জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এরশাদের নানা ছক

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৮, ১৪:২২

বদরুল আলম মজুমদার

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বেশ কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বিএনপি নির্বাচনে এলে কী করবেন আর না এলে কী করবেন—দুই ধরনের চকই কেটে রেখেছেন তিনি।

এরশাদ নিজেও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, বিএনপি না এলে আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবেন তিনি। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের অনিয়ম দুর্নীতির কারণে মানুষ আবার জাতীয় পার্টিকে ভোট দেবে এটা তার বদ্ধমূল ধারণা। তার মতে দুই দলের বাইরে জাতীয় পার্টিই এখন জনগণের আস্থায় আছে।

তবে বিএনপিসহ কিছু দল এবার জোট করে নির্বাচনের আসার যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে তাতে পাল্টে যাচ্ছে জাতীয় পার্টির হিসাব। এখন জাতীয় পার্টি নেতারা আশা দেখছেন মহাজোট গঠনে। কেননা সম্মিলিত বিরোধী দল যত বেশি শক্তি নিয়ে অগ্রসর হবে সরকারের ওপর তত বেশি চাপ সৃষ্টি করতে পারবে জাতীয় পার্টি। এরই মধ্যে এ নিয়ে বেশ তৎপর জাতীয় পার্টির নেতারা। প্রায় শতাধিক আসনে নিজেদের প্রার্থী দাবি করেছে আওয়ামী লীগের কাছে। গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এরশাদ নিজেও এমন দাবির কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, আমাকে ছাড়া আওয়ামী লীগের এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই। আগামী নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। তাই আওয়ামী লীগ যেমন জাতীয় পার্টিকে মহাজোটে রাখতে চায় তেমন আমরাও ২৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার ক্ষমতার অংশীদারিত্ব চাই। তাই আমার জীবনের এই শেষ ভোটযুদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট করতে চাই। এরশাদ আরো বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনী আসন ও ক্ষমতা ভাগাভাগির আলোচনা শুরু হয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগেই তা চূড়ান্ত হতে পারে।

আওয়ামী লীগের কাছে জাতীয় পার্টির জন্য এরশাদ সংসদের ১০০ আসনে মনোনয়ন চাচ্ছেন। ন্যূনতম ৯০টি আসন তাকে দিতে হবে। একইসঙ্গে ক্ষমতায় এলে তাকে সংসদের উপনেতার পদ দিয়ে সম্মানিত করা ও তার পার্টি থেকে ১০ জন নেতাকে মন্ত্রিসভায় রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দূতাবাসে যেসব রাজনৈতিক নিয়োগ হয় তারও অংশীদারিত্ব চান জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান। এরশাদ মনে করেন ক্ষমতা ছাড়ার পর ২৭ বছর ধরে যারা নিবেদিতপ্রাণ হয়ে দল করছেন, এমপি-মন্ত্রী হতে পারছেন না তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে এসব পদে বসানো যায়। তিনি মনে করেন, জোটগতভাবে ক্ষমতায় গেলে শরিক হিসেবে রাজনৈতিক নিয়োগ আওয়ামী লীগ একাই দিতে পারে না প্রধান শরিক হিসেবে জাতীয় পার্টিকেও ভাগ দিতে হবে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি বলেন, জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটের লিয়াজোঁ কমিটির দু’একদিনের মধ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে শরিক দলগুলোকে কত আসন ছেড়ে দেব সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে আমরা আমাদের দল এবং জোটের অবস্থান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়ে দেব। তিনি জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটকে মূল্যায়ন করে আলোচনার ভিত্তিতে ১২৫টি দেবেন বলে আমরা আশাবাদী। তবে এ আসন থেকে কিছু বাড়তেও পারে আবার কিছু কমতেও পারে।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করে রেখেছে। এখন বিএনপি কী করে তার ওপর নির্ভর করেই আমাদের এগোতে হচ্ছে। বিএনপি নির্বাচনে না আসলে আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব। তবে আগামী নির্বাচন কী হবে না হবে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলার সময় আসেনি। দল হিসেবে জাতীয় পার্টি সব হিসাব করেই এগিয়ে যাবে।

পিডিএসও/রিহাব/হেলাল