‘কোথায় লেখা আছে যে এই ধরনের আদালত বসতে পারবে না?’

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:১০ | আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:৩৮

অনলাইন ডেস্ক

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘জেলের মধ্যে বিশেষ আদালত সংবিধানের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন কি কারণে? কোথায় লেখা আছে যে এই ধরনের আদালত বসতে পারবে না?’

বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে নতুন ভবনে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের এক যৌথসভার শুরুতে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কারাগারে মধ্যে কোর্ট বসানো যাবে না এটা তো চালু করেছেন জেনারেল জিয়াউর রহমান, কর্নেল তাহেরকে জেলে কোর্ট বসিয়ে ফাঁসি দিয়েছিলেন। এটা কি বিএনপি ভুলে গেছে? কিভাবে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি হয়েছিল? কোথায় হয়েছিল?’

খালেদা জিয়ার বিষয় ও শারীরিক অসুস্থাতাজনিত কারণে আদালত জেলের মধ্যে বিশেষ আদালত বসাতে পারে বিষয়টি তুলে ধরে কাদের বলেন, ‘বয়স বিবেচনায় তার পক্ষে কোর্টে মুভ করা সব সময় হয়তো সম্ভব না। জিয়া চ্যারিটেবল যে মামলা, সেই মামলাও তো তিনি হাজিরা দিচ্ছিলেন না। এমতাবস্থায় তাকে হাজিরা দেওয়া সুবিধা করে দেয়ার জন্য এই বিশেষ আদালতের ব্যবস্থা।’

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘অসুস্থ হলেও তো মামলা চলবেই। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা ১০ বছর বিলম্বিত করেছে। প্রলম্বিত করেছে। এই মামলা অনেক আগেই স্যাটেলড হয়ে যেত, এখানে সরকারের কোনো দোষ নেই। সরকার চেয়েছিল মামলাটা যত দ্রুত নিষ্পত্তি হোক কিন্তু বিএনপির বহুরূপী আইনজীবী, এত বিজ্ঞ-অভিজ্ঞ আইনজীবীরা, তারা বেগম জিয়া কেসটা ১০ বছর ধরে চালিয়েছে।’

কাদের বলেন, ‘এখন জিয়া চেরিটেবল ট্রাস্টের যে মামলা, এই মামলাও নানা কৌশলে বিঘ্নিত করার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বিচারকার্য কারো জন্য তো থেমে থাকবে না। বেগম জিয়া যদি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে না যান কিন্তু অসুস্থতার কারণে আদালতের মধ্যে যে কোর্ট সেখানে যেতে তো অসুবিধা হবে না?’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘সব সময় তারা এরকম করতে থাকেন, কোনো একটা অজুহাতে জনগণকে বিভ্রান্ত করে এবং তারা এই বিষয়টা নিয়েও একটা ছলনার অপকৌশল নিয়েছে। যেটা দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থাকে এইভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করা এটা যারা বলে তারাই সংবিধান লংঘন করেছে।’

কে আদালতে গেল কে গেল না এটা আদালতের বিষয়, তারা বিচার মানে না, আদালত মানে না, সংবিধান মানে না, এটাই হচ্ছে বিএনপির বৈশিষ্ট্য, এটাই বিএনপির চরিত্র। এটা আদালতের বিষয় আদালতই সেটার জবাব দেবে।

এছাড়াও আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা নেওয়া হবে। সে বিষয়ে করণীয় ঠিক করতেই আজকের এই যৌথসভা বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আহম হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আবদুস সোবহান গোলাপ, মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ।

পিডিএসও/রিহাব