বিএনপি আরো আন্দোলনের চক্রান্তে লিপ্ত : কাদের

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৫০

অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া দেশের সংবিধানের বিধান। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেছেন। এছাড়া তিনি আরো বলেন, বিএনপি আরো আন্দোলন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

আজ শনিবার ঢাকায় জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি আয়োজিত ‘গুজব সন্ত্রাস-অপপ্রচার রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

শুরুতে সরকার উৎখাতে ‘বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র, আগুন-সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও ও গুজব-অপপ্রচার’ নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের উসকানি দিতে অপপ্রচার ও গুজব নিয়ে মতামত দেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলনের সময় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ের পাশে নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার ঘটনাটি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর সেদিনের নির্দেশনার বিষয়টি সবাইকে জানান কাদের।

তিনি বলেন, বারবার অফিস থেকে ফোন করেছিলাম, নেত্রী পার্টি অফিসের গেটে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসছে। ওরা আক্রমণ করবে, আমরা কী করব? নেত্রী বললেন, ‘মার খাও, কিন্তু উত্তেজিত হওয়া চলবে না’। নেত্রী যদি এই ধৈর্য ধরার পরামর্শ না দিতেন, ছাত্রছাত্রীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা যাবে না, পুলিশকে যদি এই নির্দেশনা না দিতেন, তাহলে কি পুলিশ ধৈর্য ও সংযম দেখাতে পারত?

কোটা সংস্কারের দাবি আন্দোলনের সময়ও একই ধরনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘লন্ডন থেকে নির্দেশনা এসেছিল। ভয়ংকর আরো কিছু হতে পারত। কিন্তু সরকার নাইসলি পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করেছে এবং সেটা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা জানি, আরো এ রকম আন্দোলন করার চক্রান্ত আছে। গোপন গোপন বৈঠক হচ্ছে, দেশে হচ্ছে, বিদেশে হচ্ছে।’

এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা যথেষ্ট সতর্ক ও প্রস্তুত আছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের অফিস সক্রিয় থাকে। প্রতিদিন আমরা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করি। কোনো বিষয়ে আমাদের যদি ঘাটতি থাকে, নেত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেই এবং এগিয়ে যাই।’

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য সচিব হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন দলের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। এতে বক্তব্য দেন একাত্তর টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল বাবু, ভিকারুনন্নেসা স্কুলের শিক্ষার্থী জাফরিন আহমেদ রূপন্তী, সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মানরাজ হোসেন শামীম, সিটি কলেজের সহকারী শিক্ষক আহসান হাসীব রাজা, অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস। 

আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি, প্রচার উপকমিটির সদস্য শাহ মোস্তফা আলমগীরও বক্তব্য দেন।

পিডিএসও/তাজ