বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়

রাজনীতির ধোঁয়াশা কাটবে সেপ্টেম্বরে

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০১৮, ০৯:০৭ | আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৮, ১১:০৮

গাজী শাহনেওয়াজ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে ধোঁয়াশা রয়েছে, আসছে সেপ্টেম্বরে তার অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল প্রতিদিনের সংবাদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জোট-মহাজোটের আকার, ভোটের অঙ্কের সমীকরণ, আসন ভাগাভাগি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আগাম সুসংবাদ কারা পাবেন, তাও জানা যাবে আসছে মাসেই। আর অক্টোবরে সব কিছু চূড়ান্ত হবে।

তিনি বলেন, আসন্ন এই নির্বাচনে আসন ভাগাভাগিতে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকবে। বাকি আসনগুলো শরিকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে, যার সংখ্যা ৬৫-৭০টির বেশি নয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির সঙ্গে আগামী নির্বাচন ইস্যুতে কোনো ধরনের সংলাপে বসবে না তার দল। তিনি বলেন, সংলাপে বসার জন্য এখন বিএনপির সময় থাকলেও আওয়ামী লীগের নেই। জাতীয় ঐক্যের জন্য জাতীয় নির্বাচন অগ্রাধিকার পাবে; নির্বাচনের পরেই জাতীয় ঐক্যের জন্য সংলাপ হতে পারে। এ ছাড়া নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ভালো, তাই কমিশন জাতীয় নির্বাচনে এ প্রযুক্তির ব্যবহার করতে চাইলে সরকার তাদের সমর্থন করবে। এ ছাড়া আন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন কিংবা সংসদে প্রতিনিধিত্ব নেই এমন দল থেকে সাময়িক ওই সরকারের কোনো প্রতিনিধি রাখা হবে কী না এসব অনেক বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন তিনি।

আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাদুল কাদের বলেন, সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপে বসব—এ কথা আমি কোনোদিন বলিনি। তবে, নির্বাচনের আগে অনানুষ্ঠানিক সংলাপ ও কথাবার্তা হতে পারে। কারণ বিএনপি সংলাপ চায় না। চাইলে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে গণভবনে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে গণতন্ত্রের ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। বিএনপি নেত্রীর ছেলে মারা গেলে প্রধানমন্ত্রী সান্ত¡না দিতে গেলে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। মৃত ছেলেকে নিয়ে যারা রাজনীতি করে তাদের সঙ্গে সংলাপে বসার মানসিকতা নেই। এখন সংলাপের বিষয়ে তারা আন্তরিক হলেও আমাদের সংলাপ করার মতো সময় নেই। নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনে সংলাপ দরকার নেই। আগে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হোক, পরে জাতীয় ঐক্য নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে পারে। কারণ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এখন পুরোদমে নির্বাচনের কার্যক্রম চলছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। নির্বাচনকালীন দেশে দায়সারা গোছের একটা সরকার হবে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব কিছু পুরো নির্বাচনের দায়িত্ব ন্যস্ত হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। নির্বাচন কমিশন বিএনপির সঙ্গে সংলাপ করবে কি না আমি জানি না। করতে চাইলে সেটা ইসির ব্যাপার। তবে, আগেই ইসি বিএনপির সঙ্গে সংলাপের কাজ শেষ করেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশে নির্বাচন তো হচ্ছেই। নির্বাচন করার মতো স্থিতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। কোথাও সমস্যা হচ্ছে না। বিএনপি কি দেশে এমন কোনো আবশ্যকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি, যার জন্য তাদের সঙ্গে এই মুহূর্তে সংলাপে বসতে হবে। সে ধরনের অস্থিরতাকে আমরা আমন্ত্রণ করে আনব না। কারণ আমরা ক্ষমতায় আছি। গায়ে পড়ে সংঘাতে যাব না। বিএনপি উসকানি দিলেও আমরা যাব না। কোটা ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় অবস্থান নেওয়াদের অনেকে পার্টি অফিসে আক্রমণ চালিয়েছে। পাল্টা জবাব দিতে পারতাম। কিন্তু নেত্রীর নির্দেশ ছিল কোনো প্রকার সংঘাতে জড়ানো যাবে না। মার খেলেও অফিসে বসে থাক। কিছু বলবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্র্থীদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। জোট জনপ্রিয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে যাদের জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী, এলাকায় জনপ্রিয় এবং জন-সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন নেতাদের আগামী সেপ্টেম্বরে অনানুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রধান নিজে ডেকে মনোনয়ন নিশ্চিত করবেন। জোটের বিষয়টি মাথায় রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কারণ বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসবে না এটা তো আমরা বলিনি। দলটি নির্বাচনে আসবে এটা ধরে নিয়েই গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। দুর্বল প্রার্থীরা নৌকার মনোনয়ন পাবেন না। কেননা নির্বাচনে আমাদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। ভালোর জন্য আশাবাদী। অক্টোবরে ৩০০ সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। কারণ আগামী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে অক্টোবর মাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (ক্রুশিয়াল)।

