৩৯ নেতার বিরুদ্ধে মামলা, রাজপথে নামার হুমকি আরিফুলের

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৮, ১৭:৩৬

সিলেট ব্যুরো

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করে বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ বাহিনীর অতি উৎসাহিত কিছু সদস্য বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের হয়রানি করছে। তাদের বাসাবাড়িতে তল্লাশির নামে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাস্থ প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে আরিফ বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে ঢাকায় গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে প্রতিবাদ জানাব। প্রয়োজনে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব।

আরিফুল হক চৌধুরী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পুণ্যভূমি সিলেটে কোনও প্রহসনের নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশন আজ্ঞাবহ হয়ে প্রহসনের নির্বাচন করলে এর প্রভাব আগামী সংসদ নির্বাচনে পড়বে। সিলেটের মানুষ অন্যায় করে না, অন্যায়কে প্রশ্রয়ও দেয় না। সিলেটবাসী শান্তিপ্রিয়। তাই কোনও অন্যায় সিলেটের জনগণ মানবে না। তিনি ফলাফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে, আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল রাজ্জাকসহ সিলেট বিএনপি’র শীর্ষ ৩৯ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
রোববার রাতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদানের অভিযোগ এনে নগরীর শাহপরাণ থানায় এ মামলা দায়ের করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক ফয়েজ আহমেদ।

সোমবার মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন বলেনে, আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে।

মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদির আহমদ, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, সহ-সভাপতি সালেহ আহমদ খসরু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এমরান আহমদসহ সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আসামি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই আরিফের প্রচারণার কাজে নিয়োজিত ২ কর্মীকে গ্রেপ্তারের পর তাদের মুক্তির জন্য মহানগর পুলিশের উপ কমিশনারের (দক্ষিণ) কার্যালয়ের সামনে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বসে পড়েন আরিফুল হক। তার দাবি ছিল, মামলা ও ওয়ারেন্ট ছাড়াই তার দুই কর্মীকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। তবে পুলিশের মতে, তাদের সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর সেদিন বেলা ৪ টার দিকে অবস্থান তুলে নিয়ে আদালতের মাধ্যমে কর্মীদের ছাড়িয়ে আনবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন আরিফ। 

পিডিএসও/রিহাব