মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের নেতৃত্বে বড় একটি মিছিল পুরাতন ঢাকায় মেইন রোডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সমাগম যেমন বেশি ছিলো আবার মিছিলের স্থায়িত্বও ছিলো বেশ ভালো। তাছাড়া মুল সড়কের উপর মিছিল শেষ করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও দিতে দেখা যায় কাজী আবুল বাশারকে। কিন্তু ঠিক এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে, মহানগর উত্তরের মিছিলের ক্ষেত্রে। মিছিলটির ছবি এবং কয়েকজন দোকানদারের জবানিতে যা শোনা যায় তা রীতিমতো হাস্যকর। 

ঢকা মহানগর উত্তর বিএনপির বির্তকিত কয়েকজন নেতা মিছিলটির নেতৃত্ব দেন। এতে ৫০-৬০ জনের মিছিলে প্রায় ১০-১১জনকে ছবিই তুলতে দেখা যায়। মাত্র ৫ মিনিট স্থায়ী এ মিছিলটি অনেকটা ছবি পোজের জন্য করার অভিযোগ বেশ জোরালো। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যেখানে ভালো উপস্থিতি নিয়ে মুল সড়কে মিছিল করে মোটামুটি সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে, মহানগর উত্তর সেখানে উত্তরার একটি গলিতে মিছিল করে হাস্যকর অবস্থার তৈরি করেছে। নগর সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, এজিএম সামছু ও দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাককে দেখা গেছে। উত্তরার ৭ নং সেক্টরের বিডিআর মার্কেটের পিছনে যে রোডে তারা মিছিলটি করেছে সেটা মূলত গাড়ির ওয়াশ ও মেরামত রোড হিসেবে পরিচিত। সেই রোডে কিছু মেকানিক ও দোকানদার ছাড়া তেমন কোনও লোকজন নেই। উত্তরার ব্যস্ত অনেক রাস্তা থাকতে কেন এমন রোডে ৫০-৬০ জনের মিছিল করতে হলো, এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে আহসান উল্লাহ হাসানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে মিছিলে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে পদ বঞ্চিত উত্তরার প্রবীন একজন নেতা প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, দক্ষিণের মিছিলের কাছে উত্তরের মিছিলটি দেখলে নেতৃত্বের দেউলিয়াত্ব ছাড়া আর কিছুই প্রমাণ করে না।

তিনি আরো বলেন, যাদের নিয়ে মিছিলটি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ব্যানারে করা হয়েছে সেখানে প্রভাবশালী নগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন না। থানা নেতাদের যে কয়েকজনকে দেখা গেছে তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পদায়ন করা হয়েছে। সেখানে উত্তরার অতি পরিচিত বিএনপি নেতাদের কেউই উপস্থিত ছিলেন না। মিছিলের উপস্তিতি নিয়ে তিনি আরো বলেন, যে কয়জন লোক নিয়ে মিছিলটি করা হয়েছে, এমন অনেক মিছিল অধিক সংখ্যক লোক নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী মোস্তফা কামাল এর আগে একাধিকবার করেছে। অথচ তাকে পদ না দিয়ে যাদের পদ দেওয়া হয়েছে তাদের বিএনপির পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন আছে।

নগর উত্তর বিএনপির প্রভাবশালী আরেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, উত্তর বিএনপির মিছিল নিয়ে কিছু বলার দরকার নাই, এর আগেও তারা রূপগঞ্জের ৩০০ফিট রোডে গিয়ে মহানগর উত্তরের ব্যনারে মিছিল করেছে। লজ্জা ওনাদের না লাগলেও আমাদের লাগে। মিছিলে আমাদের কখানো ডাকে না।   

শনিবারের মিছিলটি দেখেছেন এমন এ্কজন চায়ের দোকানদার বলেন, তিনটি গাড়ি থেকে কয়েক জন লোক বের হয়ে একটি ব্যানার ধরতে দেখা যায়। মিছিলে স্লোগান হয়েছে সর্বোচ্ছ ৫-৬ বার। কয়েকজনকে ছবি তুলতে দেখা গেছে। তারপর তড়িঘড়ি করে তাদের চলে যেতে দেখা যায়। মিছিলের পরে কোনও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসছে কি না জানতে চাইলে দোকানী বলেন, পুলিশতো এ রোডে আসে না। মিছিলের দুই ঘণ্টা পরেও কোনও পুলিশের গাড়ি আসতে দেখিনি আজকে। 

পিডিএসও/রিহাব