মহাজোটের সঙ্গে এরশাদের জাতীয় পার্টি থাকবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর জয়ের সম্ভাব্যতাকে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে- প্রার্থী জোটের যেকোনো দলেরই হতে পারে। তবে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগিতে আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে হিসাব করে দেখেছে মহাজোটের শরিকরা সর্বোচ্চ ৬৫-৭০টি আসন পেতে পারে। কারণ গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে। সেটা যারা ফুলফিল করতে পারবে তারা পাবেন। এক আসনে চারজন প্রার্থীর মধ্যে অধিকতর গ্রহণযোগ্যকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। সম্ভাব্য জোটের প্রার্থী বিজয়ী না হলে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না, এটা জোটের শরিকদের জানিয়ে দিয়েছি। শুধু জোটের অংশীদার বলেই যেমন-তেমন একজন প্রার্থিতা পাবেন না।

রাজনৈতিক অঙ্গনে চার দলীয় জোট ও মহাজোটের বাইরে জাতীয় ঐক্য নিয়ে যুক্তফ্রন্ট নামে একটি জোট গঠনের যে কাজ চলছে সে প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সবাই আওয়ামী লীগ ও সবাই বিএনপি করবে এটা ঠিক না। এর বাইরে জোট-মহাজোট গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বিভিন্ন দল ও জোট থাকলে রাজনীতিতে সুস্থ প্রতিযোগিতা হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, একটা রাজনৈতিক দলের জীবনে সব সময় জোয়ার থাকে না। জোয়ার-ভাটার সময় নিয়েই রাজনীতি। সব সময় আমরা ক্ষমতায় থাকব এটা আমরা মনে করি না। জনগণ চাইলে আমরা থাকব, জনগণ না চাইলে আমরা বিদায় নেব। আমাদের জোর করে ক্ষমতায় থাকার কোনো অভিলাষ নেই। আমরা জোর করে জিতে ক্ষমতায় আসিনি। আমাদের এই রেকর্ড নেই। আওয়ামী লীগের ইতিহাসে ষড়যন্ত্র করে অথবা জোর-জবর করে ক্ষমতায় আসার কোনো ইচ্ছা নেই। এসব রেকর্ড আছে বিএনপির। তারা বন্দুকের জোরে ও জোর-জবরদস্তি করে ক্ষমতায় এসেছে। আমাদের সে রেকর্ড নেই। আমরা সেভাবে ক্ষমতায় আসিনি, সেভাবে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে কোনো চমক নেই। আওয়ামী লীগের চমক হচ্ছে বিস্ময়কর উন্নয়ন। তবে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিও এমন কোনো রাজনৈতিক চমক দেখাতে পারবে না। অতীত উন্নয়নের একটা দৃষ্টান্তও তারা দেখাতে পারবে না, যা দেখিয়ে জনগণের ভোট ও জনসমর্থন আদায় করতে পারে।

জোট গঠন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা নির্বাচনের অনুষঙ্গ হয়ে গেছে। বিএনপির একটা জোট আছে। ইতোমধ্যে জাপার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। ১৪ দল না বাড়লেও তো জোট বাড়তে পারে। সবাই ১৪দলে যোগ দেবে এমন তো নয়। রাজনীতিতে অনেক সমীকরণ হবে। অনেক বিভক্তি আসবে। আগামী সেপ্টেম্বরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠন প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি এবার এটি ছোট করে দেবেন। এটা সময়মতো হবে। এ মন্ত্রিসভা রুটিন ওয়ার্ক করবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে শুনেছি, গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আকারে এ বারের মন্ত্রিসভা হবে। তবে, সংসদে যাদের প্রতিনিধিত্ব নেই, তারা এই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হবেন কি না তা আমি বলতে পারছি না। সেই সরকারে টেকনোক্রেট অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

