উত্তরায় স্থানীয় প্রার্থীরা একাট্টা

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-১৮ আসন এলাকায় আওয়ামী লীগে অনেক প্রার্থীর আনা গোনা রয়েছে। বর্তমান এমপি সাহারা খাতুনসহ আওয়ামী লীগের অন্য আরো তিনজন নেতা এখান থেকে নির্বাচন করতে চান। মহানগরের এসব নেতারা নিজেদের স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে প্রচারনাও চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার দলের বেশির ভাগ অংশ মনে করে, দলের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এ্যাড. সাহারা খাতুন এখনো এ অঞ্চলের আওয়ামী লীগের একজন যোগ্য প্রার্থী। বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে জনপ্রিয় এ সাংসদ নিজের ইমেজ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এলাকার উন্নয়ন এবং নিজের ব্যক্তিগত ইমেজ দিয়ে সংগঠনকে অতীতের যে কোনও সময়ের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে নিতেও পেরেছেন। তবে তাদের এ দাবির সঙ্গে একমত নয় দলের স্থানীয় প্রার্থীরা।  

এখন পর্যন্ত স্থানীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ভালো অবস্থান নিতে পেরেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ হাবিব হাসান ও দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম তোফাজ্জল হোসেন। তারা মনে করেন, এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে স্বাধীনতার পর থেকেই কাজ করছেন। অনেকেই এখান থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছেন। তাই এবার তারা নিজেদের এলাকার প্রার্থী চান। যারা ইতোমধ্যে এমপি হওয়ার বা মনোনয়ন পাওয়ার মতো যোগ্যতা ও শ্রম দলকে দিয়েছেন। তাই তাদের দাবি এবার স্থানীয়দের মনোনয়ন দিতে হবে। গত শনিবার দক্ষিণখানের ইউপি সাধারণ সম্পাদক পুন মেম্বারের বাসায় নেতৃস্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা একযোগে স্থানীয় প্রার্থীর দাবি জোরালো করেছেন। তারা মনে করছেন এলাকায় যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। তাই দলের প্রধানের কাছে তাদের দাবি, এবার যেন স্থানীয়দের মূল্যায়ন করা হয়। 

জাতীয় নির্বাচনের এখনো আরো চার মাস বাকী এরই মধ্যে স্থানীয় প্রার্থীরা বেশ আট-ঘাট বেধে নেমেছেন প্রচারণায়। সম্প্রতি শোকের মাস আগষ্টকে পুরোদমে কাজে লাগিয়েছেন মনোনয়ন প্রার্থীরা। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ মহানগর উত্তর যুগ্ম সম্পাদক হাবিব হাসান বেশ ভালো রকমের প্রচারণায় আছেন। তিনি স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে যোগ্য অবস্থান নিতে পেরেছেন বলে অনেকেই মনে করছেন। তার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পদদারি একাধিক নেতাও প্রচারণায় নেমেছেন। তবে শুরু থেকেই নির্বাচন করার ব্যাপারে অবিচল সাহারা খাতুন। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে এতটা তোড়জোড় না করলেও কেন্দ্র ভালো অবস্থান ধরে রাখতে চেষ্টা করছেন। এবারও এ আসনে সাহারা খাতুন মনোনয়ন পাবেন বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। 

জানা যায়, বর্তমান সংসদের অনেক এমপি নিজ নির্বাচনী এলাকায় ইমেজ সঙ্কটে পড়েছেন। সারা দেশে ৫০-৬০ জন এমপির জনপ্রিয়তা তলানীতে ঠেকেছে। সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রির্পোটে এমনই তথ্য উঠে আসে। সেই তালিকায় খোদ রাজধানীর কয়েকজন এমপির নাম রয়েছে বলেও দলে গুঞ্জন আছে। কিন্তু রাজধানীর মহিলা সাংসদ এ্যাড. সাহারা খাতুন সুনামের সাথেই আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এমন মত স্থানীয় অনেক নেতার। তাদের মতে, বিএনপির যে কোনও প্রার্থীর সাথে সাহারা খাতুন বিজয়ী হতে পারবেন।

জানা যায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সীমানা পুনর্বিন্যাসের সময় উত্তরা ও এর আশপাশের ৮টি থানার সমন্বয়ে গঠিত হয় ঢাকা-১৮ নির্বাচনী আসনটি। দেশের বিভিন্ন জেলার উচ্চবৃত্ত, উচ্চ মধ্যবৃত্তসহ বিভিন্ন দেশি বিদেশি ব্যবসায়ী ও আমলাদের বসবাস এ এলাকায়। এছাড়াও হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, র‌্যাব ও এপিবিএন’র প্রধান কার্যালয় এবং হজ ক্যাম্পের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে এখানে। অপরদিকে দৃষ্টি নন্দন কুড়িল ফ্লাইওভার দৃশ্যমান হওয়াসহ নির্মাণাধীন রয়েছে ৪৭ কিলোমিটার ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিআরটি, এমআরটিসহ নানান প্রকল্প। নগর সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাস্তাঘাটের প্রয়োজনীয়তাসহ বিভিন্ন নাগরিক চাহিদা। 

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বড় দুই রাজনৈতিক দলেই একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন এ আসনে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্বিন্যাসে ঢাকা-৫ (সাবেক)-এর উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, তুরাগ, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও ভাটারা থানার একাংশের সমন্বয়ে গঠিত হয় ঢাকা-১৮। তখন এ আসনে ভোটের লড়াইয়ে নামেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এডভোকেট সাহারা খাতুন ও বিএনপি’র প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল। এতে বিজয়ী হন এডভোকেট সাহারা খাতুন। এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে প্রথমে স্বরাষ্ট্র এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দশম সংসদেও প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রবীন এ আওয়ামী লীগ নেতা। বয়সের কারণে এবার তার নমিনেশন না পাওয়ার বিষয়ে জোর গুঞ্জন রয়েছে। তবে বলয়ের নেতাকর্মীরা এটা মানতে নারাজ। 

পিডিএসও/রিহাব