‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে সরকার’

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮, ২১:৪০ | আপডেট : ১৩ জুন ২০১৮, ২১:৪৬

অনলাইন ডেস্ক

অসুস্থ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকার সময়ক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার সন্ধ্যায় এক ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

ফখরুল বলেন, দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড হাসপাতালে তার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসা ব্যবস্থা হলে যাবতীয় খরচ দল বহন করবে। পরিবার থেকে বলা হয়েছে তার চিকিৎসার সব ব্যয় পরিবার থেকে বহন করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিলম্ব করার অর্থই হচ্ছে, দেশনেত্রীর জীবন একটা হুমকির সম্মুখীন হওয়া। সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমইউ) চিকিৎসা নিতে খালেদা জিয়ার অনাগ্রহের পর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বক্তব্য নাকচ করে দেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা খুব সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি, যিনি রোগী তার আস্থার ব্যাপার আছে। জেলকোডের কোথাও বলা নেই যে শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা করতে হবে। সেজন্য দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড হাসপাতালে দেশনেত্রীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।  

ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে মুক্ত করে এ দেশের আমরা অবশ্যই একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারব ইনশাল্লাহ। যেখানে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সেই নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে, যে সংসদ আছে তা ভেঙে দিতে হবে  এবং নির্বাচনের সময়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে দেশে বিচারবর্হিভূত হত্যা চলছে উল্লেখ করে তার কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।  

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে নিজের চিকিৎসা ও লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে  মঙ্গলবার দেশে ফেরেন মির্জা ফখরুল। 
বিজয় নগরে হোটেল অরনেটে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক লেবার পার্টির একাংশের আয়োজনে কারাবন্দি অসুস্থ খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ওই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। 

সংগঠনের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে ইফতারে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ, বিএনপির মির্জা আব্বাস ও জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম। 

ইফতারে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, বরকত উল্লাহ বুলু, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, হায়দার আলী, সুজাউদ্দিন, সুকোমল বড়ুয়া, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, আহসান হাবিব লিংকন, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মোহাম্মদ  ইবরাহিম, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জাগপার খোন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী ও খেলাফত মজলিশের মাওলানা শফিউদ্দিন।

লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফরিদ উদ্দিন, সহসভাপতি  মো. ফারুক রহমান. মোসলেম উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম রাজু, মাহবুবুল ইসলাম খালেদ, আমিনুল ইসলাম, এসএম ই্উসুফ আলী, তানভীর হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ইফতারে অংশ নেন।

ইফতার শুরুর আগে কারাগারে অসুস্থ খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পিডিএসও/রিহাব