কাদের বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে এটাই স্বাভাবিক। নিবন্ধিত সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক, একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হোক—এটা আমরা চাই। তবে সংসদ ভেঙে নাকি বহাল রেখে আগামী নির্বাচন হবে এটা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগার থেকে নেতাকর্মীদের ৪ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনের আগে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতি উত্তপ্ত করার ক্ষমতা বিএনপির নেই। গত ৭-৮ বছর ধরে দলটির পক্ষ থেকে দিনের পর দিন এ ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হচ্ছে। তবে আমি বলব, দিন-ক্ষণ ঘোষণা করে কোনো আন্দোলন হয় না। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ২ মাস বাকি। এ সময়ে বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও নৈরাজ্য করার চেষ্টা করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। এর জন্য আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সহিংস আন্দোলন প্রত্যাখ্যান করেছিল জনগণ।

খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে থেকে নির্বাচন করলে আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উনি (খালেদা) তো জেলে ছিলেন না, ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমিধস জয় হয়েছিল। দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন নিয়ে সংসদ গঠন করেছিল। তাই বলতে চাই, আগামী নির্বাচনের আগে এসব অবান্তর কথা বলে লাভ নেই। লিগ্যাল প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেল থেকে বের হোক খালেদা জিয়া এটাকে স্বাগত জানাবে আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনের আগে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির পক্ষ থেকে গুজব কিংবা অপপ্রচার চালানো হতে পারে, তা মোকাবিলায় আপনাদের প্রস্তুতি কী—জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সব ধরনের অপপ্রচার প্রতিহত করতে আমাদের একটা শক্তিশালী হাউস রয়েছে (সিআইআর)। এটা তদারকি করেন আমাদের তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সঙ্গে আছেন ববি, পলক ও দিপু। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনসহ সব ধরনের আন্দোলনের গুজবের সমুচিত জবাব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে শান্তি বিরাজ করছে।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাস্তা বেশি ভালো হলে ওভারলোড ও ওভার স্পিড একত্রে মিশে যায়। মানুষের অনুভূতি ও মন-মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ যোগাযোগ সেক্টরের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। অতিবর্ষণ হলে সড়কে বিটুমিনের কাজ করা যায় না। এ কারণে এটাকে একেবারে বেহাল সড়ক বলা যায় না। এসব ইস্যুতে বাস্তবের সঙ্গে রাজনীতি যুক্ত হয়ে যায়। তখন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় জায়গায় আক্রমণ করে বিরোধীরা সবকিছু ড্যামেজ করে দিতে চায়। আপাতত দৃষ্টিতে তারা সফল হলেও এক পর্যায়ে সত্য প্রকাশ পায়। এবার ঈদের আগে-পিছে ৪ দিনে দুর্ঘটনা কম হলেও মৃত্যুর হার বেশি।

২০১০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ওইদিন আমরা সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ করতে তৎকালীন বিএনপি সরকারের কাছে মুক্তাঙ্গনে অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা অনুমতি না দেওয়ায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করি। তাদের টার্গেট ছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। এ ঘটনায় এফবিআই, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড তদন্ত করতে চাইলেও তারা সুযোগ দেয়নি। এমনকি জজ মিয়া নাটক সাজায়। রাতের মধ্যে আমালত নষ্ট করে ফেলে। এমনকি বিচারপতি জয়নালের নেতৃত্বে তথাকথিত একটা তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজনও ছিল না। কিন্তু সত্য গোপন থাকে না। এখন রায় দেওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে, বিএনপি সরকারের আমলে এ ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার মাস্টার মাইন্ড বিএনপি। তাদের নেতারা জড়িত। কারণ তারা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আপনাদের কোনো উদ্যোগ আছে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এসব কথা ঢালাও প্রচার চালিয়ে হয় না। সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল