নয়াপল্টনে সমাবেশ করল বিএনপি

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৮, ১৭:৪৯

অনলাইন ডেস্ক

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং তার নিঃশর্ত মুক্তিসহ সব রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে দলটি। 

পুলিশের ২৩টি শর্তসাপেক্ষে শুক্রবার দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অনুমতি পায় দলটি। দীর্ঘ আড়াই বছর পর রাজধানীতে সমাবেশ করে বিএনপি।

এদিন সকাল থেকেই দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের আনাগোনা শুরু হয়। তবে পুলিশের শর্তের কারণে নেতাকর্মীরা সমাবেশে আসতে শুরু করেন দুপুরে জুমার নামাজের পর।

দুপুর আড়াইটার দিকে প্রখর রোদের মধ্যেই নেতাকর্মীরা ফকিরাপুল থেকে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই ধারে অবস্থান নেন। তাদের হাতে দেখা যায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ফেস্টুন ও ব্যানার। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতেও শোনা যায় নেতাকর্মীদের।

বিকেল পৌনে তিনটায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপর বানানো অস্থায়ী মঞ্চ থেকে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। সমাবেশ শুরুর পরপরই শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। সমাবেশ ঘিরে নয়াপল্টন সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা কাউন্সিলসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন।

একই দাবিতে ঢাকার বাইরে সারাদেশে মহানগর-জেলা-উপজেলায় একযোগে বিক্ষোভ-সমাবেশ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

সেখানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দাবি করে আসছে বিএনপি। তাই তাকে মুক্তি দিয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি দলটির।

প্রসঙ্গত, আদালতের সাজায় তিনি কারাবন্দি হওয়ার পর বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং নয়াপল্টনে সমাবেশ করার জন্য বেশ কয়েকবার অনুমতি চেয়েও পায়নি। এবার ২৩টি শর্তসাপেক্ষে দলটিকে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচির কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা। রাস্তা ব্যবহার করে বা রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ না করা। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক(দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ) রাখা। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমাবেশ কর্মসূচির ভেতরে-বাইরে সিসি ক্যামেরা ও গেটে আর্চওয়ে বসানো। ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচিস্থলে আসা সব যানবাহনে তল্লাশি। অনুমোদিত স্থানের বাইরে মাইক বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার না করা।

পিডিএসও/রিহাব