‘আক্রান্ত হয়েও ছাত্রলীগ এখন আক্রমণকারী'

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ২১:৪২ | আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ২২:১৮

ঢাবি প্রতিনিধি

আক্রান্ত হয়েও আক্রমণকারী হিসেবে ছাত্রলীগের নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ছাত্রলীগকে ‘টেরোরিস্ট অর্গানাইজেশন’ হিসেবে কুখ্যাতি ছড়িয়ে ‘ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেট’ করার চক্রান্ত চলছে। একটা মহল উঠেপড়ে লেগেছে কীভাবে ছাত্রলীগকে অপবাদ দিয়ে, অপপ্রচার করে জনবিচ্ছিন্ন করা যায়, ছাত্র সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়। এই উস্কানিমূলক তৎপরতার ফাঁদে কেউ পা দেবেন না। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, আক্রান্ত হয়েও কারও কারও দৃষ্টিতে, কারও কারও অপপ্রচারে ছাত্রলীগ এখন আক্রমণকারী। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

তিনি বলেন, এই আন্দোলনে ছাত্রলীগের ৭১ জন আহত হয়েছে। ১১ জনের মত এখনও হাসপাতালে। জাপান-বাংলাদেশ হাসপাতালে ৪৬ জনকে একসঙ্গে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে ১৭ জন পরের দিন সকালেও ছিলো। তাহলে যে আমাদের কর্মীরা আহত হলো সেটা দেখলাম না অনেক মিডিয়ায়। উল্টো অপপ্রচার হলো আমরাই আক্রমণকারী।

সাংবাদিকদের উপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকের উপর ছাত্রলীগ আক্রমণ করেছে এমন তথ্য-প্রমাণ পেলে আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ কপ্রে এদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক এবং আইনগত ব্যবস্থা নেব। দয়া করে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কেউ অপপ্রচার করবেন না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কিছু আছে যারা মতার মৌসুমে দলে প্রবেশ করে, মতা গেলে তারা আবার চলে যায়। নবাগত এসব অনুপ্রবেশকারীরা ছাত্রলীগের নামে অপকর্ম করে। গুটি কয়েকজন অপকর্ম করে আর দোষ হয় পুরো দলের। আমরা এর দায় এড়াতে পারি না।

তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, বিএনপি বলছে সরকার পুলিশি নির্যাতন শুরু করেছে। এর বিরুদ্ধে 'নীরব বিস্ফারণ' ঘটবে। কখন ঘটবে? কারা ঘটাবে? বিএনপির নেতারা?  যারা নয় বছরের মধ্যে নয় মিনিটের জন্যেও রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে পারেনি। দুইমাস পরেই তো নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা হবে।  এতোদিন পারলেন না, আর এখন 'নীরব বিপ্লব' ঘটাবেন? আন্দোলনের মরা গাঙে আর জোয়ার আসবেনা।

তিনি বলেন, বিএনপি কে দেখছি-বিদেশিদের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিয়ে নালিশ করছে। এই পার্টি আবারও প্রমাণ করল- বিএনপি মানে বাংলাদেশে ন্যাশনালিস্ট পার্টি নয়, এটা হলো- বাংলাদেশ নালিশ পার্টি।

ছাত্রলীগের নতুন কমিটিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তোমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবে। ‘নেতাগিরি নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি করোনা। যাদের যোগ্যতা আছে নেতৃত্ব দেয়ার, প্রত্যেককে পদ দেয়া হবে। একটু অপেক্ষা করো। আশা করি সেপ্টেম্বর মাসেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হবে।

এসময় বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা উৎস, সাহসের উৎস। বেগম মুজিব সহধর্মিনী ছিলেন বলে শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু হয়েছিলেন- একথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশে বহু ফার্স্ট লেডি দেখেছি, কিন্তু বেগম মুজিবকে আমরা পাদপ্রদীপের আলোয় খুব একটা দেখিনি। তিনি সবসময় ছিলেন পর্দার অন্তরালে।

ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

পিডিএসও/রানা